• শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
‘ভোটের সম্পর্ক নেই সুবর্ণচরের ধর্ষণে’

‘ভোটের সম্পর্ক নেই সুবর্ণচরের ধর্ষণে’

সারা দেশ

‘ভোটের সম্পর্ক নেই সুবর্ণচরের ধর্ষণে’

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৪ জানুয়ারি ২০১৯

নোয়াখালীর সুবর্ণচরের মধ্য ব্যাগ্যা গ্রামে ধর্ষণের শিকার নারীকে গুরুতর আঘাত করা এবং তাকে ধর্ষণের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে মারধর ও ধর্ষণের ঘটনার কোনো সম্পর্ক তদন্তকালে খুঁজে পায়নি তদন্ত কমিটি। বরং ওই নারীর স্বামীর দায়ের করা এজাহার অনুযায়ী, পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, কমিশনের তদন্ত কমিটি ধর্ষণ ও গুরুতর আঘাতের সঙ্গে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক আছে বলে প্রমাণ পায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ওই নারী যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, তার সত্যতা মিলেছে। এ ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। কমিশনের পক্ষ থেকে যথাযথ তদন্ত করে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত থাকুক।

তবে ধর্ষণের শিকার ওই নারী ঘটনার পর থেকেই বলে আসছেন, ভোটের দিন ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন আসামিরা। ভোটের দিন রাতেই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। আর ১ জানুয়ারি ওই নারীর স্বামী বলেছিলেন, গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে পুলিশ তাকে মামলা করার জন্য হাসপাতাল থেকে গাড়িতে করে থানায় নিয়ে যায়। তিনি সেখানে গিয়ে ঘটনার বর্ণনা দেন। পুলিশ তার বর্ণনা অনুযায়ী এজাহার লিখে আসামিদের নাম ঠিক আছে কি না জিজ্ঞেস করলে তিনি তাতে সম্মতি দেন। পুলিশ তাকে পুরো এজাহার পড়ে শোনায়নি। তিনিও পড়ালেখা না জানায় এজাহার পড়ে দেখতে পারেননি।

ধর্ষণের শিকার ওই নারী গণমাধ্যমকর্মীদের বলেছিলেন, তাকে নৌকায় ভোট দিতে বলা হলে তিনি ধানের শীষে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছিলেন। তিনি ধানের শীষেই ভোট দেন। তখন একজন বলেন, তোর কপালে শনি আছে। তারপর রাতেই তাকে মারধর ও গণধর্ষণ করে। তিনি গতকাল বলেন, আগে থেকে শত্রুতা থাকলে আসামিরা তো আগেই ক্ষতি করত।

মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার এজাহারে ওই নারীর ধানের শীষের নেতা-কর্মী-সমর্থক হওয়া, তার ধানের শীষে ভোট দেওয়া, আসামিরা নৌকা প্রতীকের নেতা-কর্মী-সমর্থক ও পোলিং এজেন্ট হওয়া, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী বিরোধের জের ধরে মারধর বা ধর্ষণের শিকার হওয়া, তা উল্লেখ নেই। বরং এজাহারে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে আসামিরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মারধর ও ধর্ষণ করে। এ ছাড়া ওই নারী তদন্ত কমিটির সামনে দেওয়া জবানবন্দির কোথাও বলেননি তিনি ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন। তার স্বামীও এসব কথা বলেননি। স্বামী-স্ত্রীর জবানবন্দি থেকেই প্রতিবেদনের উপসংহার হিসেবে বলা হয়েছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়া বা ভোট দেওয়ার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বা আসামিরা আওয়ামী লীগের কর্মী হওয়া বা আওয়ামী লীগের কোনো কর্মীর মাধ্যমে ওই নারীকে মারপিট ও ধর্ষণের শিকার হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) একটি প্রতিনিধিদল পাঠায় সুবর্ণচরে। এ দল ফিরে এসে লিখিত প্রতিবেদন দেয়নি। তবে আসকের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা বলেন, আমাদের প্রতিনিধিদলকে ধর্ষণের শিকার নারী পূর্ব শত্রুতার জেরের কথা যেমন বলেছেন, তেমনি ভোটের দিনের ঘটনাও বলেছেন।

গত ১ জানুয়ারি মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে কমিশনের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচন সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে সুবর্ণচরের ঘটনার বিষয়ে কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক তাৎক্ষণিকভাবে কমিশনের পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত, জেলা ও দায়রা জজ) এর নেতৃত্বে ৩ সদস্যবিশিষ্ট তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করেন। এই দল পরের দিনই ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারী, নারীর স্বামী, থানার ওসি, নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক, পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর কমিটি কমিশনের চেয়ারম্যানকে প্রতিবেদনটি জমা দেয়। এই প্রতিবেদনের কপি কমিশনের ওয়েবসাইটে আছে।

কমিশনের প্রতিবেদনে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিমের জবানবন্দি, ইনজুরি সার্টিফিকেট, এক্স-রে প্রতিবেদন, থানার ওসিসহ সবার বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে। সব বক্তব্য বিশ্লেষণ করে কমিশনের তদন্ত কমিটি যে মতামত দিয়েছে তা হলো, ওই নারীকে গুরুতর জখম এবং ধর্ষণ করা হয়েছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদনের কপি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads