• শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ৫ মাঘ ১৪২৪
জীর্ণদশায় দেশের একমাত্র কাঠের মসজিদটি

বাংলাদেশের একমাত্র কাঠের তৈরি ঐতিহ্যবাহী মমিন জামে-মসজিদ

সংগৃহীত ছবি

সারা দেশ

জীর্ণদশায় দেশের একমাত্র কাঠের মসজিদটি

  • এসএম আকাশ (পিরোজপুর) ও জিল্লুর রহমান (মঠবাড়িয়া)
  • প্রকাশিত ১১ জানুয়ারি ২০১৯

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় দেশের একমাত্র কাঠের তৈরি মসজিদটির জীর্ণদশা। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদটির দায়িত্ব নিলেও রক্ষণাবেক্ষণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে দিন দিন নান্দনিকতার শোভা হারাচ্ছে।

উপজেলার নিভৃত পল্লী উদয়তারা বুড়িরচর গ্রামের এই মসজিদটি মমিন জামে মসজিদ নামে পরিচিত। সম্পূর্ণ মসজিদটি কাঠের তৈরি। তাই দেশের একমাত্র কাঠের মসজিদ হিসেবে স্বীকৃত এটি। শত বছরের পুরনো এই মসজিদটি ২০০৩ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা দেয়। কিন্তু মসজিদটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিলেও কার্যকর কোনো সুরক্ষার ছোঁয়া পায়নি। ফলে সংস্কার ও যথাযথ সুরক্ষার অভাবে ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদটির এখন জীর্ণদশা।

জানা গেছে, ফরায়জী আন্দোলনের অন্যতম নেতা মরহুম মৌলভী মমিন উদ্দিন আকনের একান্ত প্রচেষ্টায় ১৯১৩ সালে মঠবাড়িয়ার উদয়তারা বুড়িরচর গ্রামে এ মসজিদটি নির্মিত হয়। দিল্লির ২২ জন কাঠমিস্ত্রি কোনো লোহার পেরেক ব্যবহার ছাড়াই সম্পূর্ণ কাঠ দিয়ে মসজিদটি নির্মাণ করেন। উদ্যোক্তা মৌলভী মমিন উদ্দিন আকনের নামের সঙ্গে মিল রেখে পরে মমিন মসজিদ নামে পরিচিতি লাভ করে। মসজিদটি বিশ্বের অন্যতম মসজিদগুলোর মধ্যে ২৩তম স্থান দখল করে আছে। ইউনিসেফের বিশ্বের অন্যতম মসজিদ নিয়ে প্রকাশিত ৪০০ পৃষ্ঠার একটি বইয়ে এ কাঠ মসজিদটির সচিত্র বর্ণনা রয়েছে। এটি দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র কাঠের তৈরি শিল্পসমৃদ্ধ দৃষ্টিনন্দন মুসলিম স্থাপত্যকলার একটি নিদর্শন। সম্পূর্ণ কাঠের নির্মিত কারুকার্য ও ক্যালিগ্রাফি খচিত এই মসজিদটিতে কোনো ধরনের লোহা বা তারকাঁটা ব্যবহার করা হয়নি।

বাংলাদেশের সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত মসজিদের মধ্যে যেগুলো বেশি গুরুত্ব বহন করে সেইসব মসজিদের ছবি জাতীয় জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে। মঠবাড়িয়ার মমিন মসজিদের কয়েকটি আলোকচিত্র (বর্ণনাসহ) জাতীয় জাদুঘরেও সংরক্ষিত আছে।

স্থানীয়রা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই মসজিদটির মেঝেতে পানি পড়ে। এতে মেঝেতে লবণাক্ততা দেখা দেয়। ফলে ফ্লোরম্যাট, কার্পেট, পাটি ও জায়নামাজ বিছানো যায় না। মসজিদের টিনের ছাউনিতে মরিচা ধরে নাজুক অবস্থা। টিনের কার্নিশ ছোট, যে কারণে মসজিদের মূল ভবনে রোদ-বৃষ্টিতে সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশগত কারণে ফ্লোরের উচ্চতা কমে গেছে। বর্তমানে মাটি থেকে মসজিদের ভিত্তি মাত্র দেড় ফুট উঁচু।

মুসল্লিরা জানান, মসজিদটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মসজিদের বারান্দা বাড়ানো হয়েছে। সেখানে প্রতিদিন দুই পর্বে শতাধিক ছাত্রছাত্রী নিয়মিত কুরআন শিক্ষা গ্রহণ করে। তবে সম্প্রসারিত বারান্দা দেওয়ার কারণে মসজিদের নান্দনিক শোভা নষ্ট হয়ে গেছে।

মসজিদটি নির্মাণের উদ্যোক্তা মৌলভী মমিন উদ্দিন আকনের নাতি আবুল কালাম আজাদ বর্তমানে মসজিদটি দেখভাল করছেন। তিনি জানান, সিডরপরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদটি ৭ জন কাঠমিস্ত্রি সংস্কার করেন। এ সময় মসজিদে নিম্নমানের কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে, যা পুরনো মসজিদের কারুকার্যের সঙ্গে মিল নেই। সংস্কারের কাঠ ঘুণে ধরেছে। মসজিদটি সম্পূর্ণ কাঠের তৈরি সেখানে সংস্কারের নামে লোহার পেরেক ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি চালার টিনের ওপর খোদাই করা আল্লাহু লেখা কাঠের ফলকটিও নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ধানিসাফা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হারুন তালুকদার জানান, মমিন মসজিদটি আমাদের জাতীয় সম্পদ। এটি সুরক্ষার জন্য সরকারের জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। সেই সঙ্গে এটি সুরক্ষায় দায়িত্বশীল লোকের প্রয়োজন।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads