• রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২ আশ্বিন ১৪২৭
ads
লেবাননে বিস্ফোরণে নিহত কালকিনির মিজানুরের লাশ দেশে আনতে চায় পরিবার

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

লেবাননে বিস্ফোরণে নিহত কালকিনির মিজানুরের লাশ দেশে আনতে চায় পরিবার

  • কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ০৬ আগস্ট ২০২০

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার শিকারমঙ্গল ইউনিয়নের কাজীকান্দি গ্রামের লেবাননের বিস্ফোরণে নিহত মিজানুর রহমান খানের (২৫) এর বাড়িতে বইছে শোকের মাতম। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বড় সন্তানকে হারিয়ে পুরো পরিবারসহ গ্রামের মানুষ এখন নিস্তদ্ধ হয়ে পড়েছে।

বুধবার বিকেলে নিহতের বাড়ি গিয়ে জানা গেছে, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে লেবাননের বৈরুত শহরে যায় মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার শিকারমঙ্গল ইউনিয়নের কাজীকান্দি গ্রামের জাহাঙ্গীর খানের ছেলে মিজানুর রহমান খান। সেখানে একটি হোটেলে চাকরি করতেন মিজান। মঙ্গলবার লেবাননে বোমা বিস্ফোরণে মারা যায় মিজানুর। দেশের বাড়িতে মিজানুরের মারা যাওয়ার খবর আসলে পুরো পরিবারসহ গ্রামের মানুষ শোকে নিস্তদ্ধ হয়ে পড়ে। ঢাকায় একটি কারখানায় মিজানুরের মা চাকরি করে কিছু টাকা জমায়। এছাড়া আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার দেনা করে এবং দুই লাখ টাকা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মোট ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে মিজানুর লেবাননে যায়। পরিবারের সদস্যদের একটু সুখের আশায় লেবননে পাঠানো হয় মিজানুরকে। ভাই-বোনের মধ্যে মিজানুর সবার বড়। মিজানুররা তিন ভাই ও এক বোন। তার স্ত্রী ও তিন বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। ঢাকায় কারখানায় কাজ করা অবস্থায় মিজানুরের মায়ের দুই হাতের ৬টি আগুল পুড়ে যায়। তিনি এখন অসুস্থ্য অবস্থায় গ্রামের বাড়িতেই থাকছেন। বাবা কৃষি কাজ করে কোন মতে পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে আছে।

নিহতের চাচা হোসেন বারবার মূর্ছা গিয়ে বলেন, আমার ভাতিজা মিজান তার পরিবারের স্বপ্নপূরণের জন্য লেবানন গিয়েছিল। তারপর থেকে সংসার ভালোই চলছি। কিন্তু একটি দুর্ঘটনায় আমাদের সবার স্বপ্ন আজ মিথ্যা হয়ে গেল। আমরা মিজানের লাশ দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত চাই।

নিহত মিজানের বৃদ্ধ বাবা জাহাঙ্গীর খান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি কিছুই চাই না। শুধু আমার ছেলের লাশ চাই।

এ ব্যাপারে কালকিনি থানার ওসি মো. নাছিরউদ্দিন মৃধা বলেন, এ ব্যাপারে আমি জেনেছি। ঘটনাটা অনেক দুঃখজনক।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads