• বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫
ads

ক্রিকেট

মোমিনুলের দ্যুতিতেও বিষন্নতার আঁধার

  • বাসস
  • প্রকাশিত ৩১ জানুয়ারি ২০১৮

চট্টগ্রামে জহুর আহমেদ চৌধুরি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনই ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়ে সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়েছেন বাংলাদেশের বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান মোমিনুল হক। দিন শেষে ১৭৫ রানে অপরাজিত আছেন তিনি। তার অনবদ্য সেঞ্চুরির সাথে মুশফিকুরের ৯২ ও তামিম ইকবালের ৫২ রানের কল্যাণে প্রথম দিন শেষে ৪ উইকেটে ৩৭৪ রান তুলেছে বাংলাদেশ। মোমিনুল-তামিম-মুশফিকুরের ব্যাটিং দৃঢ়তায় দুর্দান্তভাবে দিন শেষ করার পথে হাটছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু ৮৪তম ওভারের শেষ দুই বলে পরপর দু’উইকেট হারিয়ে বিষন্নতা নিয়েই দিন শেষ করতে হলো বাংলাদেশকে। পতন হওয়া ঐ দুই ব্যাটসম্যান ছিলেন মুশফিকুর ও লিটন কুমার দাস।

বাংলাদেশের দশম অধিনায়ক হিসেবে মাহমুদুল্লাহর অভিষেক ম্যাচে সেরা একাদশ কেমন হতে পারে, স্পিনার কতজন থাকবে, উইকেটের চিত্রই-বা কেমন হবেঃ এসবই ছিলো প্রথম টেস্ট শুরুর আগে জল্পনা-কল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে। খেলার শুরুর পর সকল জল্পনা-কল্পনার উত্তরও পাওয়া যায়। অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকেই টস ভাগ্যে জয় পান মাহমুদুল্লাহ, এক পেসার ও তিন স্পিনার নিয়েই একাদশ সাজায় বাংলাদেশ, উইকেট ছিলো স্পিন সহায়ক। তাই ১৬ জনের স্কোয়াড থেকে একাদশে সুযোগ হয়নি কামরুল ইসলাম রাব্বি, রুবেল হোসেন, নাইম হাসান, তানবীর হায়দার ও অভিজ্ঞ আব্দুর রাজ্জাকের। তবে প্রথম দিন সুবিধা ভোগ করবে আগে ব্যাট করা দল। তাই টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নিতে একটুও কার্পন্য করেননি নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের পরিবর্তে নেতৃত্ব পাওয়া মাহমুদুল্লাহ।

উইকেট থেকে যে ফায়দা নেয়া যাবে, ব্যাট হাতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই তা বুঝিয়ে দেন ওপেনার তামিম ইকবাল। দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ ডেলিভারিতে তিনটি বাউন্ডারি তুলে নেন তিনি। এক্ষেত্রে শ্রীলংকার বোলার ছিলেন লাহিরু কুমারা। স্বাচ্ছন্দ্যময় ব্যাটিং-এ সাহস পেয়ে যান তামিম। তাই শ্রীলংকার বোলারদের বিপক্ষে নিজের আগ্রাসন অব্যাহত রাখেন তিনি। ফলে দশম ওভারের তৃতীয় বলেই হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ পায় বাংলাদেশ।

দলকে হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ দিয়ে তামিম নিজেও দেখা পেয়েছেন অর্ধশতকের। ৪৬তম বলে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৫তম হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান তামিম। লংকানদের বিপক্ষে ছিলো চতুর্থ। তবে নিজের ইনিংসটা সামনের দিকে খুব বেশি এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি তামিম। শ্রীলংকার অফ-স্পিনার দিলরুয়ান পেরেরার ঘুর্ণিতে বোল্ড হন তিনি। ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫৩ বলে ৫২ রান করেন তামিম। উদ্বোধনী জুটিতে ইমরুলের সাথে ৯৫ বলে ৭২ রানের জুটি গড়ার পর বিচ্ছিন্ন হন তিনি।

তামিম যখন ফিরেন তখন ইমরুলের ব্যক্তিগত রান ৪৩ বলে ১৯। সতীর্থ ওপেনারকে যোগ্য সঙ্গই দিয়েছেন ইমরুল। তিন নম্বরে মোমিনুল হক ক্রিজে আসার পরও ধীরলয়ে এগোচ্ছিলেন ইমরুল। কিন্তু ব্যাট হাতে মারমুখীই ছিলেন মোমিনুল। উইকেটের চার পাশে বাহারি শটের পসরা বসিয়েছিলেন তিনি। এমন অবস্থায় অন্যপ্রান্ত দিয়ে পতন হয় ইমরুলের। ২৮তম ওভারের চতুর্থ বলে শ্রীলংকার চায়নাম্যান স্পিনার লক্ষন সান্দাকানের বলে লেগ বিফোর ফাঁদে পড়েন ইমরুল। তার আউটেই মধ্যাহ্ন বিরতির ডাক দেন অন-ফিল্ড আম্পায়াররা। এসময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিলো ২ উইকেটে ১২০ রান। ৪টি চারে ৭৫ বলে ৪০ রান করে ফিরেন ইমরুল। অন্যপ্রান্তে মোমিনুল হক অপরাজিত ছিলেন ২৬ রানে।

বিরতির পর সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে আবারো খেলা শুরু করেন মোমিনুল। যেখানে যেভাবে শেষ করে গিয়েছিলেন বিরতির পর সেখান থেকেই শুরু করেন মোমিনুল। তাই হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পেতে খুব বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি তাকে। বাউন্ডারির সহায়তায় ৫৯ বলে অর্ধশতক পেয়ে যান মোমিনুল।

অর্ধশতকে পা-দিয়েও নিজেকে গুটিয়ে নেননি মোমিনুল। আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তিনি। তাই চা-বিরতির আগেই দেখা পান টেস্ট ক্যারিয়ারের পঞ্চম ও শ্রীলংকার বিপক্ষে তৃতীয় সেঞ্চুরির। ২০১৪ সালের এই ভেন্যুতেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ সেঞ্চুরি করেছিলেন মোমিনুল। বাউন্ডারির মাধ্যমে ৯৬ বলে সেঞ্চুরির স্বাদ পাওয়া মোমিনুল এই ভেন্যুতে চতুর্থবারের মত তিন অংকে পা দেন। ৯৬ বলে তার সেঞ্চুরিটি বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিতীয় দ্রুততম। ২০১০ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৪ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন তামিম।

তাই মোমিনুলের সেঞ্চুরিতে ৫৬ ওভারে ২ উইকেটে ২৫০ রান নিয়ে চা-বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। এসময় মোমিনুল ১০৭ ও মুশফিক ৪৭ রানে অপরাজিত ছিলেন।

প্রথম সেশনে ২ উইকেটে ১২০ ও দ্বিতীয় সেশনে বিনা উইকেটে ১৩০ রান করতে পারে বাংলাদেশ। এরপর প্রথম দিনের তৃতীয় ও শেষ সেশনটি আরও ভালোভাবে শেষ করার পণ করে ব্যাট হাতে লড়াই শুরু করেন মোমিনুল-মুশফিক। ইনিংসের দ্বিতীয় বিরতির পর টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৯তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশি। এই ভেন্যুতে সপ্তম হাফ-সেঞ্চুরিতে ১ হাজার রানও পূর্ণ করেন মুশফিকুর।

এরপর দলের স্কোর বড় করার দিকেই মনোযোগি হন মোমিনুল ও মুশফিকুর। মোমিনুল দেখেশুনে এগোলেও রান তোলায় কিছুটা দ্রুত ছিলেন মুশি। দিনের শেষভাগে এসে টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরির দোড়গোড়ায় পৌছে যান মুশি। কিন্তু হতাশা ভর করে বসে মুশফিকুরের উপর। নাভার্স নাইন্টিতে থেমে যান তিনি। শ্রীলংকার ডান-হাতি পেসার সুরাঙ্গা লাকমলের বল ফ্রন্টফুটে খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মুশফিকুর। তখন তার নামের পাশে ৯২ রান। তার ১৯২ বলের ইনিংসে ১০টি চার ছিলো।

মোমিনুলের সাথে তৃতীয় উইকেটে ২৩৬ রান যোগ করেন মুশফিকুর। তৃতীয় উইকেটে এটি নতুন রেকর্ড জুটি। এই উইকেটে আগের রেকর্ডটি ছিলো ১৫৭ রানের। ২০১৩ সালে ঢাকায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিলেন তামিম ও মোমিনুল। তবে মুশফিকুর ও মোমিনুলের ২৩৬ রান শ্রীলংকার বিপক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি। আর সবমিলিয়ে এটি জুটির রান চতুর্থ স্থানে।

৮৪তম ওভারের পঞ্চম বলে মুশফিকুরের বিদায়ের পর ক্রিজে যান লিটন কুমার দাস। তাকেই নিয়ে দিন শেষ করার ইচ্ছা মনে মনে করেছিলেন অন্যপ্রান্তে থাকা মোমিনুল। তা দেখার অপেক্ষায় ছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু মোমিনুল ও বাংলাদেশের স্বপ্ন ভঙ্গ করেন লিটন। লাকমলের পরের ডেলিভারিতে বোল্ড হন লিটন। অফ-স্ট্যাম্পে থাকা বলটি ব্যাট উচিয়ে ছেড়ে দেন লিটন। ছেড়ে দেয়া বলটি গিয়ে আঘাত হানে স্ট্যাম্পে। ফলে ১ বল মোকাবেলা করে বলের লাইন না বুঝতে পারায় শূন্য হাতে প্যাভিলিয়নে ফিরেন লিটন।

এরপর অবশ্য দিনের শেষ ৩৬ বলে আর কোন বিপদ ঘটতে দেননি অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ ও মোমিনুল। মাহমুদুল্লাহ ৯ রানে ও ১৬টি চার ও ১টি ছক্কায় ২০৩ বলে মোমিনুল ১৭৫ অপরাজিত আছেন। দুর্দান্ত ইনিংসটি খেলার পথে টেস্ট ক্যারিয়ারের ২ হাজার রানও পূর্ণ করেন মোমিনুল। ব্যাট হাতে নামার আগে ২’হাজার রান পূর্ণ করতে মোমিনুলের প্রয়োজন ছিলো ১৬০ রান। শ্রীলংকার পক্ষে লাকমল ২টি ও পেরেরা-সান্দাকান ১টি করে উইকেট নেন।

 

স্কোর কার্ড :

 

বাংলাদেশ ব্যাটিং প্রথম ইনিংস :

 

তামিম ইকবাল বোল্ড দিলরুয়ান পেরেরা ৫২

ইমরুল কায়েস এলবিডব্লু ব সান্দাকান ৪০

মোমিনুল হক অপরাজিত ১৭৫

মুশফিকুর রহিম ক ডিকবেলা ব লাকমল ৯২

লিটন কুমার দাস বোল্ড ব লাকমল ০

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ অপরাজিত ৯

অতিরিক্ত (নো-৪, ও-২) ৬

 

মোট : (৪ উইকেট, ৯০ ওভার) ৩৭৪

 

উইকেট পতন : ১/৭২ (তামিম), ২/১২০ (ইমরুল), ৩/৩৫৬ (মুশফিকুর), ৪/৩৫৬ (লিটন)।

 

শ্রীলংকা বোলিং :

লাকমাল : ১৭-৩-৪৩-২ (নো-২),

কুমারা : ১২-১-৬৪-০ (ও-১),

পেরেরা : ২৪-৪-৯৮-১ (ও-২),

হেরাথ : ২০-১-১০০-০,

সান্দাকান : ১৩-১-৫৮-১ (ও-১)

ডি সিলভা : ৪-০-১১-০।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads