• শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads

ক্রিকেট

অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে ভারত

  • বাসস
  • প্রকাশিত ৩০ জানুয়ারি ২০১৮

চির প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে সেমিফাইনালে ২০৩ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারত। শনিবার টুর্নামেন্টের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে অন্যতম ফেভারিট ভারত।

শুবমান গিলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে টস জয়ী ভারত ২৭২ রানের লড়াকু ইনিংস গড়ে তোলে। জবাবে ভারতীয় বোলারদের বিধ্বংসী বোলিংয়ে পাকিস্তানের ইনিংস ২৯.৩ ওভারে মাত্র ৬৯ রানেই গুটিয়ে যায়। ডান হাতি মিডিয়াম ফাস্ট বোলার ইশান পোরেল ১৭ রানে ৪ উইকেট দখল কওে পাকিস্তানের ইনিংস দ্রুত শেষ করতে সহযোগিতা করেছেন।

ম্যাচ শেষে উচ্ছসিত অধিনায়ক পৃথ্বী শ’ বলেছেন, ‘দলের সকলেই আজ দুর্দান্ত খেলেছে। সত্যিকার অর্থেই আজ আমরা সবদিক থেকে সফল ছিলাম।’

রেকর্ডের দিক থেকে পাকিস্তানের যুবাদের এটি তৃতীয় সর্বনিম্ন স্কোর ছিল। নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এবারের টুর্নামেন্টে শুরু থেকেই অবশ্য পাকিস্তানের ব্যাটিং মোটেই মান সম্মত ছিলনা। কোন ম্যাচেই পাকিস্তানীরা ২০০ রানের কোটা পার করতে পারেনি। এছাড়াও আজকের এই পরাজয়ে পাকিস্তানের ফিল্ডারদের বাজে ফিল্ডিংও অনেকাংশেই দায়ী। পুরো ম্যাচে তারা সাতটি রান-আউটের সুযোগ নষ্ট করেছে। পাকিস্তানী অধিনায়ক হাসান খান বলেছেন, দূর্ভাগ্যবশত: আমাদের ব্যাটসম্যানরা মোটেই ভাল খেলতে পারেনি। শুরু থেকে কোন কিছুই আমাদের অনুকূলে ছিলনা। আমরা বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করেছি। মোট কথা আমরা কোন দিক থেকেই সঠিক পথে ছিলাম না।

আগামী শনিবার ফাইনালে দুই হেভিওয়েট দলের লড়াইটা যে বেশ জমাট হবে তা সহজেই অনুমেয়। দুটি দলই তিনবার করে বিশ্বকাপের শিরোপা দখল করেছে। ২০১২ সালে ভারত ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

এবারের টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত অপরাজিত থাকা ভারত আগের পাঁচ ম্যাচে দাপটের সাথে জয় তুলে নিয়েছে। এর মধ্যে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়াকে ১০০ রানে পরাজিত করেছিল। অস্ট্রেলিয়াও কম যায়নি, কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩১ রানের জয়টা ছিল দুর্দান্ত। এই ম্যাচেই লেগ স্পিনার লয়েড পোপ ৯.৪ ওভারে ৩৫ রানে ৮ উইকেট দখল করে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে রেকর্ড গড়েছেন।

পাকিস্তানের বিপক্ষে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় অধিনায়ক শ। উদ্বোধনী জুটিতে শ (৪১) ও মানজোত কালরা (৪৭) মিলে ভালই স্কোর গড়ে তুলেন। পাকিস্তানী পেস আক্রমন মূলত এই দুজনের বিপক্ষে কোন সাফল্যই দেখাতে পারেনি। যদিও কালরা দু’বার জীবন ফিরে পেয়েছেন। ৮৯ রানের উদ্বোধনী জুটি শেষ পর্যন্ত শ’য়ের রান আউটের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। দলীয় ৯৪ রানে কালরাও সাজঘরে ফিরে যান। ৩০তম ওভার থেকে পরপর নিজের তিন ওভারে তিন উইকেট তুলে নিয়ে পেসার আরশাদ ইকবাল ভারতীয়দের রানের চাকা কিছুটা হলেও থামানোর চেষ্টা করেছেন। যদিও একপ্রান্তে গিল অবিচল ছিলেন। ৬৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে মোহাম্মদ মুসা ভারতের টেল এন্ডারদের দ্রুত সাজঘরে ফেরত পাঠিয়েছেন। শেষ ওভারে ৯৩ বলে ম্যাচ সেরা গিল সেঞ্চুরি তুলে নেয়া গিল শেষ পর্যন্ত ১০২ রানে অপরাজিত ছিলেন। এই ইনিংস খেলতে তিনি ৭টি বাউন্ডারির সহযোগিতা নিয়েছেন।

বড় স্কোর তাড়া করতে গিয়ে পাকিস্তানের ইনিংস শুরু থেকেই ছিল নড়বড়ে। টপ অর্ডারে পোরেলের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ১১ ওভারে মাত্র ২৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসে পাকিস্তান। দারুন দুটি ক্যাচ নিয়ে শ সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। মাত্র দু’জন পাকিস্তানী ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করেছেন। একপেশে এই ম্যাচে মাত্র ১৮ রান করে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন রোহেইল নাজির।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads