• বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ২ বৈশাখ ১৪২৭
শিশুদের ভবিষ্যৎ নষ্ট কালো ধোঁয়ায়

ছবি: বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

শিশুদের ভবিষ্যৎ নষ্ট কালো ধোঁয়ায়

  • নুরুজ্জামান, মানিকগঞ্জ
  • প্রকাশিত ০৯ মার্চ ২০২১

পেটের ক্ষুধা নিবারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিশু শ্রমিক হিসেবে বিভিন্ন ইটভাটায় নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন বিক্রি করছে বিভিন্ন বয়সী শিশুরা। এসব শিশু সংসারের হাল ধরতে বিভিন্ন ইটভাটায় হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে যাচ্ছে। নাম মাত্র বেতনে এসব শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ পিষ্ট হচ্ছে ইটভাটার কালো ধোঁয়ায়।

জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা শিশু শ্রমিকদের নাম মাত্র বেতন দিয়ে ইটভাটার সরদাররা এসব শিশু শ্রমিকদের ইটভাটার বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছে। এসব শিশু শ্রমিকের কারো মজুরি দৈনিক ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আবার কারো মজুরি সাপ্তাহিক ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা। কেউ কেউ আবার মাসিক চুক্তিতেও দিনমজুরির কাজ করছে।

খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলা থেকে মানিকগঞ্জের সদর উপজেলার আটিগ্রাম ইউনিয়নের সিটি ব্রিকসে মায়ের সঙ্গে আসা ১২ বছরের শিশু শ্রমিক শাহ আলম ইসলাম জানায়, এক সপ্তাহ ধরে সরদারের মাধ্যমে ইটভাটায় কাজ করছে। দৈনিক মজুরি ৪০০ টাকা। পাইকগাছা থেকে আসা ১৬ বছরের আরেক শিশু শ্রমিক ইয়ামিম জানায়, প্রায় ছয় মাস ধরে সিটি ব্রিকসে কাজ করে সে। হাড়ভাঙা খাটুনিতে ঘর্মাক্ত চেহারায় নিজের মজুরি কত- সে কথাও মনে করতে পারছে না ইয়ামিম। ইটভাটায় হাড়ভাঙা খাটুনিত অনেক কষ্ট হয় বলেও জানায় সে। একই ভাটায় ১১ বছরের শিশু শ্রমিক মেহেদী হাসান জানায়, ক্লাশ ওয়ান পর্যন্ত লেখাপড়া করে মা-বাবার সাথে ইটভাটায় এসছে সে। ভ্যানে করে ইট আনা নেওয়া ও ইট সাজিয়ে রাখতে হয় তাকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সদর উপজেলার আটিগ্রাম ইউনিয়নে কোনো রকম বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই পরিবেশ ও কৃষি জমি ধ্বংস করে ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা করছে মেসার্স সিটি ব্রিকস। এ ইটভাটায় নানা বয়সী প্রায় ১৫ শিশু শ্রমিককে দিয়ে ধুলাবালি, কয়লার ভারি বাতাস ও কালো ধোঁয়ার মধ্যে কোনোরকম মাস্ক বা সেফটি পোশাক ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। সকাল সন্ধ্যা বিরামহীনভাবে এসব শিশু শ্রমিক ইটভাটায় অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

ইটভাটার সরদার আকরাম হোসেন বলেন, সিটি ব্রিকসে ১৫ জনের মতো শিশু শ্রমিক আছে। আমি শিশুদের দিয়ে কাজ করাই না। অন্য সরদাররা শিশুদের দিয়ে ইটভাটায় কাজ করায়।

মেসার্স সিটি ব্রিকসের মালিক পনির হোসেন বলেন, আমার জানামতে ভাটায় কোনো শিশুশ্রমিক নাই। যদি শিশু শ্রমিক থেকে থাকে সেটা সরদাররা জানে। শিশুশ্রমিক থাকলেও তাদের দিয়ে ভারী কাজ করানো হয় না। তারা ইট উল্টানো ও ছোট ছোট কাজ করে, পরিশ্রমের কাজ করে না।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ইটভাটায় শিশু শ্রমিকের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এ বিষয়টি আমার কাছে নতুন। আপনার কাছ থেকেই জানলাম। যদি কোনো ইটভাটায় শিশু শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো হয়- তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads