• শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সারা দেশ

যমুনার পানিতে দূষণমুক্ত হবে বুড়িগঙ্গা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৫ নভেম্বর ২০১৯

ঢাকাবাসীকে দূষণমুক্ত বুড়িগঙ্গা উপহার দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কিন্তু কোনো কিছুতেই কোনো কাজ হচ্ছে না। কালচে হয়ে গেছে বুড়িগঙ্গার পানির রং। যা নিয়মিত ছড়াচ্ছে পচা দুর্গন্ধ। ফলে বুড়িগঙ্গার আশপাশ দিয়ে চলাচল করাও রীতিমতো কঠিন হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, শীতকালে এর পানি থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়ায়। এতে সৃষ্টি হচ্ছে নানা রোগজীবাণু। দীর্ঘদিন পানি আটকে থাকায় ক্রমেই এর রং কালো হয়ে পড়ছে। তাই যতই উদ্যোগ নেওয়া হোক, যমুনার পানিপ্রবাহ ছাড়া নগরবাসীকে দূষণমুক্ত বুড়িগঙ্গা উপহার দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।

তারা বলেন, বুড়িগঙ্গার পানি দূষণমুক্ত ও নাব্যতা সংকট থেকে উত্তরণের জন্য পানিপ্রবাহ ২৪৫ কিউবিক থেকে আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি করতে হবে। এই ব্যবস্থা কার্যকরণে যমুনার প্রধান উৎসমুখের অবস্থান পরিবর্তন অথবা বঙ্গবন্ধু সেতুর (যমুনা বহুমুখী সেতু) উজানে নতুন উৎসমুখ থেকে পানি সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে হবে।

এদিকে, বুড়িগঙ্গার দূষণরোধে পানির প্রবাহ বৃদ্ধিসহ শিল্প ও বর্জ্য নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। এ প্রতিবেদন তৈরিতে কাজ করেছে এসএ কনসাল্ট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড।

জানা যায়, গত মে মাসে বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার (নিউ ধলেশ্বরী-পুংলী-বংশাই-তুরাগ-বুড়িগঙ্গা রিভার সিস্টেম) প্রকল্পের ওপর নিবিড় পরিবীক্ষণ করে খসড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করে আইএমইডি। জুন-২০১৮ পর্যন্ত প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ২৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ। খসড়া প্রতিবেদনে দূষণমুক্ত বুড়িগঙ্গার জন্য কিছু সুপারিশ তুলে ধরে সরকারের একমাত্র প্রকল্প তদারকি প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিবেদন তৈরির সময় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো ঘুরে দেখেন আইএমইডি সচিব আবুল মনসুর মোহাম্মদ ফয়েজউল্লাহ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সেডিমেন্ট বেসিন, ইনটেক চ্যানেল ও সেডিমেন্ট বেসিনের বাইরে বছরে গড়ে ৫ লাখ ৬৫ হাজার ২৩৫ ঘনমিটার সেডিমেন্ট জমা হবে। জমা সিল্টের ব্যবস্থাপনা জরুরি। ভাটিতে যমুনা নদীর বাম তীরের কাছে ডুবোচর ড্রেজিং করে নাব্যতা পুনরুদ্ধার করা জরুরি।

জানতে চাইলে আইএমইডির উপ-পরিচালক মাহমুদুল হাসান বলেন, দূষণমুক্ত বুড়িগঙ্গার জন্য আমরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছি। এর ধারাবাহিকতায় কয়েকটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সব প্রতিবেদনে একটা বিষয় বারবার সামনে এসেছে, ঢাকাবাসীকে দূষণমুক্ত বুড়িগঙ্গা উপহার দিতে হলে যমুনার পানিপ্রবাহ সৃষ্টি করতে হবে। সবার স্ট্যাডি রিপোর্টেই বিষয়টি সামনে এসেছে। আমরা তথ্যগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি।

আইএমইডি জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় দেখা গেছে, ধলেশ্বরী নদীর উৎসমুখে যমুনা নদী থেকে পানি প্রবেশ করার পথ প্রতিনিয়ত বালি ও পলি পড়ে ভরাট হয়ে যায়। ফলে নতুন নতুন চর সৃষ্টি হচ্ছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪০ কিলোমিটার ড্রেজিং কাজ বাস্তবায়নের পর শুষ্ক মৌসুমে যমুনা নদী থেকে ধলেশ্বরী হয়ে বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রবাহ শুরু হয়। কিন্তু পরবর্তীকালে তা আবারো ভরাট হয়ে যায়। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও আর্থ-সামাজিক কার্যক্রম বৃদ্ধির সঙ্গে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের অভ্যন্তরীণ বন্দরগুলোর পরিধি, শিল্প ও ব্যবসাকেন্দ্র ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ফলে বুড়িগঙ্গায় পানিপ্রবাহ কমে যাচ্ছে। পলি ভরাটের কারণে শুষ্ক মৌসুমের উৎস নদী যমুনার সঙ্গে নদীবলয়ের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পানিপ্রবাহ কমেছে। যমুনা থেকে পানির প্রবাহ কমায় ফিডার নদীগুলো শুকনো মৌসুমে প্রায় নাব্যশূন্য থাকে। পলিতে নদীর তলদেশ ভরাট টেকসই নাব্যতা বজায় রাখার অন্যতম প্রধান বাধা।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের এপ্রিলে মাসে শুরু হওয়া প্রকল্পের মূল ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) অনুযায়ী প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৯৪৪ কোটি টাকা। প্রকল্পটি প্রথম সংশোধন করে মোট ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ১২৫ কোটি টাকা। ২০২০ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads