• শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি ২০২১, ৮ মাঘ ১৪২৭
পৌরসভার রাস্তার ইট তুলে বিক্রি করে দিল কাউন্সিলর!

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌরসভায় রাস্তার ইট তুলে বিক্রি করেছেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর। ডানে বিক্রিকৃত ইট

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

পৌরসভার রাস্তার ইট তুলে বিক্রি করে দিল কাউন্সিলর!

  • মো. নাবি-উল হক লোটাস, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর)
  • প্রকাশিত ২৭ নভেম্বর ২০২০

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে প্রায় চার মিটার রাস্তার ইট তুলে সস্তা মূল্যে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, বেশ কয়েকবছর আগে ঘোড়াঘাট পৌর ভবনের ধার ঘেঁষে ঘাটপাড়া যাবার রাস্তাটি ইট দিয়ে কার্পেটিং করেছিল পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি রাস্তাটির ধার দিয়ে বন্দরের পানি প্রবাহের জন্য একটি লোকাল ড্রেনও নির্মাণ করেছিল তারা। ড্রেনটির মাধ্যমে শহরের পানি সরাসরি করতোয়া নদীতে গিয়ে পড়ত। এই রাস্তাটি দিয়ে নিয়মিত কয়েকশত লোকের যাতায়াত। তবে কোন ধরনের টেন্ডার বা চুক্তি ছাড়াই শ্রমিকদের মাধ্যমে রাস্তার ইট তুলে সস্তা মূল্যে বিক্রি করে দিয়েছেন ঘোড়াঘাট পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাহেব আলী।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রাস্তাটিতে মাটি ফেলছেন শ্রমিকরা। আর রাস্তার ধার ঘেঁষে জলবায়ু ট্রাষ্ট ফান্ডের অর্থায়নে আরসিসি ড্রেন তৈরি করছে নির্মাণ শ্রমিকরা। আবার এই রাস্তার পাশ দিয়ে থাকা বেশ কয়েকটি বাড়ির ভিতরে পুরাতন ইট দেখা যায়। স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করে জানান, গত এক সপ্তাহ যাবত ইট গুলো রাস্তা থেকে তুলে সাহেব কমিশনার সাড়ে ৩ হাজার টাকা হাজার মূল্যে ঘাটপাড়া গ্রামের লিটন মিয়ার কাছে ১৮০০ পিচ, মঞ্জু বিডিয়ারের কাছে ৪০০০ পিচ, জাহানারা বেগমের কাছে ১০০০ পিচ, সুলতানা এবং মৌলিদা বেগমের কাছে ২০০০ পিচ ইট বিক্রি করেছে।

স্থানীয়রা আরো জানান, এর আগেও রাস্তাটি থেকে অনেক গুলো ইট তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে সেই ইট গুলো স্থানীয় কারো কাছে বিক্রি করা হয়নি। রাস্তা থেকে ইট তোলা এবং রাস্তায় মাটি ফেলার সময় পৌর মেয়র আব্দুস সাত্তার মিলন একাধিবার রাস্তাটি পরিদর্শন করেছেন।

ইট ক্রয়কারী অবসর প্রাপ্ত বিজিবি সদস্য মঞ্জু মিয়া বলেন, স্বল্প মূল্যে ইট কেনার জন্য আমাকে অফার দিয়েছিল। আমি ৪ হাজার ইট কিনেছি এবং এর সমুদয় অর্থ কাউন্সিলরকে দিয়েছি। জন্মের পর থেকে দেখে আসলাম সড়কের উন্নয়ন হয়। কিন্তু আজ অনুন্নয়ন দেখলাম। জনপ্রতিনিধিরা মাটির উপরে ইট বিছায়। আর আমাদের জনপ্রতিনিধি ইট তুলে মাটি ফেলছেন।

ইট ক্রয়কারী স্থানীয় আরেক মহিলা জাহানারা বেগম বলেন, আমি রাস্তা থেকে তোলা এক হাজার ইট কাউন্সিলরের কাছে থেকে কিনে নিয়েছি। সাড়ে তিন হাজার টাকা চেয়েছিল। আমি আমার ভাইরের মাধ্যমে ৩ হাজার টাকা কাউন্সিলরকে দিয়েছি।

ইট ক্রয়কারী লিটন মিয়া বলেন, আমাকে প্রথম সব গুলো ইট কেনার জন্য বলেছিল। কিন্তু সরকারী রাস্তার ইট বলে আমি কিনে নেইনি। কিন্তু পরে দেখলাম অনেক স্থানীয় লোকজন ইট গুলো কাউন্সিলরের কাছে থেকে কিনে নিচ্ছে। পরে আমিও ১৮‘শ ইট কিনে নিয়েছি।

ইট বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাহেব আলী বলেন, ওই রাস্তায় কোন ইট ছিল না এবং কারো কাছে বিক্রিও করা হয়নি। রাস্তাটিতে মাটি ফেলা হচ্ছে। রাস্তার পাশে পুরাতন লোকাল একটি ড্রেন ছিল। এই ড্রেনের ইট ঠিকাদারেরা তুলেছে।

ইট বিক্রির বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে পৌর মেয়র আব্দুস সাত্তার মিলন জানান, ওই সড়কের কোন কাজের জন্য কোন প্রকার টেন্ডার হয়নি। রাস্তার পাশে পুরাতন একটি ড্রেন ছিল। সেই ড্রেনের ইট স্থানীয় লোকজন বিভিন্ন সময় নিয়ে গেছেন। রাস্তাটির উন্নয়নের জন্য রাস্তাটিতে একশ ট্রলি মাটি ফেলা হচ্ছে।

এ দিকে রাস্তার ইট ক্রয় বিক্রয় সম্পর্কে সাংবাদিকের কাছে স্থানীয় লোকজন বক্তব্য দিচ্ছে শুনে কাউন্সিলর সাহেব আলী ও তার স্ত্রী সহ ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন ভাবে লোকজনকে গালিগালাজ করে। গালিগালাজের এক পর্যায়ে কাউন্সিলর সাহেব আলী বলেন, “এগলা টেকা কি হামি একলাই খাই। আরো ভাতার আছে! তার হেরেকও দেওয়া লাগে। প্রথমে যখন ইট তুলে নিয়ে গেছে, তখন হামি নিজেও বাঁধা দিছি। পরে হামার উপর মহলের লোক ফোন করছে। তার পর হামি ছাড়া দিছি। যখন ইট তুলে বিক্রি করা হছে, তখন তোমরা বাঁধা দেবার পারেননি।”

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads