• শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬
ads
সিরাজদিখানে ধানের বাজার দর কম, কৃষকের মাথায় হাত

ছবি : বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

সিরাজদিখানে ধানের বাজার দর কম, কৃষকের মাথায় হাত

  • সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ০৮ নভেম্বর ২০১৯

যতদূর চোখ যায় সবুজ ও সোনালী রঙের চোখ ধাধানো সব মনমুগ্ধকর দৃশ্য। সিরাজদিখানের মাঠ জুড়ে সবুজ ও সোনালী রং বলে দিচ্ছে গ্রাম বাংলার অপরূপ বৈচিত্রের কথা। গ্রাম গঞ্জের মাঠে ময়দানে যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই কৃষকদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ধান কাটা ও ধান মাড়াই করার দৃশ্য ।মাঠজুড়ে সোনালি ধান। কেউ কাটছেন, কেউ আবার আঁটি বাঁধছেন। কেউ কেউ ভাড় করা ধান নিয়ে যাচ্ছেন বাড়ির উঠোনে কেউ আবার ধান ক্ষেতেই ধান মাড়াই করে নিচ্ছেন। একটুও দম ফেলার সময় নেই কারও। মহাব্যস্ততায় দিন কাটাছে সিরাজদিখানের কৃষকেরা। ইরি, বোরো, আমন ধান কাটা নিয়ে এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের মাঠ জুরে। মাঠে মাঠে যেন শুরু হয়েছে ধান কাটার মহাউৎসব।

এক বুক স্বপ্ন নিয়ে যেখানে সোনালি ধান রোপন করেন সিরাজদিখানের মেহনতি কৃষকরা। ঘাম ঝড়ানো শ্রমের বিনিময়ে উৎপাদিত এসব ধানের ন্যায্য মূল্য পেয়ে আপনজন নিয়ে কিছুটা স্বাচ্ছন্দে থাকবেন, এমনটাই কৃষকের আশা। তবে এ বছর ধানের ফলন ভালো হলেও কৃষকদের এই স্বচ্ছলতার স্বপ্নের বিপরীতে বড় হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ধানের বাজার মূল্য বলে জানান বালুচর ইউনিয়নের কৃষক নূর ইসলাম। চলতি বছরে ধানের বাম্পার ফলন হলেও বাজার দর নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন এখানকার অনেক কৃষকরা। তারা বলছেন, ফলন ভালো হলেও বাজারে দর কম থাকায় লোকসানের মুখে পড়তে হবে কৃষকদের।

কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে ধানের দর কম। ফলে লোকসান দিয়েই ধান বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। সবমিলিয়ে মুখে হাসি নেই খেটে খাওয়া এসব মেহনতী মানুষের। আর তাই কৃষিকাজে আস্থা ‍হারিয়ে ভবিষ্যতে আর ধান রোপন করবেন না বলেও জানালেন অনেকে। আব্দুল মান্নান নামের আরেক কৃষক বলেন, এক বিঘা জমির ধান করতে খরচ অয় ১০ হাজার টেহা। কিন্তু বাজারো নিয়া গিয়া এই এক বিঘা জমির ধানের দাম ৭ হাজার টেহার বেশি পাই না। তিনি আরো বলেন, এ বছর ঋণ কইরা ধান করছি, এরপরেও লোকসান। সামনেরবার এই ধান আর করতাম না।

সিরাজদিখান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহসিনা জাহান তোরণ জানান, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার কৃষকরা আগের সব লোকসান কাটিয়ে এবার নিশ্চয় লাভবান হবে। এ বছর গত বছরের তুলনায় ধানে রোগ-বালাই কম। নদীর পারের ধানের জমিতে সেচ না লাগায় এবং জমিতে সার, বীজ, কীটনাশক ও নিড়ানি খরচ কম লাগায় এতে কৃষকদের ধান চাষে আগ্রহ বারছে। তবে বালুচর ইউনিয়নের কৃষক নাজমুল বল্লেন অন্যকথা, তিনি জানান তার ২ বিঘা ধানের জমিতে রোগ দেখা দিলে বহুচেষ্টা করেও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কনো সহযোগিতা পায়নি।

উপজেলা কৃষি অফিসার সুবোধ চন্দ্র রায় বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ১৪৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন এবং ৫ হাজার ৪ শ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বেশি ধান আবাদ হয়েছে সিরাজদিখানের জমিগুলোতে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads