• বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯, ৬ আষাঢ় ১৪২৫
ads
দাদনের দায়ে জেলেকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন

বরগুনার পাথরঘাটায় দাদনের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় জেলে জসিমকে মধ্যযুগীয় কায়দায় শিকলে বেঁধে নির্যাতন করা হয়

ছবি : সংগৃহীত

সারা দেশ

দাদনের দায়ে জেলেকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন

  • বরগুনা (সদর) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১১ জুন ২০১৯

বরগুনার পাথরঘাটায় দাদনের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ট্রলার মাঝি জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে জসিম নামে এক জেলেকে শিকলে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। জেলে জসিম বলেন, চার মাস আগে পাথরঘাটার নজরুলের মালিকানাধীন ট্রলারের জেলে হিসেবে সাগরে মাছ ধরতে ৮ হাজার টাকা দাদন নিয়েছি। মৌসুমের শুরুতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ট্রলারের মাঝি জাকির সাগরে যেতে তাগিদ দেন। কিন্তু এতে আমি রাজি হইনি। পরে রোববার সকালে বাজারে গেলে ট্রলারের মাঝি জাকির হোসেনের সঙ্গে আমার দেখা হয়। এ সময় জাকির আমাকে তার ট্রলারের কাছে নিয়ে যান। জাকির টাকা ফেরত চাইলে আমি ১৫ দিন সময় চাই। কিন্তু সময় না দিয়ে আমাকে মারধর করে অন্যান্য জেলেদের সহায়তায় শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে।

তিনি আরো বলেন, গত রোববার সকালে উপজেলার জেলেপল্লী হাজিরখাল এলাকায় সকাল ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলে জসিমকে শিকলে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। আহত জসিম ওই এলাকার বাসিন্দা। পরে খবর পেয়ে ট্রলার মালিকের ছোট ভাই আল-আমিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমাকে মুক্ত করে চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠান।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মাঝি জাকির হোসেন বলেন, জসিম আরো কয়েকটি ট্রলারের দাদন নিয়েছে। আমাদের টাকা ফেরত চাইলে তা ফেরত না দিয়ে গা ঢাকা দিয়ে থাকে। দীর্ঘদিন পর তার দেখা পেলে তাকে ট্রলারের স্টাফদের কাছে রেখে আমি বাড়িতে যাই। পরে কে বা কারা জসিমকে শিকলে বেঁধেছে আমি জানি না।

এদিকে এ ঘটনায় ট্রলার মালিক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মৌসুমে মাঝির দায়িত্বেই ট্রলার মাছ শিকারে যায়। জেলে জোগাড় ও দাদন দেওয়াসহ জেলেদের সব দায়িত্ব থাকে মাঝির ওপর। জসিমকে শিকলে বেঁধে রাখার ঘটনা শুনে তাৎক্ষণিক আমার ছোট ভাইকে পাঠিয়ে জসিমকে মুক্ত করে চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়েছি। মাঝি জাকির যে ঘটনা ঘটিয়েছে জেলে সমিতির মাধ্যমে এর বিচার হবে।

বাংলাদেশ মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, ৬৫ দিনের মৎস্য অবরোধের কারণে উপকূলীয় হাজার হাজার জেলে বেকার হয়ে পড়েছে। দাদনের টাকা নিয়ে পাথরঘাটায় যে ঘটনা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।

বরগুনা জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক দুলাল মাঝি বলেন, জেলে সমিতিতে ভুক্তভোগী জেলে অভিযোগ করলে তদন্ত করে মাঝির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হানিফ সিকদার বলেন, এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads