• মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৫ ফাল্গুন ১৪২৬
জন্মান্ধ জাহাঙ্গীরের প্রতি স্ত্রীর ভালোবাসা

ছবি: বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

জন্মান্ধ জাহাঙ্গীরের প্রতি স্ত্রীর ভালোবাসা

  • মো. এমদাদ উল্যাহ, চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা)
  • প্রকাশিত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছোট একটি টিনের ঘর। বৃষ্টির সময় ফুটো টিন দিয়ে পানি পড়ে। ঘরের জীর্ণদশা হলেও জন্মান্ধ স্বামী জাহাঙ্গীর আলমকে নিয়ে সুখে জীবনযাপন করছেন সেলিনা বেগম। তাদের পরিবারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলের বয়স ১৬ বছর।

জানা গেছে, ১৯৯৭-৯৮ সালে উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের যাত্রাপুরে একটি এনজিও সংস্থার অধীনে সচেতনতামূলক বিভিন্ন গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন জাহাঙ্গীর। তিনি ফুলমড়ি গ্রামের অহিদুল ইসলামের ছেলে। একদিন বসন্তপুর গ্রামে গানের আসরে তার সঙ্গে পরিচয় হয় মালেকা নামে এক নারীর। পরে জাহাঙ্গীরের কাছে গান শিখতে থাকেন মালেকা। এর মধ্যে জাহাঙ্গীরের গানে মুগ্ধ হয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেন মালেকার বোন সেলিনা। ২০০৪ সালে তাদের বিয়ে হয়। ওই সময় জন্মান্ধ যুবককে বিয়ে করায় সেলিনাকে ভালো চোখে দেখেনি স্বজনরা।

সেলিনা বলেন, বিয়ের পর থেকে কখনো আমাদের সংসারে ঝগড়া হয়নি। নিজের চিকিৎসা না করেও আমার চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখেছি স্বামীকে। তাছাড়া স্বামী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়সহ ইসলামী বিধি-বিধান মেনে চলায় আমি ভীষণ খুশি।

জাহাঙ্গীর বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা পারিবারিক জীবনে ১৭ বছর সুন্দরভাবে অতিবাহিত করেছি। আমি জন্মান্ধ হলেও স্ত্রী হিসেবে সেলিনাকে সব সময় খুশি রাখতে চেষ্টা করি।

তিনি বলেন, ঘরে থাকার জায়গার সংকুলান না হওয়ায় বড় ছেলে বাবার ঘর, ছোট ছেলে এতিমখানায় ও মেয়ে প্রতিবেশীর ঘরে থাকে। একটি নতুন ঘর তৈরি করতে বিত্তবানদের কাছে আর্থিক সহযোগিতার অনুরোধ করছি। বিকাশ : ০১৬১৭৪২৪৩৪২ (পারসোনাল)।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads