• শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় দাম বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা

ছবি: বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

লাগামহীন পেঁয়াজের দাম

নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় দাম বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ১৬ নভেম্বর ২০১৯

দেশের বিভিন্ন স্থানে পেঁয়াজের দাম বেড়েই চলছে। অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে ক্রেতাসাধারণ অসহায় হয়ে পড়েছে। সরকারের নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো পেঁয়াজের দাম বাড়ছে বলে জানান ক্রেতারা। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর) : বোচাগঞ্জের বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৫০ টাকা। আর ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকা কেজি দরে। পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলকভাবে আদার দর বেড়েছে কয়েকগুণ। যে আদা বিক্রি হয়েছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি। আর সেই আদা দাম বেড়ে হয়েছে ৩শ থেকে ৩২০ টাকা প্রতি কেজি। জানা গেছে, পেঁয়াজের এ মূল্য প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১শ টাকা বেশি। পেঁয়াজ বিক্রেতা আ. মতিন জানান, বেশি দরে পেঁয়াজ কিনতে গিয়েও পেঁয়াজ কিনতে পারিনি। আড়ত থেকে এক মণ পেঁয়াজ কেনার কথা থাকলেও দাম বেশি হওয়ায় ১০ কেজি পেঁয়াজ কিনে এনেছি বিক্রির জন্য।

পাবনা : পাবনায় অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজ ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা। নতুন পেঁয়াজ ২২৫ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরার পাশাপাশি পাইকারি বাজারেও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজ কেজি ২৩০ থেকে ২৪০, নতুন (মূলকাটা) পেঁয়াজ ২১৫ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  অথচ এক দিন আগেও দেশি পেঁয়াজ কেজি ১৫৫ থেকে ১৬০, নতুন (মূলকাটা) পেঁয়াজ ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বড় বাজারের পাইকারি বিক্রেতা আসমাল শেখ জানান, হঠাৎ বাজারে সব ধরনের পেঁয়াজের দামই বেড়েছে। সরবরাহ না থাকায় দাম বেশি বাড়ছে বলে দাবি করে বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানোর ফলে ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। এদিকে সংকটের দোহায় দিয়ে প্রায় দুই মাস ধরে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে ক্রেতাসাধারণ অসহায় হয়ে পড়েছে। সরকারের নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছে। পেঁয়াজ ক্রেতা নাজমুল হক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন নিম্নবিত্ত আয়ের মানুষ।

আমতলী (বরগুনা) : আমতলীর সর্বত্র পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজার মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় লাগামহীনভাবে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে বলে ভুক্তভোগী ক্রেতারা অভিযোগ করেন। শহরের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটা পাইকারি ও খুচরা দোকানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা দরে বিক্রি করছে। দোকান মালিকরা জানান, মোকাম থেকে তারা প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা দরে কিনে বাজারে তা ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। ক্রেতা খান মতিয়ার রহমান বলে, ১ কেজি ভালো পেঁয়াজ ১৭০ টাকা দরে কিনলাম। পুরাতন বাজারের মুদি দোকানি শ্যামল দাস জানান, মোকামে দাম বেশি থাকায় প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১৭০ টাকা দরে বিক্রি করছি। নতুনবাজার কাঁচামালের আড়তদার আ. গণি বাহালী জানান, বড় বড় মহাজনরা এখন দাম বেশি রাখছে। ইউএনও মনিরা পারভীন বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে।

বেড়া (পাবনা) : বেড়ায় পেঁয়াজের দাম দুই শতকের ঘর পেরোল। সিঅ্যান্ডবি পাইকারি বাজারে ৮ হাজার টাকা মণ দরে পেঁয়াজ বেচাকেনা হতে দেখা গেছে। খুচরা বাজারে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা দরে বেচাকেনা হয়েছে। বিক্রেতা চাঁদ আলী জানান, প্রকারভেদে ২০০ থেকে ২১০ টাকায় পেঁয়াজ বেচাকেনা করছি। শিক্ষক দীপক চৌধুরী বলেন, খুব সামান্য পরিমাণে পেঁয়াজ কিনে থাকি। দিনকে দিন পেঁয়াজের বাজার আকাশচুম্বী হচ্ছে। ছুটে চলছে লাগামহীন ঘোড়ার মতো। পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের ধারণা, পেঁয়াজের দাম মণপ্রতি ১০ হাজার টাকা দু’একদিনের মধ্যেই হয়ে যাবে। নিয়ন্ত্রণহীন পেঁয়াজের বাজার, আর কত দিন?

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : নবীনগরে পেঁয়াজের দাম ১৮০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন দোকানের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দেশি পেঁয়াজের দাম ১৮০ টাকায় পৌঁছেছে। এটি স্মরণকালের সর্বোচ্চ দাম। এক কেজি দেশি পেঁয়াজের পাইকারি মূল্য ১৭৫-১৮০ টাকা। আর ১ কেজি পেঁয়াজের দামে পাওয়া যাচ্ছে দুই কেজি আপেল, ৮ কেজি দেশি আলু ও ১ কেজি ৮০০ গ্রাম  পোল্ট্রি মোরগ। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ সরকারের নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছে। পেঁয়াজের এমন লাগামহীন দামে ক্রেতাদের মাঝে ক্ষোভ দেখা গেছে। বিক্রেতা জানান, ভারত থেকে আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

শরীয়তপুর : শরীয়তপুরের বিভিন্ন হাটবাজারে পেঁয়াজের দাম আকাশচুম্বী। প্রতিদিন পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৩০-৪০ টাকা করে বেড়েই চলছে। ১ মাস আগে যে পেঁয়াজ ছিল ৩০-৩৫ টাকা কেজি। সে পেঁয়াজ বর্তমানে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকায়। ৫ দিন আগেও পেঁয়াজ ছিল ৬০-৭০ টাকা কেজি। পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে হয়। পালং বাজারে পাইকারি ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়েছে। আর এ পেঁয়াজ খুচরা দোকানিরা নিয়ে বিক্রি করছে ২২০ টাকা। প্রতিদিনই দাম বেড়েই চলছে। গরিব ভোক্তা তথা শ্রমজীবী মানুষের জন্য পেঁয়াজ কেনা খুবই কষ্টসাধ্য বিষয়। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় অনেকেই পেঁয়াজ খাওয়া বন্ধ করে দিচ্ছে। আংগারিয়া, কাজিরহাট, ভোজেশ্বর, ভেদরগঞ্জ, গোসাইরহাট দাসের জংগল, নাগেরপাড়া, ডামুড্যা, মোল্যারহাট বাজারে পাইকারি মালামাল বিক্রি হয়ে থাকে। এসব বাজারে কোনো দোকানেই মূল্যতালিকা টানানো নেই। তারা পণ্য বিক্রি করে কোনো রসিদ দেয় না। এসব বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই সিন্ডিকেট ভেঙে যায়। মনিটরিংয়ের অভাবে এভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের অধিক মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করার দায়ে আংগারিয়া বাজারে পাইকারি ব্যবসায়ী মিরাজ খানকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। এরপরও কোনো প্রভাব ফেলেনি বাজারে। পাইকারি ব্যবসায়ী আ. রাজ্জাক কোতোয়াল বলেন, বেশি দামে কিনে সামান্য লাভে বিক্রি করি। বাজারে কোনো সিন্ডিকেট নেই।

গোদাগাড়ী (রাজশাহী) : গোদাগাড়ীতে লাগামহীন ঘোড়াটা যেন থামছেই না। পেঁয়াজের দাম নিয়ে হতাশায় সাধারণ ক্রেতারা। দিন দিন বেড়েই চলেছে। একদিকে পেঁয়াজের লাগামহীন দাম, অন্যদিকে বাজারে পেঁয়াজের সংকট। যা নিয়ে বিপাকে পড়েছে সাধারণ ক্রেতারা। খুচরা বাজারে এখন মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৪০ টাকায়। যা অতীতের সব দামকে ছাড়িয়ে গেছে। গত সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অস্থির হয়ে ওঠে পেঁয়াজের বাজার। ২৯ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করে ভারত। বাংলাদেশ আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের ওপরই নির্ভরশীল। ফলে দেশের বাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়তে থাকে। তখন দুই দিনের মধ্যে কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকা ছাড়ায় দেশি পেঁয়াজের দাম। ভারতীয় পেঁয়াজও বিক্রি হতে থাকে ১০০ টাকার কাছাকাছি দরে-তবে কয়েক দিন ধরে আবার লাগামহীন হয়ে পড়েছে পেঁয়াজের দাম। পিরিজপুর বাজারে ক্রেতা সাঈম জানান, বাজার ঘুরে তেমন পেঁয়াজ পাওয়া যায়নি। যাও পাওয়া যাচ্ছে তাতে দাম শুনে মাথায় হাত। তাই ৬০ টাকায় ২৫০ গ্রাম পেঁয়াজ কিনে বাড়ি ফিরলাম। এক দোকানি জানান, ক্রেতারা আগের চেয়ে অর্ধেক পেঁয়াজ কিনছে। এতে পেঁয়াজ বিক্রি কমে গেছে। কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখন পেঁয়াজের মৌসুম শুরু হওয়ার আগমুহূর্ত চলছে। এ সময় স্বাভাবিকভাবেই একটা সংকট থাকে। নতুন পেঁয়াজ এখনো ওঠেনি। কিছুদিনের মধ্যে নতুন পেঁয়াজ উঠবে।

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : আখাউড়ায় পেঁয়াজের ঝাঁজ বেড়েই চলেছে। খুচরা বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। মাসজুড়ে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধিতে ক্রেতারা এক প্রকার অস্বস্তিতে পড়েছে। অযোক্তিক দাম বৃদ্ধিতে এক-শ্রেণির মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছে এমন অভিযোগ সাধারণ ক্রেতাদের। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে দাম সহনশীল পর্যায়ে চলে আসবে। বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা যায়, খুচরা ব্যবসায়ীরা দেশি পেঁয়াজ ১১৫-১২০ ও ভারতীয় পেঁয়াজ ১১০-১১৫ বিক্রি করেন। কিন্তু হঠাৎ করে তিন দিন ধরে কেজিপ্রতি ৭০-৮০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। সড়ক বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী সোহাগ বলেন, গত ১ মাসেরও বেশি সময় দরে বেশি দামে পেঁয়াজ কেনায় বিক্রিতেও বেশি দামে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে হচ্ছে। মসজিদপাড়া এলাকার এরশাদুল ইসলাম, জামশেদ বলেন মাসজুড়েই পেঁয়াজের দাম বেড়েই চলেছে। প্রতিটি পরিবারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে পেঁয়াজের ব্যবহার রয়েছে। ব্যবসায়ী লিয়াকত বলেন, ভারত থেকে আমদানি বন্ধ হওয়ায় অতিরিক্ত দামে পেঁয়াজ ক্রয় করতে হচ্ছে। আশা করছি, স্বল্প সময়ের মধ্যে সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে। 

ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) : ফুলবাড়ীয়ায় সপ্তাহের ব্যবধানে তিন দফায় কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে এখন পেঁয়াজের দাম ২৫০ টাকায় পৌঁছেছে। এমন দাম বাড়ায় ক্রেতাদের পাশাপাশি খুচরা বিক্রেতারাও অবাক। বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা দামে বিক্রি করছেন। এ বাজারটিতেও পেঁয়াজের মূল্যতালিকা দেখা যায়নি। পেঁয়াজ নিয়ে প্রশাসন মাঠে নামবে, নাকি ব্যবসার আড়ালে সংঘবদ্ধ লুটেরা মানুষের পকেট কাটতেই থাকবে। এ প্রশ্ন সব শ্রেণিপেশার মানুষের।

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) : মির্জাগঞ্জে এক দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যারা বাজার থেকে আগে একসঙ্গে ৫ কেজি পেঁয়াজ কিনতেন তারা এখন ১ কেজি পেঁয়াজ কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। বর্তমানে বাজারে দুই কেজি ব্রয়লার মুরগি ও এক কেজি পেঁয়াজের মূল্য সমান হওয়াতে  পেঁয়াজসহ অন্যান্য পণ্য সামগ্রী কিনতে আসা অনেকেই বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল করছেন। জানা যায়, সুবিদখালী বন্দরের সাপ্তাহিক হাটসহ ৬টি ইউনিয়নে হাটবাজারে এক কেজি পেঁয়াজ এলাকাভেদে ১৫০-১৬০ টাকা দরে বিক্রি হলেও এক দিনের ব্যবধানে ৭০-৮০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি কেজি ২২০-২৩০ ও মহিষকাটা বাজারে ২৪০-২৫০ টাকা দরে খুচরা বিক্রি হয়েছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ মুদি দোকান পেঁয়াজশূন্য। দু’একটি দোকানে পেঁয়াজ দেখা গেলেও তা বেশ চড়া দাম দিয়ে কিনছেন ক্রেতারা। আবার অনেকে ২২০-২৩০ টাকা কেজি জানতে পেরে পেঁয়াজ না কিনে বাড়ি ফিরে গেছেন। খুচরা ব্যবসায়ী আবদুস সোবাহান বলেন, পাইকারি আড়ত থেকে ১৯০-২০০ টাকা দরে পেঁয়াজ কিনে আনার পর ঘাটতি ও পরিবহন খরচ হিসাব করে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রিতে ব্যবসায়ীদের ৫-৬ টাকা থাকে। তাতে লাভ তো দূরের কথা নিজেদের শ্রমের মূল্যও ওঠে না। আরেক ব্যবসায়ী ইব্রাহিম বলেন, এভাবে চলতে থাকলে পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দিতে হবে। এ ব্যাপারে ইউএনও সরোয়ার হোসেন বলেন, বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছিল। দু’একদিনের মধ্যে বিভিন্ন বাজারে মূল্যবৃদ্ধি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হিলি (দিনাজপুর) : হিলি স্থলবন্দরে আবারো বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। এক লাফে কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে। যে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। আমদানিকারক সাইফুল ইসলাম জানান, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি বন্ধ থাকায় দাম বেড়েছে। পাইকাররা জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন তারা। অনেকেই দাম বেশির কারণে পেঁয়াজ কিনতে পারছেন না। বিক্রেতা রেজাউল করিম জানান, সরবরাহ কম থাকায় মূল্যবৃদ্ধি। এর বেশি আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি। খুচরা পেঁয়াজ ক্রেতা রফিক জানান, যেখানে দৈনিক এক কেজি পেঁয়াজ কিনতেন সেখানে সাত দিনে এক কেজি পেঁয়াজ কিনছেন। আরো কয়েকজন ক্রেতাকে আড়াইশ গ্রামের স্থলে ১শ গ্রাম  পেঁয়াজ কিনে পাগল করল পেঁয়াজের গান গাইতে দেখা গেছে। এদিকে পাতাসহ নতুন পেঁয়াজ বাজারে উঠলেও প্রতি কেজি পাতাসহ পেঁয়াজ ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads