• বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ২ বৈশাখ ১৪২৭
নিঃসন্তান হওয়ায় দুই বাচ্চাকে চুরি করা হয়

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

নিঃসন্তান হওয়ায় দুই বাচ্চাকে চুরি করা হয়

  • সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১

নিঃসন্তান হওয়ায় প্রথমে ২৫০ শয্যা বিশিস্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা সদর হাসপাতাল থেকে ২৩ দিনের বাচ্চাকে চুরি করা হয়। কিন্তু বাচ্চাটি অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ায় ফের সাকাওয়াত মেমোরিয়াল হাসপাতাল থেকে নবজাতক আরেকটি বাচ্চা চুরি করেন বাচ্চা চুরির মুল আসামি আল্পনা খাতুন। রোববার দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর থানা ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম এ তথ্য জানান। 

তিনি জানান, সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রামের মৃত সোলায়মানের মেয়ে আল্পনা খাতুনের সাত বছর আগে বিয়ে হয়। কিন্তু দাম্পত্য জীবনে সন্তান না হওয়া পারিবারিক কলহ শুরু হয়। এজন্য আল্পনা বাচ্চা চুরির পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মাফিক নিজেকে গর্ভবর্তী পরিচয় দেবার পাশাপাশি সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে আসা-যাওয়া শুরু করে। একপর্যায়ে হাসপাতালের এক স্টাফের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। ওই স্টাফের সাথে মোবাইলে কথা বলতে থাকে। হাসপাতালের ওই স্টাফ সুনির্দিষ্ট একটি শর্ত সাপেক্ষে হাসপাতাল হতে শিশু চুরির সহায়তা করার আশ্বাস দেন। পরিকল্পনা মাফিক ২৩ ফ্রেবুয়ারী দুপুরে আল্পনা খাতুন উল্লাপাড়া উপজেলার বাদালিয়াকান্দি থেকে চিকিৎসাধীন নিতে আসা শিশু বাচ্চা মাহিমের মা মঞ্জুয়ারার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। শিশু বাচ্চা মাহিমের মা আল্পনাকে ভরসা করে তার কাছে বাচ্চা রেখে বাইরে গেলে সে শিশু ওয়ার্ডের ইনকিউবিটর থেকে বাচ্চাকে নিয়ে পালিয়ে বাবার বাড়ী আলোকদিয়া চলে যায় এবং বাচ্চাটি তার বলে মা, ভাইবোন ও প্রতিবেশীর কাছে দাবি করেন। ২৪ তারিখ শিশুটি অসুস্থ হলে পড়লে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক শরিফুলকে দিয়ে ইনজেকশন দেয়। ২৭ তারিখে শিশুটির অবস্থা খারাপ হয়ে মারা যাওয়ায় বাচ্চাটিকে ঘরের ধানের গোলায় লুকিয়ে রাখে। এরপর সে আবারো বোরকা পড়ে নতুন আরেকটি বাচ্চা চুরি করার জন্য সলঙ্গার হাটিকুমরুলের সাকাওয়াত এইচ হাসপাতালে যায়। সেখানে তাড়াশ উপজেলার মাজেম ও সমিতা দম্পত্তির সদ্য ভুমিষ্ট বাচ্চা সামিউলের নানীর সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে এবং শিশুটিকে কোলে নিতে চাইলে নানী সরল মনে তার কোলে দেয়। এর কিছু সময় পর কেবিনে নার্স তাকে ডাকছে বলে নানীকে কেবিনের ভিতরে পাঠিয়ে দিয়ে শিশু বাচ্চা সামিউলকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে ভ্যানযোগে তার বাবার বাড়ী আলোকদিয়া যায়। 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ঘটনার পর পুলিশ, র‌্যাব ও পিবিআই তাৎক্ষণিক মাঠে নামে। এক পর্যায়ে সিসিটিভি ফুটেজের সুত্র ধরে ভ্যান চালককে শনাক্ত করা হয়। ভ্যান চালকের দেয়া তথ্যমতে আলোকিয়ায় আল্পনার বাবার বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে শিশু বাচ্চা সামিউলকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সদর হাসপাতাল থেকে  বাচ্চা চুরির কথাও আল্পনা খাতুন স্বীকার করেন। তার দেয়া তথ্যে ওই বাড়ীর ধানের গোলা থেকে আরেক বাচ্চা ফাহিমকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং আল্পনা, তার মা ছায়রন, ভাই রবিউল ইসলাম, স্ত্রী মায়া খাতুন, চাচী মিনা খাতুন, চিকিৎসক শরিফুলকে আটক করা হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, আল্পনা খাতুনকে যারা সহযোগিতা করা হয়েছে তাদেরকেও আটকে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় সলঙ্গা ও সদর থানায় দুটি মামলা হয়েছে। সলঙ্গা থানার মামলায় ৫জনকে আটক দেখিয়ে আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। আর সদর থানার মৃত শিশু ফাহিমের বাবার মামলায় চিকিৎসককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও ফাহিমের বাবার দায়ের করা সদর থানার হত্যা মামলায় ওই ৫জনকে শ্যোন এ্যারেস্ট দেখানো হবে। তিনি বলেন, ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে আসামীদের রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে। আর যাতে কোন বাচ্চা চুরি না হয় এ জন্য অভিভাবকদের সর্তক করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও আরো সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। 

সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. সৌমিত্র বসাক জানান, প্রতিটি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের হাসপাতালে নিরাপত্তা জোরদার, সিসিটিভি আওতাভুক্ত, রোগীরা যাতে কারো কোনো কিছু গ্রহন না করে এবং অপরিচিত কারো কোলে বাচ্চা না দেন স্বজনদের সচেতন  করার পরামর্শ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads