• বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬
ads
দৌলতদিয়ায় ভাঙনের তীব্রতা কমেনি

পদ্মা নদীর মূল স্রোত তীব্র গতিতে আঘাত হানছে দৌলতদিয়ার ফেরিঘাটগুলোত। এতে করে ভাঙন প্রতিরোধ করা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তবুও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। মঙ্গলবার দুপুরে তোলা ছবি

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

ঘাট টিকিয়ে রাখা নিয়ে ডিসি’র শঙ্কা

দৌলতদিয়ায় ভাঙনের তীব্রতা কমেনি

  • গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ০৮ অক্টোবর ২০১৯

গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নে পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙন এখনো অব্যাহত আছে। ভাঙন থেকে অবশিষ্ট ৪টি ফেরিঘাটকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরী ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে রক্ষার চেষ্টা করলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম।

স্থানীয়রা জানান, ফেরি ঘাটের উজানে দৌলতদিয়া ইউনিয়নে নতুন পাড়া, হাতেম মন্ডল পাড়া, লালু মন্ডল পাড়া, ১নং বেপারী পাড়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের আজিজ সরদার পাড়া, কাওয়ালজানি ও মুন্সি বাজার এলাকাসহ বিস্তৃর্ণ অঞ্চল নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় পদ্মা নদীর মূল স্রোত আঘাত হানছে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাট এলাকায়। এতোদিন ওই গ্রামগুলো দৌলতদিয়া ঘাটগুলোকে প্রতিরক্ষার কাজ করে আসছিল। পদ্মার তীব্র স্রোত আঘাত করায় ঘাট এলাকার সিদ্দিক কাজীর পাড়া ও সাত্তার মেম্বর পাড়ার অন্তত ২শ পরিবারের ভিটে মাটি নদীতে চলে গেছে। বিলীন হয়ে গেছে ১ ও ২নং ফেরিঘাট। চরম হুমকির মুখে আছে অবশিষ্ট ৪টি ফেরিঘাট ও অন্তত ৫শতাধিক পরিবার।

গত কয়েক দিনে পদ্মার ভাঙনে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের প্রায় ১ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে হাজার হাজার বিঘা ফসলী জমি। গত দুই সপ্তাহে শত শত পরিবার ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। এদের মধ্যে বেশীর ভাগ পরিবার বিভিন্ন সড়ক, মহাসড়ক, স্কুলের মাঠে খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সামান্য আয়ের দিন মজুর মানুষ গুলি তাদের পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র ও গরু-ছাগল নিয়ে খোলা আকাশের নীচে দিন কাটাচ্ছেন।

এদিকে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম মঙ্গলবার দুপুরে দৌলতদিয়ার ১ ও ২নং ফেরিঘাটগুলোর ভাঙন পরিদর্শন করেন এবং দুর্গতদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করেন। এ সময় তিনি আশংঙ্কা করে বলেন, নদী ভাঙনের যা অবস্থা তাতে ফেরিঘাটগুলো এখানে রাখা হয়ত আর সম্ভব হবে না। এ মুহুর্তে ঘাটগুলো এখান থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেয়া দরকার। তাছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলে ঘাট রক্ষার যে চেষ্টা করছেন তা এখন আর সম্ভব নয় বলে মনে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) এ বিষয়ে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি। ভাঙন কবলিত এলাকার বাইরে বিকল্প ঘাট নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছি।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads