• বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads

ক্রিকেট

ইনিংস ব্যবধানে জয় উত্তরাঞ্চলের

  • স্পোর্টস রিপোর্টার
  • প্রকাশিত ২০ এপ্রিল ২০১৮

চতুর্থ রাউন্ড শেষে মোট আট ম্যাচের মধ্যে একটি ম্যাচেই রেজাল্ট এসেছিল। যেখানে মধ্যাঞ্চলের বিরুদ্ধে জয় পেয়েছিল বিসিবি উত্তরাঞ্চল। পঞ্চম রাউন্ডে এসে দ্বিতীয় জয়ের দেখা পেয়েছে উত্তরাঞ্চল। চার দিনের ম্যাচ হলেও উত্তরাঞ্চল জিতেছে তিন দিনেই, তাও ইনিংস ব্যবধানে। গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চলকে ইনিংস ও ২৮ রানে হারিয়েছে উত্তরাঞ্চল। অন্যদিকে রাজশাহীতে তৃতীয় দিন শেষে ওয়ালটন মধ্যাঞ্চলের বিরুদ্ধে মিথুনের সেঞ্চুরিতে ২৩৭ রানের লিড নিয়েছে প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল। 

প্রথম ইনিংসে ৪১৫ রান করেছিল বিসিবি উত্তরাঞ্চল। জবাবে প্রথম ইনিংসে ২১৭ রানে অলআউট হয়ে ফলোঅনে পড়ে পূর্বাঞ্চল। পুনরায় দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাট করতে নেমে ১৭০ রানে অলআউট হয় পূর্বাঞ্চল। দারুণ এক জয়ে শিরোপার স্বপ্ন দেখছে বিসিবি উত্তরাঞ্চল। দু্ই ইনিংসে ৭ উইকেট নেয়া ইয়াসিন আরাফাত জিতে নিয়েছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

তৃতীয় দিনটা বড়ই অদ্ভুতড়ে গেছে পূর্বাঞ্চলের। কারণ এই দিনেই ২০ উইকেট হারিয়েছে দলটি। বিনা উইকেটে ১১০ রানে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছিল দলটি। তাসামুল হক ৪৯ ও লিটন কুমার দাস ৫২ রানে ছিলেন অপরাজিত। গতকাল ম্যাচের তৃতীয় দিনে তাসামুল (৫৬) ফিফটি করে বিদায় নেন। লিটন আউট হন ব্যক্তিগত ৬৯ রানে। ব্যস এটুকুই শেষ। পরের আর কোন ব্যাটসম্যানই দাঁড়াতে পারেনি। বাকিদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২১ রান করেন মুমিনুল হক। সাইফউদ্দিন ২০, সোহাগ গাজী ১৩, আশরাফুল ১১ রানে ফেরেন সাজঘরে। বাকিরা ছুতে পারেননি দুই অংকের রান। ৬৩.২ ওভারে পূর্বাঞ্চল অলআউট হয় ২১৭ রানে। বল হাতে উত্তরাঞ্চলের হয়ে চারটি করে উইকেট নেন ইয়াসিন আরাফাত ও শরিফুল ইসলাম। শফিউল ও তাইজুল নেন একটি করে উইকেট।

ফলোঅনে পড়ে আবার ব্যাট করতে নেমে হুড়মুড়িয়ে পড়ে পূর্বাঞ্চলের ইনিংস। ৯১ রানে পড়ে সাতটি উইকেট। শেষের দিকে সোহাগ গাজী ফিফটি করায় দল পেরোয় দেড়শ রান। তার বিদায়ের পর বাকি সব উইকেটের পতন। ৩৮.১ ওভারে ১৭০ রানে অল আউট। সর্বোচ্চ ৫০ রানের ইনিংস এসেছে স্পিনার সোহাগ গাজীর ব্যাট থেকে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩২ রান করেন অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন। যাদের ব্যাটে আসতে পারত প্রতিরোধ- সেই লিটন (৯), মুমিনুল (০), আশরাফুল (৮), অলোক কাপালিরা (০) হেঁটেছেন উল্টো পথে। দ্বিতীয় ইনিংসে উত্তরাঞ্চলের হয়ে বল হাতে শফিউল, ইয়াসিন, শরিফুল তিনটি করে উইকেট লাভ করেন। বাকি একটি উইকেট বগলদাবা করেন তাইজুল ইসলাম।

অন্যদিকে রাজশাহীতে প্রথম ইনিংসে ১৯১ রানে অল আউট হয় প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল। জবাবে ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল করে ৩০২ রান। গতকাল তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণাঞ্চলের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩৪৮ রান।

১ উইকেটে ৫০ রানে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছিল দক্ষিণাঞ্চল।  এনামুল হক ৩১ ও ইমরুল কায়েস ১০ রানে ছিলেন অপরাজিত। গতকাল তৃতীয় দিনে দুজনের কেউই ফিফটি করতে পারেননি। ৪৫ রানে এনামুল হক ও ৩০ রানে ইমরুল ফেরেন সাজঘরে। তবে দারুণ দুটি ইনিংস উপহার দেন অভিজ্ঞ তুষার ইমরান ও মোহাম্মদ মিথুন। অল্পের জন্য সেঞ্চুরি পাননি তুষার। ৮৮ রানে তিনি আউট মোশাররফের বলে ইরফানের হাতে ক্যাচ দিয়ে। তবে ঠিকই সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন মিথুন। ১২১ বলে ১৬ চার ও এক ছক্কায় ১১৮ রান করেন তিনি। অধিনায়ক নূরুল হাসান সোহান জ্বলে উঠতে পারেননি। ব্যক্তিগত ১৪ রানে তিনি তানবির হায়দারের শিকার। দিন শেষে জিয়াউর রহমান ১৭ ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ২২ রানে অপরাজিত আছেন। দিন শেষে দক্ষিণাঞ্চলের লিড দাঁড়িয়েছে ২৩৭ রানে। মধ্যাঞ্চলের হয়ে মোশাররফ হোসেন তিনটি, তানবির হায়দার দুটি, ইবাদত হোসেন একটি করে উইকেট লাভ করেন।

পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ রাউন্ড শেষে সবার উপরে ছিল উত্তরাঞ্চল। দারুণ জয়ে শীর্ষস্থান আরও পোক্ত করেছে দলটি। ৫ ম্যাচে ৫৮ পয়েন্ট তাদের। সেখানে সমান ম্যাচে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে পূর্বাঞ্চল। চার ম্যাচে ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে দক্ষিণাঞ্চল। আর সমান ম্যাচে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ ও সবার নিচে ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল। 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads