• মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮

নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকাল তারিনা

তারিনা

ছবি : বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকাল তারিনা

  • গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২১ নভেম্বর ২০১৮

ভালো পাত্র। তাই বয়স না হলেও মেয়েকে বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন মা-বাবা। ঠিকঠাক ছিল সবই। গতকাল মঙ্গলবার শুরু হওয়ার কথা ছিল বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। কিন্তু বেঁকে বসে পাত্রী তারিনা খাতুন। পুলিশের সহায়তা নিয়ে আটকে দেয় নিজের বিয়ে। তার এই কাজের জন্য স্থানীয় পুলিশ তাকে দিয়েছে ‘সময়ের সাহসী কন্যা’ উপাধি।

১৪ বছরের তারিনা নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। সে চাপিলা ইউনিয়নের বাকিবেগপুর গ্রামের মজনু শেখের মেয়ে। দিনমজুর মজনু শেখের পরিবারে আরো চার সদস্য। অভাবের সংসার, নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। তাই ‘ভালো পাত্র’ পেয়ে পার্শ্ববর্তী সিংড়া উপজেলার কলম গ্রামের রাজমিস্ত্রি আবদুল খালেকের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে ঠিক করেন বাবা। মঙ্গলবার ছিল বিয়ের দিন।

তবে নিজের মতের বাইরে গিয়ে বিয়ের এই আয়োজন মানতে পারেনি তারিনা। সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় মহিলা মেম্বার রাইমন বেগমকে সঙ্গে নিয়ে গুরুদাসপুর থানায় গিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানায় সে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয় বিয়ে।

তারিনা জানায়, তার মতামত না নিয়েই তাকে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু সে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে চায়। তার দাবি বিয়ের বয়স না হলেও বাবা-মা তার অজান্তেই বিয়ে ঠিক করেন। তাই বিয়ে বন্ধে মেম্বার রাইমন বেগমকে সঙ্গে নিয়ে গুরুদাসপুর থানার সহায়তা নেয় সে।

মেয়ের বিয়ের প্রসঙ্গে তারিনার মা মাজেদা বেগম বলেন, তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। আর তারিনার বাবা একজন দিনমজুর। তিন মেয়ে নিয়ে পাঁচ সদস্যের অভাবের সংসার তাদের। বড় মেয়ে নূপুর এইচএসসি পাস করে ঢাকার এক গার্মেন্টে চাকরি করে। আর মেজো মেয়ে তারিনা ও ছোট মেয়ে তাহমিনা একসঙ্গে চাপিলা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে। ভালো একটি বিয়ের সম্বন্ধ এসেছিল। তাই রাজি হয়েছিলাম। তবে আমরা আমাদের ভুল বুঝতে পেরেছি।

এদিকে তারিনার পড়ালেখার দায়িত্ব নিয়ে চাপিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম জানান, এখন থেকে তিনিই তারিনার অভিভাবক।

গুরুদাসপুর থানার ওসি মো. সেলিম রেজা বলেন, তারিনাকে ‘সময়ের সাহসী কন্যা’ উপাধি দিয়ে আমরা তাকে সার্বিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।

 

 

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads