• সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮, ৭ কার্তিক ১৪২৫
ads
কাঁচি-চাকু শান দিয়ে জীবন চলে যার

ধারহীন পুরনো কাঁচি, চাকু কিংবা দা-বঁটি ধারালো করার মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করাই এদের কাজ

ছবি : বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

কাঁচি-চাকু শান দিয়ে জীবন চলে যার

  • নির্ঝর কান্তি বিশ্বাস ননী, বামনা (বরগুনা)
  • প্রকাশিত ১১ অক্টোবর ২০১৮

ধারহীন পুরনো কাঁচি, চাকু কিংবা দা-বঁটি ধারালো করার মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করাই তার কাজ। স্থানীয় ভাষায়, এই ধার দেওয়াকে বলা হয় ‘শান দেওয়া’। নিজের তৈরি মেশিনে উপকূলীয় হাট-বাজারে ঘুরে ঘুরে শান দেওয়ার কাজ করে গত ৪৫ বছর ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন ষাটোর্ধ্ব রাফিজ মিয়া। এ কাজের আয় দিয়েই চলে তার পাঁচ সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ। রাফিজ মিয়ার গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার মজলিশপুরে। তবে বর্তমানে তিনি বরগুনা ও পিরোজপুরের উপকূলীয় অঞ্চলের হাট-বাজারে শান দেওয়ার মেশিন দিয়ে ধারহীন চাকু, কাঁচি ও দা-বঁটি ধারালো ও ঝকঝকে করে ব্যবহার উপযোগী করার কাজ করছেন।

সম্প্রতি বরগুনার বামনা উপজেলা সদরের সাপ্তাহিক এক হাটের দিন কথা হয় তার সঙ্গে। এ সময় তিনি জানান, দরিদ্র পরিবারের সন্তান হিসেবে স্কুলে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বাড়িতে বসেই সামান্য অক্ষরজ্ঞান নিতে হয়। বাল্যকাল থেকেই জীবিকার তাগিদে পরের ক্ষেতে কামলা খেটে সংসারে আয়-উপার্জন করতে হয়েছে। বয়স যখন ২০ বছর, তখন থেকেই একটি শান দেওয়া মেশিন তৈরি করে কাজে নামেন তিনি। সেই থেকে ৪৫ বছর ধরে এক মেশিনেই অবিরাম চলছে এই কাজ। সেই সঙ্গে ঘুরছে জীবন-জীবিকার চাকা। এ কাজে প্রতিদিন তার গড়ে ২৫০-৩০০ টাকা আয় হয়। যে আয়ে চলে তার পরিবারের ভরণপোষণ। রাফিজ মিয়ার দুই ছেলে, এক মেয়ে। ছেলেরা দেশের বাড়িতে দিনমজুরি করে, আর আদরের মেয়েটি সংসারের কাজে সহায়তা করে তার মাকে।

শান দেওয়া মেশিনটির চাকার প্যাডেলে পা দিয়ে সজোরে ঘোরাতে হয়। এতে মেশিনের ওপরে একটি পাথরের প্লেট সজোরে ঘুরতে থাকে। ঘূর্ণায়মান ওই পাথরের প্লেটের কার্নিশে লোহার চাকু, কাঁচি, দা-বঁটি স্পর্শ করলে ঘর্ষণে ধার ওঠে। এ সময় ঘর্ষণের কারণে আগুনের ফুলকিও বের হয়। ছিটকে আসা আগুনের ফুলকি শরীর ও চোখের জন্য কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়া দুই পায়ে অনর্গল প্যাডেল ঘোরানোর কাজ খুবই পরিশ্রমের। সেই সঙ্গে বার্ধক্যের চাপ তো আছেই। কিন্তু শরীরে না কুলালেও জীবিকার তাগিদে যে তাকে শান দেওয়া মেশিনের প্যাডেল প্রতিনিয়তই ঘোরাতে হচ্ছে।

রাফিজ মিয়া বলেন, শরীরে এ কাম (কাজ) আর কুলায় না। অন্য কোনো কামও জানা নাই। মরার আগ পর্যন্ত তাই শান দেওয়ার কাম কইরাই বাঁচতে চাই। কম কষ্টের কোনো ব্যবসায় যাওয়ার মতো পুঁজিও আমার নাই। তয় (তবে), পুঁজি পাইলে এই কষ্টের কাম আর করতাম না।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads