• বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২ ফাল্গুন ১৪২৭
'স্বপ্ননীড়' সাজাতে ব্যস্ত সবাই

ছবি: বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

'স্বপ্ননীড়' সাজাতে ব্যস্ত সবাই

  • কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
  • প্রকাশিত ২৭ জানুয়ারি ২০২১

কেউ ঘর সাজাচ্ছেন, কেউ ফলগাছ লাগাচ্ছেন, আবার কেউ খাবার রান্না করছেন, কেউ বা মাছ কুটছেন। স্বপ্ননীড় বাড়িকে কেন্দ্র করে নারী পুরুষ ছোট বড় সবাই যার যার অবস্থান থেকে দিন রাত পরিশ্রম করছেন। পাশাপাশি থেমে নেই তাদের পরিকল্পনাও । অনেকে বাড়ির সামনে বসে সন্তানদেরকে নিয়ে কীভাবে আগামী দিন চলবে সেই পরামর্শ করছেন। এমন দৃশ্য দেখা যায় আখাউড়া উপজেলা মোগড়া ইউনিয়নের চরনারায়নপুর এলাকায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পুর্নবাসিত পরিবারে। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে সরকারিভাবে ৪৫টি বাড়ি দেওয়া হয়। এর ফলে তাদের যেন জীবন দ্বারা পাল্টে যায়। স্বাধীন ভাবে বাঁচতে সরকার তাদেরকে যেন এক বিশাল সুযোগ তৈরি করে দেন। স্বাধীনভাবে বাঁচার যে কী আনন্দ আজ তারা সত্যিকার ভাবে সরকারি ঘর পেয়ে বুঝতে পারছে।

রাবেয়া বেগম বলেন, ঘর পাওয়ার পর তিনি ঘরের সামনে ফল ও সবজি লাগিয়েছেন। মালামাল এনে ঘর সাজাচ্ছেন। পরিবার পরিজন নিয়ে নতুন ঘরে দুপুরের খাবার খেতে সকালে তিনি নিজ হাতে মোগড়া বাজার গিয়ে তেল,ডাল,মরিচ,হলুদ,সহ অন্যান্য মসলা ও নানা প্রকার সবজি ও কিনে আসেন। বাজার করতে নগদ টাকা কিছু দিলে ও বেশী টাকা ছিল তার বাকী। কারণ দোকানীরা এখন বাকীতে তাকে মালামাল দিকে ভরসা করছে। গত দুই দিন ধরে মনের আনন্দে ছেলে মেয়ে নিয়ে ঘুমাতে পাড়ায় তিনি আনন্দ প্রকাশ করছেন। এতো শান্তিতে ঘুম তার কখনও হয়নি বলে জানায়। তিনি আরও বলেন এখন আর ঘরে ঠান্ডা বাতাস আসছে না।

শীতের সময় ভাঙ্গা ঘরে থাকতে রাতে তাদের খুবই কষ্ট হতো। তাছাড়া বৃষ্টির সময় সামান্য বৃষ্টিতেই টিনের ছিদ্র দিয়ে ঘরে বৃষ্টি পড়ায় কষ্টের সীমা ছিল না। গরিব বলে সবাই অবজ্ঞা করতো। তাদের সন্তানদের সাথে অন্যকারো সন্তাররা মিশতো না। চলা ফেরা করা খুবই কষ্টকর ছিল যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের থাকার জায়গা করে দেওয়ায় এখন সেই কষ্ট দুর হয়েছে মনে শান্তি লাগছে। আনন্দ পাচ্ছে বলে জানায়।

তার স্বামী মানিক মিয়া বলেন, তিনি একজন রিকশা চালক। তার পরিবারে ১ ছেলে ১ মেয়ে রয়েছেন । ভাড়া বাড়িতে থাকতে তার নানা কথা শুনতে হতো। সুখ আনন্দ যে কী তা যেন তাদের মাঝে ছিল না।
প্রধানমন্ত্রী তাকে মাথাগুচার ঠাঁই করে দেওয়ায় এটা যে কী আনন্দ সেটি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তিনি আরও বলেন, নতুন ঘর নতুন সংসার। দুদিন ধরেই ঘরে বাইরে কাজ করছি। যতই কাজ করছি ততই নিজের কাছে আনন্দ লাগছে।

রোকেয়া বেগম বলেন, এই স্বপ্ননীড়কে কেন্দ্র করে সন্তানের সাথে এক হয়ে থাকার সুযোগ তৈরী হয়েছে। পরিবারে অভাব অনটন ও বাড়িঘর না থাকায় তার এক সন্তান বিয়ে করে ভাড়া বাড়িতে চলে যায়। এ জন্য প্রতিমাসে তাকে ৩ হাজার টাকা গুনতে হতো। এখন ছেলে ও তার বৌ এক সাথে হওয়ায় সুযোগ হয়েছে। তার এক ছেলে রাজমিন্ত্রী ও এক ছেলে চুলকাটার কাজ করেন। এখন তারা একসাথে হতে পেরে খুবই খুশি।

মো. নুরুল হক বলেন, নতুন ঘরের সামনে সকাল থেকে তিনি পেপে, কলাসহ বিভিন্ন গাছ লাগাচ্ছেন। পাশাপাশি ঘরকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করছেন। দীর্ঘ বছর অন্যের বাড়িতে ভাঙ্গা ঘরে পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্ট করে থাকতেন বলে জানায়। বাড়ির সামনে অনেক খালি জায়গা থাকলে ও আমাদেরকে কোন কিছু আবাদ করতে দিতনা। ইচ্ছে থাকা সত্বেও কিছু করতে পারতো না বলে জানায়। আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার স্বপ্ন পুরন করেছে। তাই এখন মনের আনন্দে ঘরের সামনে নিজ হাতে নানা প্রকার গাছ লাগাচ্ছেন।

মো. ধনু মিয়া বলেন, তার পরিবারে স্ত্রীসহ ২ ছেলে ২ মেয়ে রয়েছে। এরমধ্যে ১ ছেলে বিবাহিত। তাই তারা অন্যত্র থাকতো। ইচ্ছা থাকলেও ছেলের কাছে থাকতে পারতাম না। প্রধানমন্ত্রী মাথাগুছার ঠাই করে দেওয়ায় সন্তানকে কাছে পাওয়ায় সুযোগ হওয়ায় তারা খুবই খুশি।

লিটন মিয়া বলেন, উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের তুলাবাড়ি গ্রামে তাদের বাড়ি। পৈতৃকভাবে পাওয়া আধা শতাংশ জায়গা ছিল। কিন্তু সেই জায়গাটুকুও ভাইয়েরা আমার কাছ থেকে নিয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে বাড়ির পাশে একটি ঘরভাড়া নিয়ে থাকতাম। সেই ঘরটিও ছিল ভাঙ্গাচুরা। থাকার মতো কোন অবস্থা ছিল না। বর্ষাকালে ঘরে পানি পড়তো। আর শীতকালে হিমেল হাওয়ায় ঘরে ঘুমাতে পারতাম না। তিনি আরো বলেন ঝালমুড়ি বিক্রি করে কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে সংসার চালাতাম। অনেক সময় ঘরভাড়া দিতে পারতাম না। সেজন্য বাড়িওয়ালা অনেক কথা শুনাতেন, ঘর ছেড়ে দিতে বলতেন। আমার মেয়েটাকে কেউ খেলায় নিত না। বাবা হিসেবে মেয়ের এই কষ্টে চোখের পানি ফেলা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। এখন স্বাধীন ভাবে চলছি কেউ আর আমাকে কিছু বলছে না। সকাল বিকাল ছেলে মেয়েরা মনের আনন্দে খেলাধুলা করছে। আগে যে কাজটি করতে পারিনি এখন দিন রাত ওই কাজগুলো করছি।

রহিমা আক্তার বলেন, গত দুদিন ধরে নতুন ঘরে মালামাল গুছিয়েছেন। নিজ ঘরে ঘুমাতে পেড়ে খুবই ভালো লাগছে তার। তিনি আরও বলেন তার স্বামী শ্রমিকের কাজ করেন। সামান্য আয়ের তাদের সংসার হলে ও এখন আর ঘরের কোন চিন্তা নেই। নতুন জায়গায় কি ভাবে পরিবারসহ সন্তানদের নিয়ে থাকা যায় এবং একে অপরে ভ্রাতৃত্ববোধ রেখে চলা যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘর নির্মানের মধ্য দিয়ে তাদেরকে সেই সুযোগ করে দেওয়ায় তাকে ধন্যবাদ জানান।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads