• বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
মহাবিপন্ন পদ্মার ঘড়িয়াল সাফারি পার্কে মুক্ত

ছবি : বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

মহাবিপন্ন পদ্মার ঘড়িয়াল সাফারি পার্কে মুক্ত

  • রেজাউল করিম সোহাগ, শ্রীপুর
  • প্রকাশিত ২২ অক্টোবর ২০২০

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা সাহাপাড়া গ্রামের জেলে  বাদশা মিয়া পদ্মা নদীতে মাছ ধরছিলেন। এমন সময় তার জালে ধরা পড়ে মহাবিপন্ন সরীসৃপ মিঠা পানির একটি ঘড়িয়াল। পরে তিনি সেটি পাশের একটি বাজারে বিক্রির প্রস্তুতি নেন। মহাবিপন্ন ঘড়িয়াল বিক্রি হচ্ছে এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষক। পরে এটি বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের নজরে আসে। পরে দ্রুত উদ্ধারে কাজ শুরু করে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট। ঘড়িয়ালটি উদ্ধারের পর গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে গতকাল বুধবার রাতে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের সদস্যরা। রাজবাড়ির পাংশা উপজেলার শাহাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক আবদুল্লাহ আস সাদীক জানান, জেলের জালে আটকা পড়া ঘড়িয়াল বিক্রির প্রস্তুতি চলছে এমন খবর আসে জহির আকন স্যারের (পরিচালক) কাছে। পরে দ্রুত উদ্ধারের নির্দেশ দেন তিনি। ঘড়িয়ালটি দ্রুত উদ্ধারে ব্যবস্থা করি। বাজারে ঘড়িয়ালটির দাম হাকা হয়েছিল ৩০ হাজার টাকা। প্রথমে সাবাসপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল আলীমের মাধ্যমে ঘড়িয়ালটি জেলের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ফরিদপুর সামাজিক বন কার্যালয়ের ঘড়িয়ালটি নেওয়া হয়। এর পর বুধবার দুপুরে পাটুরিয়া ঘাটে আমাদের কাছে ঘড়িয়ালটি হস্তান্তর করেন ফরিদপুর সামাজিক বন বিভাগের লোকজন।

সরীসৃপবিদ (বন বিভাগ) সোহেল রানা বলেন, জেলের জালে ঘড়িয়াল ধরা পড়েছে এমন খবরটি প্রথমে বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো স্যারের নজরে আসে। পরে সেটি উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনে নির্দেশ দেন তিনি। সোহেল বলেন পদ্মা নদীতে জেলের জালে ধরা পড়ায় ঘড়িয়ালটি পুরুষ। এটা মিঠা পানির ঘড়িয়াল। ঘড়িয়াল পৃথিবীব্যাপী মহাবিপন্ন প্রাণী। তিনি জানান, এর দৈর্ঘ্য ৪ ফিট, ওজন আনুমানিক ১৫ কেজি। বয়স ১১ থেকে ১২ মাস হতে পারে।

সাফারি পার্কের ওয়াইল্ড লাইফ সুপার ভাইজার আনিসুর রহমান বলেন, ঘড়িয়ালটিকে আমরা গ্রহণ করে পার্কে নির্দিষ্ট স্থানে রেখেছি। এটি মিঠা পানির প্রাণী। খুব শান্ত ও নিরীহ প্রকৃতির প্রাণী ঘড়িয়াল। 

সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. তবিবুর রহমান বলেন, উদ্ধার হওয়া এটি নিয়ে পার্কে মোট সাতটি ঘড়িয়াল হলো। এদের মধ্যে ৬টি পুরুষ ঘড়িয়াল। আর একটি নারী ঘড়িয়াল। ঘড়িয়ালগুলো বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধারের পর সাফারি পার্কে নিরাপদ বেষ্টুনিতে অবমুক্ত করা হয়। ঘড়িয়াল মহাবিপন্ন প্রাণীর তালিকাভুক্ত মিঠা পানির নিরীহ প্রাণী। 

বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক জহির উদ্দীন আকন জানান, রাতে যখন খবর আসে একটি ঘড়িয়াল জেলের জালে আটকা পড়ার পর বিক্রির প্রস্তুতি চলছে তখন আমরা ওখানকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করি। পরে দ্রুতই ঘড়িয়ালটি উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, আমরা নিয়মিত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যপ্রাণী সংরক্ষনে কাজ করছি। এ সময় সাধারন মানুষদেরও সম্পৃক্ত করছি এ কাজে। তিনি বলেন এখন আগের তুলনায় মানুষ বন্যপ্রাণী বিষয়ে  অনেক সচেতন হচ্ছে। দেশের যে কোনো স্থানে আটকা পড়া বা বিপদগ্রস্থ কোনো বন্যপ্রাণীকে দ্রুত উদ্ধার কাজে নেমে পড়ে বন্যপ্রাণী দমন ইউনিট। উদ্ধারের পর নিরাপদে অবমুক্ত করা হয় প্রাণীদের। এ উদ্ধার কর্মকাণ্ড গুলো বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন পুরো ইউনিটের সমন্বিত উদ্যাগে সফলতা পায়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads