• শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭
ads
বকশীগঞ্জের সওজ’র ১০ একর ভূমি অবৈধ দখলে

ছবি : বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

বকশীগঞ্জের সওজ’র ১০ একর ভূমি অবৈধ দখলে

  • জামালপুর প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১০ ডিসেম্বর ২০১৯

জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জের কামালপুর মৌজায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের প্রায় ১০ একর ‍ভূমি স্থানীয় দুর্বৃত্তরা দীর্ঘদিন যাবত অবৈধ ভাবে দখল করছে। স্থানীয় জনতা সরকারের ওই মুল্যবান সস্পত্তি উদ্ধারের জন্য লিখিতভাবে দাবি জানালেও সওজ’র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত কারণে ওই সস্পত্তি উদ্ধারের জন্য আজও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

স্থানীয় সুুত্রে জানা গেছে, জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর মৌজায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের প্রায় ১০ একর ভুমি রয়েছে যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পূবের্ই ময়মনসিংহ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শেরপুর, শ্রীবর্দী, বকশীগঞ্জ, সানন্দবাড়ি, রাজিবপুর ও দেওয়ানগঞ্জ এলাকায় সওজ’র কার্যক্রম দ্রুত তদারকির উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সওজ’র তৎকালীন কর্তৃপক্ষ বকশীগঞ্জের কামালপুর মৌজার ১০ একর ভূমি ক্রয় করে সেখানে একটি ডাকবাংলো নির্মাণ করেন। এরপর থেকে অদ্যাবধি কামালপুরে সওজ’র ডাকবাংলোয় একজন কর্মচারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনিই সেখানে নিয়মিত অবস্থান করে কামালপুর মৌজার ১০ একর ভূমি দেখাশুনা করাসহ ওই অঞ্চলে সওজ’র সকল কার্যক্রম দ্রুত তদারকি করে আসছিলেন।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, ময়মনসিংহ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ভোগদখলীয় কামালপুর মৌজার ১০ একর ভূমি বিআরএস রেকর্ডের সময় সড়কের দখল বর্ণনায় ১নং খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সওজ’র ওই ১০ একর ভুমি ২০০১ সন পর্যন্ত সওজ’র দখলেই ছিল। তখন কামালপুর ডাকবাংলোয় কর্মরত সওজ’র চকিদার আবুল হোসেন দীর্ঘদিন সওজ’র পক্ষে ওই জমি চাষাবাদ করেছেন। কিন্তু চকিদার আবুল হোসেন চাকুরী থেকে অবসরের পর কামালপুর এলাকার ইব্রাহিম খলিল ইল্লা, চান মিয়া, দুলাল মিয়া, কুহিলি মিয়া, মো. নুরী, আব্দুল কাদের, ওয়াল মিয়া, নুরল হক ও ওবায়দুল হকসহ প্রায় অর্ধশতাধিক স্থানীয় ভূমিদস্যু সওজ’র ওই জমির সিংহভাগ জবর দখল করে নেয়। ওই ভূমিদস্যুরা সওজ’র ১০ একর ভূমিতে জোরপূর্বক বাড়িঘর নির্মাণ করে অদ্যাবধি অবৈধভাবে ভোগ দখল করে আছে। এব্যাপারে স্থানীয় সচেতন জনতা সওজ’র সররকারী সস্পত্তি উদ্ধারের দাবি জানালেও সওজ’র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আজও অজ্ঞাত কারণে ওই সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

বকশীগঞ্জের কামালপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, বকশীগঞ্জের কামালপুর মৌজার ৬.৮১ একর ভূমি বিআরএস রেকর্ডের সময় সড়কের দখল বর্ণনায় ১নং খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ওই জমিতে স্থানীয় বাসিন্দারা অবৈধভাবে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে। এছাড়াও ১নং খতিয়ানের কিছু জমিতে একটি সরকারি গুচ্ছগ্রাম নির্মিত হয়েছে।

জামালপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সার্ভেয়ার আলী আশরাফ জানান, বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর মৌজায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের একটি ডাকবাংলো রয়েছে। কামালপুর মৌজায় থাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগের সকল সম্পত্তি জেলা প্রশাসকের নামে বিআরএস রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। তবে সেখান থেকে সওজ’র কিছু জমি জেলা পরিষদকে হস্তান্তর করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ওইসব ভুমি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads