• রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫
ads
১০ বছর পর পরিবার পেলেন কামাল

ছবি : বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

১০ বছর পর পরিবার পেলেন কামাল

  • দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১১ জুন ২০১৯

মাথায় জটলা চুল, গায়ে মোটা দুটি কাঁথা জড়ানো আর পরনে ছেড়া একটি লুঙ্গি। এ রকম মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির সঙ্গে বেশ পরিচিত নেত্রকোনার দুর্গাপুরের বাসিন্দারা। নাম কী, কোথায় থাকেন বা কোথা থেকে দুর্গাপুর এসেছেন-তার কোনো কিছুই জানে না কেউ। অনেকের কাছেই তিনি ‘মামা’ নামে পরিচিত। প্রায় সময় পৌরশহরের কালীবাড়ি মোড়, নাজিরপুর মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষের কাছ থেকে ‘এই মামা ১০টা টাকা দিয়ে যান’ বলে টাকা নিতেও দেখা যায় তাকে। রাত হলেই উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফারাংপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেঝেতে থাকেন তিনি। এই এলাকার মানুষরাও যেন তার কাছের মানুষ হয়ে গেছে। সকাল বা রাতে সব সময় তাকে খাবার খেতে দেয় তারা।

গত শনিবার দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকার জাহিদ হাসান নামের এক যুবক তাকে দেখে গ্রামে হারিয়ে যাওয়া এক ব্যক্তির সঙ্গে মিল পান। ছবি তুলে ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠালে গতকাল সোমবার দুর্গাপুর এসে হাতের কাটা আঙুল দেখে তার নাম কামাল মিয়া (৩৮) বলে শনাক্ত করেন তার ভাই ডা. মাহবুব আলম।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার সাংগুড় নানদিয়া গ্রামের মৃত শামসুর ইসলাম ফকিরের ছেলে কামাল মিয়া। ২০০৯ সালে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে যাননি কামাল। ৪ ভাই, ১ বোন আর মাকে নিয়ে তার পরিবার। পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান কামাল।  ছোট থেকে পড়াশোনায় অনেক ভালো থাকলেও বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবার এলোমেলো হয়ে যায়। তখনই পাড়ার বাজে মানুষদের সঙ্গে মিশে গাঁজা খাওয়া শুরু করেন কামাল। এমনকি বিভিন্ন মাজারে ঘুরতে শুরু করেন। ক্রমশ হারিয়ে ফেলতে শুরু করেন মানসিক ভারসাম্য। তাই বিয়েও করা হয়নি তার। এই মাঝেই একদিন বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে যাননি কামাল। বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো খবর পাননি পরিবারের সদস্যরা।

এর মাঝে হঠাৎ করে গত শনিবার পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, হারিয়ে যাওয়া কামাল এখনো বেঁচে আছেন। পাগল হয়ে ঘুরছেন দুর্গাপুরের অলিগলি। এই শুনে আবারো আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছেন ছেলেহারা মা রাবেয়া খাতুন।

গতকাল দুপুর থেকে দুর্গাপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তেরি বাজার ঘাটে দেখা পাওয়া যায় কামালের। দেখেই ছোট ভাইকে চিনতে পারেন তিনি। স্থানীয় পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাদল মিয়ার সহযোগিতায় পাগল ভাইকে দুর্গাপুর থানায় নিয়ে যান মাহবুব। থানায় গিয়ে হারিয়ে যাওয়া ভাইয়ের সব তথ্য দিয়ে পরিপূর্ণভাবে কামালের পরিচয় নিশ্চিত করেন পরিবারের সদস্যরা।

মাহবুব আলম জানান, প্রায় ১০ বছর আগে বাড়ি থেকে হারিয়ে যায় আমার ভাই। আমরা বিভিন্ন স্থানে তার খোঁজ করেও তার সন্ধান পাইনি। সর্বশেষে আমরা আমাদের ভাইকে খুঁজে পেয়ে অনেক খুশি। তার মানসিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার জন্য সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথাও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে দুর্গাপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, পরিবারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের শ্রীপুর থানা, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে প্রমাণ হয়েছে কামাল তাদের পরিবারের সদস্য। আর তাদের দেওয়া আবেদনের পরিপেক্ষিতে পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে কামালকে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads