• বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২ ফাল্গুন ১৪২৭
কামিনী পাতায় বেঁচে থাকার অবলম্বন

ছবি: বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

কামিনী পাতায় বেঁচে থাকার অবলম্বন

  • আব্দুস সালাম, দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা)
  • প্রকাশিত ২৫ জানুয়ারি ২০২১

‘বিদেশ থেকে দেশে ফিরে বেকার হয়ে বসে ছিলাম। গ্রামের চায়ের দোকানে আড্ডা মেরে দিন কাটত। বেকারত্ব কাটাতে নানা চিন্তাভাবনা করে বেঁচে থাকার অবলম্বন খুঁজছিলাম। তখন দেখা হলো গ্রামের ব্লক সুপারভাইজার সাইফুলের সঙ্গে। তিনি লাভ-লোকসানের হিসাব করেই দীর্ঘ মেয়াদের ফসল কামিনী পাতার চাষ করতে বলেন। তার পরিকল্পনায় নিয়ে মাঠে নেমে কামিনী পাতার চাষ শুরু করি। এ চাষে প্রথমে লোক হাসাহাসি করলেও এখন একটু একটু করে প্রায় পৌঁছে গেছি মূল লক্ষ্যে। উৎপাদন শুরু হয়েছে। এ আবাদে খরচ নেই। তাই লোকসানের তার ভয় নেই। বেকারত্ব দূর করতে উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে প্রথম শুরু করেছি কামিনী পাতার চাষ করে। আর সেই আমি বেকারত্ব দূরে ঠেলে কামিনী পাতায় বেঁচে থাকার অবলম্বন খুঁজে পেয়েছি।’

কথাগুলো উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের ঠাকুরপুরপাড়ার মৃত মোবারক হোসেনের ছেলে মহিদুর রহমানের।

তিনি বলেন, কামিনীর ফুল নয়, শুধু ডালপাতা বিক্রির জন্য বাণিজ্যিকভাবে এ চাষ শুরু করেছি। নিজের দুই বিঘা জমিতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকতা সাইফুল ইসলামের পরামর্শে চারা সংগ্রহ করে গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে এ চাষ শুরু করি। এসব গাছের বয়স মাত্র ৯ মাস। ইতোমধ্যে গাছের অগ্রভাগের ডালপাতা কেটে, গোছা করে ৩০/৪০ টাকা আটি দরে বিক্রি করা হয়েছে। এটি দীর্ঘমেয়াদি চাষ। অন্যান্য চাষের তুলনায় খরচ কম। রোগ বালাই নেই বললেই চলে, পরিচর্যা লাগে কম। বছরে গাছ থেকে কয়েকবার ডালপাতা সংগ্রহ করা যায়। বিয়ের বাড়ি সাজাতে, গুণিজনদের বরণ ও শ্রদ্ধা জানাতে, জন্মদিনের অনুষ্ঠান, পূজা-পার্বণ, জাতীয় দিবস, সভা-সমিতি ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ফুলের সঙ্গে ব্যাপক বেড়েছে কামিনী পাতার ব্যবহার, যা চোখে পড়ার মতো। অনেকটা যেখানেই ফুল সেখানেই কামিনী পাতার ব্যবহার। আর এই চাহিদার আলোকে বাণিজ্যিকভাবে কামিনী চাষ করে এর ডাল-পাতা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন ফুল বাজারের ব্যবসায়ীরা অর্ডার দিতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads