• শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২০, ২১ চৈত্র ১৪২৬
ads
একজন নিভৃতচারী ভাষা সৈনিক খলিলুর রহমান

ছবি : বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

আজও মেলেনি ভাষা সৈনিক হিসাবে স্বীকৃতি

একজন নিভৃতচারী ভাষা সৈনিক খলিলুর রহমান

  • কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

নিভৃতচারী এক ভাষা সৈনিকের নাম খলিলুর রহমান (৯৫)। রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’র আন্দোলনের ছাত্রনেতা কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌর শহরের হাই স্কুলের পিছনের বাসিন্দা খলিলুর রহমানের খবর আজ আর কেউ রাখে না। বয়সের ভারে এখন ন্যুব্জ তিনি। আজও তাকে ভাষা সৈনিক হিসাবে স্বীকৃতি দেয়নি।

১৯৫১ সালে ঢাকা জগন্নাথ কলেজে বাণিজ্য বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই আন্দোলনের মিছিল মিটিং এ অংশগ্রহণ করেন তিনি। তৎকালীন সময়ে তিনি জগন্নাথ কলেজের একটি ইউনিটের ছাত্রনেতা হিসেবে মিছিল মিটিং এর নেতৃত্ব দিতেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারী ঢাকা কার্জন হল থেকে শুরু হওয়া মিছিলে পুলিশ যখন বৃষ্টির মতো গুলি চালাচ্ছিল, তখন তিনি ছিলেন মিছিলের অগ্রভাগে। পুলিশের গুলিতে ভাষা শহীদেরা গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়লেও তিনিও অনান্য ছাত্রদের সাথে পুলিশের তাড়া খেয়ে নিরাপদ স্থানে আত্মগোপন করেন। ভাগ্যক্রমে সেদিন তিনি বেঁচে যান। ২২ ফেব্রুয়ারী মজলুম জননেতা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে শহীদদের রূহের মাগফেরাত কামনায় গায়েবানা জানাযায় অংশগ্রহণ করেন।

বয়সের ভারে ন্যুব্জ খলিলুর রহমান সে সময়ের সহগামী, সতীর্থদের নাম স্মরণে আনতে না পারলেও স্মৃতিপটে ভাঁসে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারীর সেই দিনটির কথা। ভেড়ামারার কৃতি সন্তান মৃত ডা. বাবর আলীর জ্যেষ্ঠ্য সন্তান ভাষা সৈনিক খলিলুর রহমান ১৯৯১ সালের জানুয়ারীতে ভেড়ামারা বোর্ড সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি এক পুত্র ও তিন কন্যা সন্তানের জনক। ব্যক্তিগত জীবনে সততা, ন্যায়নিষ্ঠ ও প্রতিবাদী আন্দোলন সংগ্রামের ব্যক্তিত্ব ভাষা সৈনিক খলিলুর রহমান তার নিজবাড়িতে বসবাস করছেন।

প্রবীণ রাজনীতিবিদ ৫২’এর ভাষা সৈনিক এ ব্যক্তিটির জীবন জীবিকার বিষয়ে কেউ তেমন একটা খোঁজখবর নেয় না। কথা বলতে গিয়ে একপর্যায়ে বয়োবৃদ্ধ ৯৫ বছর বয়স প্রবীণ এ ব্যক্তিটি কেঁদে ওঠেন। দু’চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়ছে। সমাজে জুলুমবাজ, প্রতিহিংসাপরায়ণ প্রকৃতির লোকজন আজ প্রতিষ্ঠিত। ৫২’এর ভাষা আন্দোলনে অন্যতম নেতৃত্ব দান, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা ও অবদান এবং মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে দেশের খেটে খাওয়া মানুষের জন্য সংগ্রাম করলেও বর্তমান সমাজে কেউ তাকে স্বীকৃতি দেননি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads