• রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ভালোবাসায় বেঁচে গেল বন বিড়ালের ৬ ছানা

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

ভালোবাসায় বেঁচে গেল বন বিড়ালের ৬ ছানা

  • রেজাউল করিম সোহাগ, শ্রীপুর
  • প্রকাশিত ০৮ নভেম্বর ২০১৯

মৃত্যুর মুখে ছিল ৬ বনবিড়াল ছানার জীবন। গ্রামবাসীরা ছোটো ছোটো বনবিড়াল ছানাগুলো দেখতে এসে মেরে ফেলার প্রস্তুতি নেয়। হাঁস মুরগি খেয়ে ক্ষতির করার কারণেই গ্রামবাসীদের এ ক্ষোভ।বিশেষ করে গৃহিনীরা বেশি ক্ষুব্ধ এ প্রাণিটির প্রতি। তবে এসব বৈরিতাও ভুলে মমতায়ী হয়ে উঠেন কিছু মানুষ। বনবিড়াল ছানাগুলোকে প্রাণে বাঁচাতে তারা এগিয়ে আসেন। তেমনি ভালোবাসা দেখালেন গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার আনজাব গ্রামের কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। মা-বাবা হারা ৬ বনবিড়াল ছানাকে উদ্ধার করে তুলে নিয়ে তারা পাঠিয়েছেন সাফারি পার্কে।

কাপাসিয়ার আনজাব মহিলা আলিম মাদরাসার শিক্ষক মোজাম্মেল হক বলেন, গত সোমবার তাদের মাদরাসার একটি পরিত্যক্ত কক্ষে বনবিড়াল ছানাগুলোর খোঁজ মিলে।  সেদিন সকালে মাদরাসার কাছে একটি মৃত বনবিড়াল পাওয়া যায়। কেউ হয়তো এটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। কিছুক্ষণ পর মাদরাসার আয়া পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিড়ালের ছানার মতো শব্দ শুনতে পান। তিনি বিড়ালের ছানা ভেবে এগুলোকে প্রধান শিক্ষককের কাছে নিয়ে এলেন।

মাদরাসা শিক্ষক মোজাম্মেল হক ও অন্যান্য কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এগুলোর বিষয়ে গুরুত্ব দিলেন। তারা ইন্টারনেটে খোঁজ করে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক জহির উদ্দিন আকনের মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে ফোন করেন। এ তথ্য জানালে তিনি তার কর্মী পাঠিয়ে  উদ্ধার করে গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।

তিনি জানান, মাদরাসার দপ্তরি শরিফ সেগুলোকে গরুর দুধ খাইয়ে সতেজ রেখেছেন। 

সাফারি পার্কের ওয়াইল্ড লাইফ সুপার ভাইজার আনিসুর রহমান জানান, বন বিড়াল সাধারনত নিশাচর প্রাণি। রাতে খাবারের খোঁজে বের হয়। এ সময় হাঁস মুরগি খাদ্য হিসাবে খায়। এতে অনেক সময় মানুষ এদের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলে।

তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া বন বিড়ালের ৬ ছানাকেই নিয়ম করে ৮ বার গরুর দুধ খাওয়ানো হচ্ছে। এক মাস পর ছোট ছোট করে মাংস টুকরা দেওয়া হবে। এক বছর পরে এদের ন্যাশনাল পার্কে অবমুক্ত করা হবে।

শ্রীপুর শাখা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সাঈদ চৌধুরী বলেন, বন বিড়াল ছানাগুলোকে না মেরে যত্ন যারা নিরাপদ আশ্রয়ে তুলে দিয়েছেন তারা প্রাণের প্রতি মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। সবাই এমন সচেতন হলে প্রায় বিলুপ্ত অনেক প্রাণীকে রক্ষা করা যাবে। মানুষের এমন উদারতায় প্রাণ ও প্রকৃতি দুটোই বাঁচবে্।

সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. তবিবুর রহমান বলেন, বন বিড়ালের ছানাগুলোকে আমাদের তত্ত্বাবধানে র্পাকের কোয়ারেন্টাইন জোনে রাথা হয়েছে। । নিয়মম করে ফিডারের মাধ্যমে দুধ খাওয়ানো হচ্ছে। বড় হলে এগুলোকে তার উপযোগী প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads