• সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads

অভিষিক্ত জাকির, অপু, আরিফুল ও আফিফ

ক্রিকেট

এক ম্যাচে চারজনের অভিষেক

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে সাকিবকে দিয়ে শুরু। টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে তামিম ও মুশফিক বাড়ালেন শঙ্কা। তিনজনই চোটের শিকার। সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি দলে পায় তারুণ্যের আবহ। দেখা গেল নতুন পাঁচ মুখের। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে কয়জনের অভিষেক হবে, তা নিয়ে আলোচনার শেষ ছিল না। সবার ধারণা তিনজন থাকতে পারেন এই তালিকায়। তবে টিম ম্যানজেম্যান্ট বড় চমক দেখালেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে অভিষেক হয়েছে চারজনের। তারা হলেন- জাকির হোসেন, নাজমুল ইসলাম অপু, আরিফুল হক ও আফিফ হোসেন।

চোট কিছুটা কাটিয়ে উঠায় খেলেছেন মুশফিকুর রহীম। মাঠের বাইরে তামিম। তার জায়গায় ওপেনিংয়ে ব্যাট করেন অভিষিক্ত জাকির হোসেন। তার সঙ্গী ছিলেন সৌম্য সরকার। বাংলাদেশ দলে চার অভিষেক, বাদ যায়নি শ্রীলঙ্কা শিবিরও। ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয়েছে মধুশঙ্কার। অন্যদিকে ২০১৩ সালের পর প্রথম টি-২০ ম্যাচ খেলার সুযোগ পান জীবন মেন্ডিস।

বাংলাদেশ দলে এক সঙ্গে চারজনের অভিষেক। চোখ কপালে উঠার মতো পরিস্থিতি। এমন চিত্র আগে দেখা গেছে কি? হ্যাঁ, দেখা গেছে। সেটা ২০১৬ সালে জিম্বাবুযের বিরুদ্ধে এক ম্যাচ। সেই টি-টোয়েন্টি ম্যাচে চারজনের অভিষেক হয়েছিল। তারা হলেন আবু হায়দার রনি, মুক্তার আলী, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও মোহাম্মদ শহীদ।

মিরপুরে টস পর্বের পরই অভিষিক্ত চার ক্রিকেটারের মাথায় ক্যাপ পড়িয়ে দেয়া হয়। অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার আফিফকে ক্যাপ পড়িয়ে দেন হার্ড হিটার ওপেনার তামিম ইকবাল। উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান জাকিরকে টুপি পড়ান মুশফিকুর রহীম। বাঁ হাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপুকে নাগিন ড্যান্সের স্টাইলে ক্যাপ পড়ান অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আর দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন অলরাউন্ডার আরিফুলকে ক্যাপ পড়িয়ে দেন।

চার তরুণের অভিষেকের পেছনে কাজ করেছে গত বিপিএলে দারুণ পারফরম্যান্স। নাজমুল ইসলাম ছিলেন শিরোপা জয়ী রংপুর রাইডার্সের গর্বিত সদস্য। যেখানে ১০ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ইকোনমি রেট ৬.৫৩। বাঁ হাতি এই ক্রিকেটার ঘরোয়া টুর্নামেন্টে ৫০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। ৪৮ ইনিংসে বল হাতে নিয়েছেন ৩৭টি উইকেট। সেরা বোলিং ৮ রানে তিন উইকেট।

অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার আফিফ হোসেন নির্বাচকদের মন কাড়েন বিপিএল দিয়েই। অভিষেকেই পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। গত বিপিএলেও ছিলেন স্বরূপে। আর কিছুদিন আগে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত যুব ক্রিকেট বিশ্বকাপে ব্যাট-বলে দারুণ নৈপুণ্যের কারণে আইসিসির সেরা উদীয়মান ক্রিকেটারের তালিকায় ঢুকে পড়েছিলেন তিনি। ঘরোয়া ১১ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ব্যাট হাতে ১২৫ রান তার। সর্বোচ্চ ৫৪ রানে অপরাজিত। বল হাতে ১১ ম্যাচে নিয়েছেন সমান ১১ উইকেট। তবে ব্যাট হাতে অভিষেকটা মনের মতো হয়নি আফিফের। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচেই শূন্য রানে আউট তিনি। দুই বল মোকাবেলা করে জীবন মেন্ডিসের বলে ক্যাচ তুলে দেন উইকেটরক্ষক ডিকভেলার গ্লাভসে।

অন্যদিকে আরিফুল হক গত বিপিএলে খুলনার হয়ে ব্যাটে ঝড় তুলে নজর কেড়েছিলেন। মিডল অর্ডারে ১১ ইনিংসে ২৯.৬২ গড়ে ২৩৭ রান তার। স্ট্রাইকরেট ১৩৩.১৪। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে ৪৪ ম্যাচে বল হাতে ৯৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। আর ব্যাট হাতে মোট রান ৫৮৪। সর্বোচ্চ অপরাজিত ৪৩। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আরিফুলের পরিসংখ্যান বেশ রঙিন। ৭১ ম্যাচে মোট রান ২৯৯৪। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৬২। ২৫ বছর বয়সী রংপুরের এই ক্রিকেটারের রয়েছে যেখানে ৬টি সেঞ্চুরি ও ১৬টি হাফ সেঞ্চুরি।

জাকির হোসেন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। গেল বিপিএলে রাজশাহী কিংসের হয়ে ৮ ম্যাচে ২৪.১৪ গড়ে করেছিলেন ১৬৯ রান। ঘরোয়া ক্রিকেটেও আছেন রানের উপরে। তবে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক ম্যাচটা রাঙাতে পারেননি তিনি। তামিম না থাকায় সৌম্যর সঙ্গে ব্যাটিং ওপেন করেন তিনি। ৯ বলে করেন ১০ রান। যার মধ্যে ছিল একটি চারের মার। বোল্ড হন গুনাথিলাকার বলে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads