• রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭
হারুন গাছির সংসারের চাকা সচল

ছবি: বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

হারুন গাছির সংসারের চাকা সচল

  • আব্দুস সালাম, দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা)
  • প্রকাশিত ১৭ জানুয়ারি ২০২১

তখনো ভোরের সূর্য ওঠেনি। হারুন গাছি খেজুরগাছ থেকে হাঁড়িতে করে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরির জ্বালার ওপর রস ঢালছে। হঠাৎ খুক খুক করে কাশতে থাকে হারুনগাছি। বয়স গড়িয়ে গেছে ৫০ বছরের কোটায়। এখন চাঙা নিজেই খেজুরগাছ কেটে, গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে নিজেই গুড় তৈরিতে। ঠান্ডা লেগে কাশির বেরামটা বেড়েছে। হাসপাতালে গিয়ে কটা বড়ি আনবেন সে সুযোগ নেই তার। সেই কার্তিকের শেষ থেকে ভোরে উঠে গাছ খোলা। রস জ্বালিয়ে গুড় তৈরির করতে ঠান্ডা লেগেছে। এর মধ্যে অনেকে এসে কেউ মিয়া ভাই, কেউ চাচা বলে ডেকে জিরেন রস খাবে বলে বসে আছে। হারুনগাছি আঙুল দিয়ে রসের ভাঁড় দেখিয়ে বলে এ ভাঁড় থেকে রস নিয়ে খাও। যে যার মতো রস খেয়ে জ্বলন্ত আগুনের বাইনে হাত ছেঁকে সবাই চলে গেল। তিনি শীত এলেই খেজুরের গাছ কেটে গুড় তৈরির এই কাজটি করছেন ১৬ বছর ধরে। শীতে এই কাজ করে সংসারের বাড়তি আয়ের চাকা সচল রেখেছেন তিনি। প্রতিবছর শীত মৌসুমে গুড় তৈরি করে যা আয় হয়-তা দিয়ে চলে স্বাচ্ছন্দ্যে তার সংসার।

উপজেলার চিৎলা গ্রামের রহিম মন্ডলের ছেলে হারুন বলেন, বাপ-দাদারা কৃষি পরিবারের ছেলে। বাবার হাত ধরে নানা কৃষিকাজের পাশাপাশি এ কাজ শেখা। ১৬ বছর ধরে খেজুরগাছ কেটে গুড় তৈরি করছি। বিবাহিত জীবনে রয়েছে স্ত্রীসহ সন্তান। চিৎলা গ্রামের হরিতলা মাঠে নিজের ৩০টি খেজুরগাছ রয়েছে। এসব খেজুরগাছ পালা করে কেটে রস সংগ্রহ করে রস জ্বালিয়ে গুড় তৈরি করি। প্রতিদিন গড়ে ৮/৯ কেজি গুড় তৈরি হয়। গুড় বিক্রি করতে ছুটতে হয় না।

গুড়ের তৈরির পর সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি হয়ে যায়। প্রতি কেজি গুড় ১০০ টাকা দরে বিক্রি করি। যাদের গুড় দরকার হয় তারা আগাম বায়না দিয়ে যায়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads