• বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ২ বৈশাখ ১৪২৭
রাত পোহালেই স্বপ্ননীড়ে যাবে ৪৫ গৃহহীন পরিবার

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

রাত পোহালেই স্বপ্ননীড়ে যাবে ৪৫ গৃহহীন পরিবার

  • আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২২ জানুয়ারি ২০২১

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীন ৪৫টি পরিবার রাত পোহালেই যাবে তাদের জন্য নির্মাণ করা ‘স্বপ্ননীড়ে’। উপকারভোগীদের ঘরে ঘরে চলছে যেন ঈদ আনন্দ। নতুন ঘর নিয়ে সবাই ব্যস্ত সময় পার করছেন। শনিবার ভূমিহীনদের জন্য স্বপ্নের ঠিকানা পাকা ঘরগুলো উদ্ধোধন হবে জেনে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠেছে উপকারভোগী গৃহহীনরা। ওইসব গৃহহীনদের মধ্যে কেউ কেউ মিলাদ ও দোয়া করে প্রধানমন্ত্রীর সুস্থ্যতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরে-এ আলমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে উপজেলার মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চর নারায়নপুর মৌজায় সরকারি খাস জমিতে ৪৫টি পরিবারের জন্য গৃহ নির্মাণ  করা হয়।

প্রতিটি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য থাকছে দুই কক্ষ বিশিষ্ট আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত এসব ঘর। চৌচালা বিশিষ্ট রঙিন টিনের ঘর, প্লেন শিটের জানালা, ও দরজা, ইটের দেয়াল,এবং পাকা মেঝে রয়েছে। দুই কক্ষবিশিষ্ট প্রতিটি আধাপাকা ঘরের নির্মাণ ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। সবগুলো বাড়ি সরকার নির্ধারিত একই নকশায়  করা হচ্ছে। রান্নাঘর, সংযুক্ত টয়লেট, টিউবওয়েল, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য সুবিধা থাকছে এসব বাড়িতে।

সরেজমিনে দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, তালিকাভুক্ত উপকারভোগীরা তাদের নতুন ঘরে পরিচর্যা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ ফুলের চারা কেউ বা সবজি ফল আবাদ করছেন। আবার কেউবা ঘর পরিস্থার পরিচ্ছন্ন করছে। শনিবার তাদের প্রতিক্ষিত ঘরে উঠবে বলে সবার কাছে যেন ঈদের আনন্দ মনে হচ্ছে।

উপজেলার বনগজ গ্রামের বিধবা ফাতেমা আক্তার বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে অন্যের বাড়িতে কাজ করে থাকতাম। বাড়িঘর বলতে কিছুই নেই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ঘর পেয়ে তিনি খুবই খুশি।

বিধবা মাজেদা বেগম বলেন, তার ১ ছেলে ২ মেয়ে রয়েছে। মানুষের কাছে হাত পেতে যা পাওয়া যেতো তাই দিয়ে তার জীবন চালাতে হতো। থাকার মতো কোনো ঘর ছিল না। অন্যের বাড়িতে ভাঙ্গা ঘরে থাকতে হতো। বর্ষাকালে ঘরে পানি পড়তো। আর শীতকালে হিমেল হাওয়ায় ঘরে ঘুমাতে পারতাম না। জীবনের শেষ বয়সে এসে তিনি পাকা ঘরে থাকতে পারবে কখনো কল্পনাও করেনি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার স্বপ্ন পুরন করেছে। 

তিনি আরো বলেন, আমার মাথায় যত চুল আছে আল্লাহ যেন তাকে নেক হায়াত দান করে এবং সুস্থ্যতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

মোগড়া ইউপির ধাতুরপহেলা গ্রামের লিটন মিয়া বলেন, তার ১ ছেলে ২ মেয়ে রয়েছে। বয়স বাড়ায় এখন কাজকর্ম করতে পারছেন না তিনি। জায়গা জমি না থাকায় অন্যের বাড়িতে থাকতে হতো। অন্যের বাড়িতে কোন কিছু করা যায় না। পাকা বাড়িতে থাকবো এখন স্বপ্নের মতো লাগছে। প্রধানমন্ত্রীর আমাদের জমি, ঘর, বিদ্যুৎ টিউবওয়েল দিয়েছেন । এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুস্থ্যতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে মসজিদে দোয়া করিয়েছেন।  ঘর পেয়ে তিনি খুবই খুশি।

উপজেলার বনগজ গ্রামের মো. কাদির হোসেনের স্ত্রী রোকেয়া বেগম বলেন  আমরা নিতান্তই অসহায় ভূমিহীন গরিব মানুষ। সামান্য আয়ের সংসার। ভাঙ্গাচুরা ঘরে খেয়ে না খেয়ে কোন রকম দিনানিপাত করছি। শীতের সময় ঘর ভাঙ্গা চুরা থাকায় রাতে খুবই শীত করে। তাছাড়া বৃষ্টির সময় সামান্য বৃষ্টিতেই টিনের ছিদ্র দিয়ে ঘরে বৃষ্টি  পড়ায় খুবই কষ্ট করতে হয়। আমরা কী কখননো আয় রোজগার করে বাড়িঘর করতে পারতাম। তাছাড়া কোনোদিন স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে একটা পাকা ঘর দেবেন। প্রধানমন্ত্রী যে কথা বলে সে কথা রাখে। কথা অনুযায়ী তিনি   গরিবদের দিকে তাকিয়েছেন। আল্লাহ তাকে সুস্থ রাখুক। তিনি যেন অনেক দিন বেঁচে থাকেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগসহনীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের সেমিপাকা ঘর বরাদ্দ পেয়ে মুখে হাসির ঝিলিক নিয়ে রোকেয়া বেগম এভাবেই তার অনুভূতি প্রকাশ করেন।

রোকেয়ার  স্বামী ভূমিহীন মো. কাদির হোসেন ভ্রাম্যমান ক্ষুদ্র চটপটি বিক্রেতা।  সংসারে তার ছোট দুই ছেলে রয়েছে।  দীর্ঘদিন ধরেই বনগজ এলাকায় একটি বাড়িতে কোন রকমে দিন পার করছেন। একই গ্রামের ভূমিহীন মৃত মন মিয়ার স্ত্রী ফাতেমা বেগম,মোগড়া ইউপির নুরু মিয়া সহ বেশ কয়েকজন গৃহহীন অসহায় পরিবার ঘর বরাদ্দ পেয়ে সবাই অনেক খুশি।

ইউএনও’র সার্বিক তত্বাবধানের পাশাপাশি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবুল কাশেম ভূইয়া, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাপস চক্রবর্তী, মোগড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা দফায় দফায় গৃহ নির্মাণ কাজ পরিদর্শনসহ নিয়মিত খোঁজ খবর  রাখেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরে-এ আলম  বলেন, এ উপজেলার মোট ৬৫১টি ভূমিহীনদের তালিকা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ৪৫ টি পরিবার পাচ্ছে ভূমি ও ঘর। এসব ঘরের নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। শনিবার উপকারভোগী ওইসব পরিবারের নিকট গৃহ হস্তান্তরের কার্যক্রম ভিডিও কনফারেন্সের শুভ উদ্ধোধন  করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।   পর্যায়ক্রমে বাকীঘরগুলো নির্মাণ করা হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads