• রবিবার, ৭ জুন ২০২০, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads
স্কুলে বায়োমেট্রিক যন্ত্র স্থাপনের নামে হরিলুট

ফাইল ছবি

সারা দেশ

স্কুলে বায়োমেট্রিক যন্ত্র স্থাপনের নামে হরিলুট

  • খায়রুল আহসান মানিক, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১২ মার্চ ২০২০

কুমিল্লার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন স্থাপনের নামে সরকারি টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও মেশিন স্থাপনের নামে ‘স্লিপ গ্র্যান্ড’ নামের স্কুলের ফান্ড থেকে ১৬ থেকে ৩৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। চার-পাঁচ গুণ বেশি দামে এই মেশিন কেনা হয়। এতে কিছু স্থানীয় এমপির লোকজন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষক নেতা জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। কোথাও নয় মাস আগে মেশিন স্থাপন করা হলেও এর ব্যবহার সম্পর্কে শিক্ষকরা কিছুই জানেন না। মেশিনটি সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়নি। মেশিনটির কার্যক্রম না থাকায় শিক্ষকদের উপস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারছে না ঊর্ধ্বতন অফিসগুলো। স্কুলের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক মেশিন কেনার কথা থাকলেও তা ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে-তাদের মতামতের কোনো মূল্য দেওয়া হয়নি। মেশিনের মেয়াদ এক বছর থেকে ১৫ মাস। স্কুলের দেয়ালে ঝুলে তার মেয়াদ নয় মাস শেষ হয়ে গেছে। অনেকগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। জেলার ব্রাহ্মণপাড়ার মনোহরপুর, অলুয়া, পূর্ব চন্ডীপুর, পশ্চিম চন্ডীপুর, আছাদনগর, মগ পুকুরপাড়, বুড়িচংয়ের উত্তর বুড়িচং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে মেশিনগুলো দেয়ালে ঝুলতে দেখা গেছে। সেখানের শিক্ষকরা মেশিনটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সূত্রমতে, জেলার ১৭টি উপজেলায় দুই হাজার ১৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে শুধু সদর উপজেলার প্রায় সব স্কুল সার্ভারের আওতায় এসেছে। অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, তিতাস, হোমনা, দাউদকান্দি, লাকসাম, বরুড়াসহ কয়েকটি উপজেলায় মেশিন ক্রয়ের বিষয়ে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা কেউ মুখ খুলতে চান না। তারা বলেন, সব স্কুল কমিটি জানে। তবে স্কুল কমিটি বলছে, তাদের কিছু জানানো হয়নি। কয়েকজন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, স্থানীয় এমপি ও কর্মকর্তার লোকজনের মেশিন ক্রয়ের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। অবশ্য কয়েকজন কর্মকর্তা অন্য উপজেলায় রাজনৈতিক চাপ ও অনিয়ম দেখে নিজেদের এ ক্রয় কার্যক্রম থেকে সরিয়ে রেখেছেন। কেউ কেউ আবার এই পদ্ধতি তার উপজেলায় চালু করেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার বুড়িচং উপজেলার জয়নাল আবেদীন নামে এক ব্যক্তি মেশিন ক্রয় নিয়ে দুদকে অভিযোগ দিয়েছেন। দুদক আবার এ বিষয়ে জানতে কুমিল্লা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে চিঠি দিয়েছে। জেলার ব্রাহ্মণপাড়ার মনোহরপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক সেলিম তার স্কুলের মেশিনটি চালুর বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবরে দরখাস্ত দিয়েছেন। তিনি দরখাস্তে লিখেছেন, গত অর্থ বছরে মেশিন লাগানোর জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে ১৬ হাজার টাকা দিয়েছেন। কিন্তু মেশিনটি কোনো কাজে লাগছে না। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম ভূঞা বলেন, আমাদের কাছে কোনো কিছু জানতে চাওয়া হয়নি। ওপর থেকে একটি মেশিন চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। চার হাজার টাকার মেশিনে ১৬ হাজার টাকা নিয়েছে। এটা কোনো কাজ করছে না। একটা পেনড্রাইভ ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা ছিলো। তারও কোনো খবর নেই। মেশিনটা অচল অবস্থায় নয় মাস ধরে পড়ে আছে। এতে সরকারের ডিজিটাল কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। ব্রাহ্মণপাড়া শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম মুন্সী বলেন, মেশিনের সমস্যা হলে দূরের লোকজনকে পাওয়া যাবে না। তাই কাছের লোকজন মেশিন সরবরাহ করেছে। এখনো মেশিনটি সার্ভারে সংযুক্ত হয়নি। ১০৮টি স্কুলে মেশিন সরবরাহকারীদের একজন সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি উজ্জ্বল চন্দ্র শীল বলেন, আমি একা নই। মমিনসহ কয়েকজন মেশিন দিয়েছি। আমি ১৬ হাজার করে নিয়েছি। অন্যদের বিষয়ে বলতে পারব না।

মেশিন সার্ভারে সংযুক্ত ও শিক্ষকদের ট্রেনিং দেওয়ার তিনি বলেন, মেশিন দিয়েছি। এক দিনের একটা প্রশিক্ষণ করতে পারি। নেট নাই- তাই সার্ভারে কানেক্ট হবে না। তারা পেনড্রাইভে করে তাদের হাজিরা উপজেলায় দিয়ে যাবে। পেন ড্রাইভ দেওয়ার বিষয়ে বলেন, আমরা দিবো, না হয় তারা ক্রয় করবে। একটা ব্যবস্থা তো হবে।

দাউদকান্দি শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, এগুলো আমরা জানি না। স্কুল কমিটি নিজেরা মেশিন ক্রয় করেছে। ইলিয়টগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম মিয়া সরকার বলেন, মেশিন আমরা ক্রয় করিনি। তবে অন্য উপজেলায় যেভাবে হয়েছে- আমাদের এখানেও সেভাবে হয়েছে। আমরা চাকরি করি। তাই বিস্তারিত কিছু বলতে পারব না।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, শুধু সদরের অধিকাংশ স্কুল সার্ভারের আওতায় এসেছে। স্কুল কমিটির মেশিন ক্রয়ের নিয়ম রয়েছে। কয়েকটি উপজেলায় অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। সেগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads