• শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সারা দেশ

রাত পোহালেই ৫০ টাকা বাড়ে পেঁয়াজের দাম

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৬ নভেম্বর ২০১৯

গত বুধবার প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল মানভেদে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা, যা বৃহস্পতিবার ২০০ থেকে ২২০ টাকায় উঠে যায়। আর গতকাল শুক্রবারে সেই পেঁয়াজ ২৫০ থেকে ২৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ ‘জ্যামিতিক হারে’ বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। যা প্রতি রাতের জন্য কেজিপ্রতি ৫০ টাকা, ঘণ্টায় বাড়ছে ২ টাকা করে।

এমন অবস্থায় গতকাল সাপ্তাহিক ছুটির দিন বাজারে পেঁয়াজের দরবৃদ্ধি ছিল প্রধান আলোচনা। সবার মুখেই একই প্রশ্ন—‘এ দরবৃদ্ধির শেষ কোথায়?’। দেশজুড়ে সরকারের অভিযান, বড় চালান আসার খবর, সরকারের আশ্বাস—সবই কি মিথ্যা? এ সংকটের সমাধান কি? কবে হবে?

অধিকাংশরাই দরবৃদ্ধি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। কারওয়ানবাজারে ইসমাইল হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘কোনো কিছুই পেঁয়াজের দর বৃদ্ধি থামাতে পারছে না। এতে দিশাহারা হয়ে গেছে আমার মতো সাধারণ মানুষ। কিন্তু সরকার বিষয়টি গা করছে না। যদিও এ ব্যর্থতার দায় পুরোটাই সরকারের।’

গতকাল কারওয়ানবাজারে পাইকারিতে প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১২০০ টাকা দরে। সে হিসাবে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম দাঁড়ায় ২৪০ টাকা। ওই পেঁয়াজ খুচরা বাজারে গিয়ে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা থেকে ২৬০ টাকায়।

আগে পাইকারি আড়ত থেকে অনেক খুচরা ক্রেতাও সারা মাস খাওয়ার জন্য এক-দুই পাল্লা পেঁয়াজ কিনতেন। কিন্তু গতকাল বেশ কিছু সময় অপেক্ষা করে দেখা গেছে, অনেক ক্রেতাই আসছেন পাইকারি আড়তে ১-২ কেজি পেঁয়াজ কেনার জন্য। যাতে দামে কিছু টাকা সাশ্রয় মেলে। বিক্রেতারাও পাল্লা বিক্রির পাশাপাশি এখন খুচরা বিক্রি করছেন।

সুমন নামে এক পাইকারি বিক্রেতা বলেন, আগে যেসব ক্রেতা প্রতি মাসের শুরুতে একপাল্লা পেঁয়াজ নিতেন, এখন তারাই এসে এক কেজি পেঁয়াজ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছেন। কারণ একপাল্লা পেঁয়াজ ১২শ টাকায় নেওয়ার ক্ষমতা অনেকেরই নেই। বাধ্য হয়ে খুচরা পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে গতকাল অনেক বাড়িতে পেঁয়াজ ছাড়াই রান্না হয়েছে বলে জানা গেছে। রামপুরা বৌবাজারের নিম্নআয়ের মানুষের আনাগোনা বেশি। সেখানে মর্জিনা বেগম নামে এক মাছ বিক্রেতা বলেন, কাল (বৃহস্পতিবার) থেকে পেঁয়াজ খাচ্ছি না। তাতে তরকারি স্বাদ হয় না; কিন্তু উপায়ও নেই। পেঁয়াজের জন্য দিনে ৫০ টাকা বাড়তি ব্যয় করা সম্ভব নয়।

ওই কথা শুনে পাশের আরেক ফেরিওয়ালা ক্রেতা এগিয়ে এসে বলেন, ‘বউকে বলেছি পেঁয়াজ বন্ধ। তারপর ওর সঙ্গে (বউয়ের) ঝগড়া বেঁধে গেছে। তারপরেও পেঁয়াজ কিনে দেইনি। দেখি কী হয়।’

সব মিলিয়ে পেঁয়াজের আকাশচুম্বী দামের কারণে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ ব্যাপক চাপে পড়েছে। বেশিরভাগ বাজারে ঘুরে দেখা যায়, দোকানে পেঁয়াজের দাম শুনে মলিন মুখ করে চলে যাচ্ছেন কম আয়ের অধিকাংশ মানুষ। কিছু মানুষ কিনছেন তবে মনে হচ্ছে দামের কারণে তার স্নায়ুচাপ বেড়ে যাচ্ছে।

দেশের ইতিহাসে এ নিত্যপণ্যের দাম কখনো এতটা বাড়েনি। পেঁয়াজ আতঙ্ক এখন জনমানসে ‘মহা আতঙ্ক’-এর রূপ নিয়েছে। এর আগে ২০১৭ সালে কয়েক সপ্তাহের জন্য এ নিত্যপণ্যের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছিল। তখন কেজিপ্রতি ১৪০ টাকা পর্যন্ত ওঠে পেঁয়াজের দর, যা গত মাসের আগে পর্যন্ত সর্বোচ্চ দর ছিল।

এদিকে কারওয়ানবাজারে প্রায় দুই যুগ পেঁয়াজ বিক্রি করছেন দাবি করে বিক্রেতা ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘এ জীবনে কোনোদিন পেঁয়াজের দাম এত দেখিনি। এর অর্ধেকও দেখিনি। দুই বছর আগে একবার দাম উঠেছিল তাও কয়েক দিনের জন্য। পাইকারিতে ৯০ টাকা হয়েছিল তখন।’

শুধু নিম্নআয়ের মানুষ নয়, মোটামুটি সচ্ছল পরিবারেও চাপ তৈরি করেছে পেঁয়াজ। একটি পরিবারে প্রতি মাসে কমপক্ষে ৫ কেজি পেঁয়াজ লাগে, যার জন্য এখন হাজারেরও বেশি টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে। এদিকে বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই ঊর্ধ্বমুখী বিভিন্ন সবজির দাম। আলু, পেঁপে ছাড়া কোনোকিছুই কেজিপ্রতি ৫০ টাকার নিচে মিলছে না। পাশাপাশি কয়েক দিনের ব্যবধানে সরু চালের দামও বেড়েছে ৫ টাকা পর্যন্ত। তেলের দাম তিন টাকা বেড়েছে এক সপ্তাহ আগে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads