• শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ১৬ কার্তিক ১৪২৭

সারা দেশ

‘ইকবাল চেয়ারম্যানকে হয়রানি করতেই মিথ্যা মামলা’

  • কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

বাংলাদেশ ডক ইয়ার্ড অ্যান্ড শিপ ইয়ার্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও শুভাঢ্যা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে কেরানীগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড শিপইয়ার্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় কেরানীগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি করেন।

লিখিত বক্তব্যে ডকইয়ার্ড ও শিপইয়ার্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং শুভাঢ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন বলেন, মিরেরবাগে ভাড়াটিয়া একজন মহিলা স্থানীয় কয়েকজনকে নানা ধরনের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছে বলে তাদের কাছে অভিযোগ আসছে। বিষয়টি তখন খুব একটা গুরুত্ব না দিয়ে তাদেরকে মীমাংসা করতে বলি। কিন্তু ওই নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাল্লাটা দিনের পর দিন ভারী হতে থাকে। প্রতারণাকারী ওই নারীর নাম আমি জানতাম না। কিন্তু নির্যাতিত একজন নারী যখন সরাসরি আমার কাছে ঐ নারীর বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেলিংয়ের অভিযোগে বিচার দাবি করেন। তখন জানতে পারি ওই নারীর নাম মাহমুদা। মাহমুদা ইতিমধ্যে আমার ইউনিয়নের খেজুরবাগ এসপি মসজিদের পাশে একজনকে ব্ল্যাকমেইল করে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন এবং একই এলাকায় শিল্পী নামে পরিচয় দিয়ে রাসেল, রমজান ও জয়নাল নামের তিন যুবকের কাছ থেকে ব্ল্যাকমেইল করে আরো ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। মাহমুদার এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে খেজুরবাগ কানাপট্টির বাসিন্দারা তাকে ওই এলাকা থেকে বিতাড়িত করেন । এরপর তিনি আমার ইউনরয়নেরই মিরেরবাগ এলাকায় ভাড়া বাসায় উঠে। সেখানকার মানুষদের সাথেও তিনি প্রতারনা শুরু করে । তার কর্মকাণ্ড দেখে বাড়ির মালিক বাসা ছেড়ে দিতে বললে মাহমুদা ওই বাড়িওলাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন।

ইকবাল চেয়ারম্যান লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, এ ধরনের অসংখ্য অভিযোগ আমার কাছে আসতে থাকলে আমি বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ কে অবহিত করি। আমি পরবর্তীতে প্রতারণাকারী মাহমুদাকে আমার অফিসে আসতে বলি। মাহমুদা আমার অফিসে আসলে আমি তার সাথে এ সব প্রতারণা নিয়ে আলোচনা করে এক পর্যায়ে তার কাছে জানতে চাই যে, আপনি ফার্স্ট ফাইন্যান্স ব্যাংকের এমডি তুহিন রেজার নামে যে মামলা দিয়েছেন। আপনি তাকে চেনেন?  মাহমুদা বলেন, আমি দেখলে চিনতে পারবো । পরে মাহমুদাকে তুহিন রেজার কাছে নিয়ে গেলে তিনি তাকে চিনতে পারেননি। তাহলে কেন এমন মিথ্যা মামলা দিয়েছে জানতে চাইলে মাহমুদা জানান, স্থানীয় সোহেল ও সেলিমের প্ররোচনায় তিনি এসব করছেন। পরে আমরা এই মহিলার সম্পর্কে জানতে গিয়ে পাই তাদের সাথে আরও রয়েছে সুজন, নুরুল ইসলাম, সোহেল, সাথী, রেখা,নাজমা, পারুল, মেহেদী, রিপন, মোহনা ও বিলকিসসহ আরো অনেকে। তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা ও কেরানীগঞ্জ সহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তখন বিষয়টি ভালোভাবে তদন্ত করার জন্য আমি দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সাহেব জানাই। ওসি সাহেব বিষয়টি ইকুরিয়া ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক শাহাদাতকে দায়িত্ব দেন। এরপর প্রতারণাকারী মাহমুদা পরিদর্শক শাহাদাতের সাথে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আদালতে উপস্থিত হয়ে ২২ ধারায়  জবানবন্দি দেন। এ ঘটনার প্রায় এক মাস পর আমি জানতে পারি ওই নারী আমার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযোগ করেছেন আমি নাকি তাকে অপহরণ করেছি যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট একটি গল্প। আসন্ন উপনির্বাচনকে সামনে রেখে একটি কুচক্রি মহল আমার জনপ্রিয়তায় হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য প্রতারণাকারী ওই নারীকে ব্যবহার করছে। তারা জনগণের কাছে আমাকে ছোট করতে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রতারনার আশ্রয় নিয়েছেন। আমি এ ইউনিয়নের দু’দুবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। আমি গণমাধ্যম বন্ধুদের কাছে এই মিথ্যা মামলার সুষ্ঠু বিচারের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

সংবাদ সম্মেলনে জিনজিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাকুর হোসেন সাকু সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ডকইয়ার্ড এন্ড শিপইয়ার্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এর সাধারন সম্পাদক মাসুদ হোসেন পলাশ, আওলাদ ডকইয়ার্ড এর মালিক প্রিন্স আওলাদ, ব্রাদার ডকইয়ার্ড এর মালিক শাহ আলম বাহাদুর, মদিনা ডকইয়ার্ড এর মালিক মো: বাসারসহ বাংলাদেশ ডকইয়ার্ড এন্ড শিপইয়ার্ড ওনার্সের অন্যান্য মালিকেরা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads