• শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
আম রপ্তানি নিয়ে শঙ্কায় চাষিরা

ছবি : সংগৃহীত

সারা দেশ

আম রপ্তানি নিয়ে শঙ্কায় চাষিরা

  • সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৬ মে ২০১৯

আম রপ্তানির স্বপ্ন বুকে নিয়ে চলতি মৌসুমের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন পাঁচ শতাধিক চাষি। মূলত রপ্তানির লক্ষ্যেই নিরাপদ ও বালাইমুক্ত আম উৎপাদনের লক্ষ্যে গত মৌসুমের পর থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিরা। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। 

চলতি মৌসুমে এখনো বায়ারদের (বাইরের আম ক্রেতা) দেখা মেলেনি। কৃষি বিভাগ কিংবা আম রপ্তানির মধ্যস্থতাকারী বেসরকারি সংস্থাও এ বিষয়ে এখনো কোনো কিছু নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে বিগত চার বছর ধরে আম রপ্তানির এ ধারায় ছেদ পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আমচাষিরা। 

গত চার বছর আম রপ্তানির ধারা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আবহাওয়ার কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ছাড়াও সাতক্ষীরা থেকে আম রপ্তানি শুরু হয়। অন্যান্য জেলার তুলনায় সাতক্ষীরার আম অন্তত ১৫ দিন আগে পাকে। খেতেও সুস্বাদু । শুধু আগে পাকার এ সুযোগ নিয়েই সাতক্ষীরা থেকে আম রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি হয়। কিন্তু চলতি মৌসুমে সরকার হিমসাগর আম ভাঙা শুরুর সময় ২২ মে বেঁধে দেওয়ায় এখনো কোনো বায়ার সাতক্ষীরার আম নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি।

ফলে দেশের বাইরে আম রপ্তানির জন্য যারা বাগান প্রস্তুত করেছিল, তারা এখন চরম হতাশায় দিন অতিবাহিত করছেন। কেউ কেউ লোকসানের ভয়ে কম দামে দেশীয় বাজারে আম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুরের আম ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, স্যারেরা বলছেন- এখনো নাকি বিদেশ থেকে ক্রেতারা আসেনি। তারা নাকি কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। এদিকে আমাদের তো আম বাজারে তোলার সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। এত কষ্ট করে আম বাগান করে এখন এরকম অবস্থার সম্মুখীন হতে হবে ধারণা করিনি। 

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, ২০১৭ সালে ৩১.৮৩ টন এবং ২০১৮ সালে ২৭ টন নিরাপদ ও বালাইমুক্ত আম ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। গত বছরও ইসলাম এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড, এনআর ইন্টারন্যাশনাল, এনএইচবি করপোরেশনসহ ১৪টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ফ্রান্স, ইতালি, ব্রিটেন, স্পেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আম রপ্তানি করে। কিন্তু চলতি মৌসুমে এখনো তাদের দেখা পাওয়া যায়নি।

আম রপ্তানির পরিমাণ বাড়াতে সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া ও উত্তরণ সফল প্রকল্পের আওতায় জেলার ৫০০ কৃষককে প্রশিক্ষণ দেয়। এসব কৃষক নিজস্ব ও বর্গা নেওয়া জমিতে নিরাপদ ও বালাইমুক্ত আম উৎপাদন করছেন। কলারোয়ার আমচাষি ডব্লিউ বলেন, এ বছর আমের ফলন ভালো হয়েছে। মাঝে ঝড়-বৃষ্টিতে কিছু ক্ষতি হলেও তা পুষিয়ে নেওয়া যেত বিদেশে আম রপ্তানি করে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত দেশের বাইরে আম পাঠানোর কোনো সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি না। সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার এসসিও মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২০১৫ সাল থেকে কৃষকদের সঙ্গে থেকে আম রপ্তানিতে সহায়তা করে যাচ্ছি আমরা। এ বছর যাতে আরো বেশি বিষমুক্ত আম রপ্তানি হয় সেজন্য বেশি সংখ্যক কৃষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। কিন্তু এক অজানা কারণে এখন পর্যন্ত আম দেশের বাইরে পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক অরবিন্দ বিশ্বাস বলেন, রপ্তানির বিষয়ে আমি তেমন কিছু জানি না। আমি বাইরে আছি। খোঁজখবর নিয়ে পরে জানাব।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads