• মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ৫ মাঘ ১৪২৭
আখাউড়ায় শীত জনিত রোগ বাড়ছে

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

আখাউড়ায় শীত জনিত রোগ বাড়ছে

  • আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৮ নভেম্বর ২০২০

শীত বাংলাদেশের প্রকৃতির এক অন্যতম ঋতু। ধীর ধীরে জেকে বসতে শুরু করেছে শীত। আছে হিমেল বাতাসও। শীত জেকে বসতে শুরু করায় বাড়ছে নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগবালাইও।

গত এক সপ্তাহে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় অন্তত ৪ শতাধিক লোক শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এসব রোগীর মধ্যে বেশীভাগই রয়েছে শিশু ও বৃদ্ধ। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে। এরমধ্যে অর্ধশতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা নিয়েছে। বর্তমানে ভর্তি আছে এখনো অন্ত:ত ১০ জন শীত জনিত রোগী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে , গত এক সপ্তাহ ধরে হঠাৎ করে পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শতি জেকে বসেছে। হিমেল বাতাস থাকার কারনে দরিদ্র,দিনমজুর, ছিন্নমুল,অসহায় হতদরিদ্র লোকজনের দূর্ভোগ পোহাতে হয়। শীতের প্রকোপ দিন দিন বেড়ে যাওয়ার ফলে নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি ও ডায়রিয়াসহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগ দেখা দিয়েছে। এসব রোগীর মধ্যে শিশু ও বয়বৃদ্ধের সংখ্যাই বেশী।

প্রতিদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের আক্রান্ত হওয়া রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিতে আসছেন। হাসপাতালে বিভিন্ন চিকিৎসকদের চেম্বারেও দেখা যায় শিশু রোগী নিয়ে আসা অভিভাবকদের ভিড়। তবে সচ্ছল ব্যক্তিরা জেলা সদরে চিকিৎসা নিলেও রীতিমতো বিপাকে পড়ছেন গরিব ও অসহায় রোগীর স্বজনরা।

মনিয়ন্দ থেকে আসা সানজিদা আক্তার বলেন, গত দুই দিন ধরে ফাতেমা আক্তার নামে তার ১১ মাস বয়সী মেয়ে ডায়রিয়া আক্রান্ত হন। প্রাথমিক ভাবে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষধ নিয়ে খাওয়ার পর ও না কমায় তাকে এখানে নিয়ে এসে ভর্তি করানো হয়। এখন আগের চেয়ে তার অবস্থা অনেকটাই ভালো।

আমোদাবাদ থেকে আসা রিফাত মিয়া বলেন, তার মেয়ে জান্নাত (৩) কয়েক দিন ধরে ঠান্ডা ও জ্বরে আক্রান্ত। পল্লী চিকিৎসক দেখিয়ে ওষধ খাওয়ানো হয়েছে। কিন্তু ভালো না হওয়ায় এখানে নিয়ে এসে ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসা সেবা নেওয়া হয়।
গৃহিনী মোছা: লিমা আক্তার বলেন, তার ছোট মেয়ে সিফা আক্তার(১০) ডায়রিয়া আক্রান্ত হওয়ায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। ডাক্তার বলছেন বড় কোন সমস্যা হয়নি। আগের থেকে অনেক ভালো আছে বিকালের মধ্যে তাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া যাবে জানায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শ্যামল চন্দ্র ভৌমিক বলেন, প্রতিদিন হাসপাতালে নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়া অন্ত:ত ৫০-৬০ জন শিশু চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি নেই।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুর রহমান বলেন, ধীরে ধীরে শীত বাড়তে থাকায় শিশুসহ বয়স্কদের রোগ বাড়ছে। এটি এক ধরনের সিজনালি বিষয়। প্রতি বছরই ঋতু পরিবর্তন হলে শিশু রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। আগের তুলনায় গত কয়েক দিনে ২০ শতাংশ শিশুরোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সাধ্যমতো আগত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads