• শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
খালার বাড়ী বেড়াতে এসে লাশ হয়ে ফিরল তাসমিন

খালাত বোনের বাড়ীতে এসে লাশ হওয়া কিশোরী তাসমিনার কবর

ছবি : বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

খালার বাড়ী বেড়াতে এসে লাশ হয়ে ফিরল তাসমিন

  • পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

তাজমিন ওরফে তাজনীন এক কিশোরীর নাম। অন্য মেয়েদের মতো তার স্বপ্ন ছিল বিয়ের পর স্বামীকে নিয়ে সুখের নীড় গড়ার। সেটি তার কপালে সয়নি।

গত শনিবার তাসমিনকে রহস্যজনকভাবে প্রাণ হারাতে হয়েছে। তাজমিন(১৪) দরিদ্র পরিবারের গার্মেন্টস কর্মী নবাবগঞ্জ থানার কৃষ্ণপুর গ্রামের তাজেলের প্রথম সন্তান। গত শনিবার তাজমিন এর মৃত্যু নিয়ে গুঞ্জনের অনুসন্ধান করতে গেলে বেড়িয়ে আসে লোমহর্ষক কাহিনী।

গত রবিবার সকালে পাশ্ববর্তী দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জের বিনোদপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে তাজমিনের বাবর বাড়ীতে মরাদেহ রেখে যেতে ধরলে গ্রামবাসী তাদের আটক করলে মৃত্যুর রহস্য বেরিয়ে আসতে শুরু করে। দুই জেলার ভিন্ন ৩ থানার তিন এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়; তাজেল স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ঢাকার সাভারে গার্মেন্টস এ কাজ করে ভালই দিন যাপন করছিল। বড় মেয়ে তাজমিন এর বয়স এখন ১৪-১৫ বছর হবে। এ বাড়ন্ত সময়ে প্রেমে জড়িয়ে পড়ে খালত ভাই কলেজ পড়ূয়া মনিরুজ্জামানের সাথে। মিঠাপুকুর থানার নিধিরামপুরে খালু ভোলা মিয়ার বাড়ী। মনিরুজ্জামানের সাথে তাজমিনের বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে নিধিরামপুরের অনেকেই তা দাবী করেন।

দীর্ঘ তিনমাস যাবৎ তাজমিন খালা খালুর বাড়ী মিঠাপুকুরের নিধিরামপুরে থাকছে। দরিদ্র বাবা তাজেল মেয়ের খোরাকী বাবদ কিছু টাকা পয়সাও দিত ভোলা মিয়ার পরিবারকে। কিশোরী তাজমিনের উপর খারাপ নজর পড়ে খালাত বোনের স্বামী ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী পীরগঞ্জের টুকুরিয়া ইউনিয়নের বিছনা গ্রামের মঞ্জুরুলের। গত শনিবার খালা মিনারা বেগম বিছনা গ্রামে জামাই মঞ্জুরুলের বাড়ী নিয়ে আসেন তাজমিনকে। বিছানাগ্রামে নিরিবিলি পরিবেশে বাড়ীতে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বসবাস করে মাদক সম্রাট মঞ্জুরুল।

বিছানা গ্রামবাসী জানান, মঞ্জুরুলের খালাত শালী তাজমিন শনিবার রাতে আত্মহত্যা করেছে এমন কথা শোনেন এবং তার মরাদেহ প্রথমে মিঠাপুকুর থানার নিধিরামপুরে এবং পরে ভোর রাতে কৃষ্ণপুরে নিয়ে যায়।

মঞ্জুরুলের স্ত্রী শামীমা বলেন, আমার বাবার বাড়ী মিঠাপুকুরের নিধিরামপুরে তাজমিন গলার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সাথে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করে। নিধিরামপুরের গ্রামবাসী বলেন ভোলার স্ত্রী মিনারা বেগম তার ভাগনি তাজমিনকে নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় মেয়ের বাড়ী বিছানায় যায় রবিবার ভোর রাতে এ দিক দিয়ে কাঁচদহ ব্রীজ পার করে মরদেহ কৃষ্ণপুর গ্রামে বাবার বাড়ীতে নিয়ে যায়।

কৃষ্ণপুর গ্রামবাসী জানায়, রবিবার ভোর রাতে তাজমিনের মরাদেহ পিতা মাতা ছাড়া রেখে চলে যেতে ধরলে গ্রামবাসী তাদের আটকে রাখে। মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে গার্মেন্টস কর্মী তাজেল রাতেই ঢাকা থেকে রওয়ানা হয়ে সকালে বাড়ীতে আসে। সোমবার দুপুরে তাজেলের সাথে কথা হলে সে জানায়, “আমার মেয়ে তার খালার বাড়ীতে আত্মহত্যার সংবাদ পেয়ে এসেছি গতকাল রোববার মেয়ের দাফন করেছি তবে মেয়ের গলায় কোন দাগ ছিল না। এ ব্যাপারে মেয়ের খালু ভোলা মিয়া এবং দুলাভাই মঞ্জুরুল পুলিশ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ম্যানেজ করে পোষ্টমর্টেম ছাড়াই দাফন করে।

তাজমিনের মৃত্যু বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নবাবগঞ্জের বিনোদপুর ইউপির চেয়ারম্যান মনোয়ারুল ইসলাম জানান-উভয় পক্ষের কোন আপত্তি না থাকায় লাশ দাফন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান এ বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার সাথে কথা বলেছিলাম। এ ব্যাপারে নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জানান ঘটনাটি শুনেছি কৃষ্ণপুর গ্রামের তাজেলের মেয়ে তাজমিন পীরগঞ্জ থানায় আত্মহত্যা করেছে। ময়না তদন্ত করলে ওই থানায় করবে আমার থানা এলাকায় মরদেহ দাফন হয়েছে।

পীরগঞ্জের টুকুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মন্ডল বলেন- তাজমিনের মৃত্যুর ব্যাপাওে পরিবার থেকে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। তবে নবাবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমাকে মোবাইলে আমাকে জানান, যে তার এলাকার মেয়ে তাজমিন আমার ইউনিয়নে আত্মহত্যা করেছে।

এ ব্যাপারে পীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সরেস চন্দ্রকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads