• বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
ads
বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার লড়াই আজ

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

ছবি : ইন্টারনেট

ক্রিকেট

বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার লড়াই আজ

  • মাহমুদুন্নবী চঞ্চল
  • প্রকাশিত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

জিতলে মিলবে ফাইনালের টিকেট। হারলে বাজবে বিদায়ঘণ্টা। ফরম্যাট সুপার ফোর পর্ব হলেও শেষ ম্যাচটি রূপ নিয়েছে অলিখিত সেমিফাইনালে। এশিয়া কাপ ক্রিকেটে রোমাঞ্চ ছড়ানো যে ম্যাচে আজ মুখোমুখি বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। তপ্ত মরুর বুকে অবস্থিত আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ের উত্তাপ ছড়ানো এই ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৫টায়।

টানা দুই হারের পর আফগানদের বিরুদ্ধে নাটকীয় জয়ে বাংলাদেশ শিবির উজ্জীবিত। প্রতিপক্ষ যেই হোক, এখন লক্ষ্যটা শুধুই জয়। ডু অর ডাই। ফাইনালের মঞ্চে ওঠা চাই টানা দ্বিতীয়বারের মতো। ফাইনালে যদিও আগেভাগে উঠে চোখ রাঙাচ্ছে শক্তিশালী ভারত। তাতে ভ্রূক্ষেপ নেই। টাইগারদের পূর্ণ মনোযোগ শুধুই সরফরাজ-আমিরদের নিয়ে। যাদের কাছে এই ম্যাচটিও বাংলাদেশের মতো সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফাইনালে ভারতের মোকাবেলা করতে উন্মুখ পাক শিবির। কারণ টাইগারদের নিয়েও তো স্বপ্নের বীজ বুনছেন বাংলাদেশের কোটি ভক্ত-সমর্থক।

আফগানদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিস্ময়কর ৩ রানের জয় বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর মূল মন্ত্র। ঠিক উল্টোটা পাকিস্তানের। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সঙ্গে টানা দুটি বাজে হার আত্মবিশ্বাসে মারছে প্রবল ধাক্কা। তবে বাংলাদেশের মতো পাকিস্তানও লড়াকু মনোভাবের রস নিতে পারে আফগানিস্তানের ম্যাচ থেকেই। যেখানে কঠিন লড়াই করেই জিততে হয়েছিল সরফরাজদের।

ধারে ও ভারে আজ বাংলাদেশের চেয়ে অনুমিতভাবে এগিয়ে পাকিস্তান। পরিসংখ্যানও টাইগারদের চোখ রাঙাচ্ছে রীতিমতো। ৩৫ বারের মোকাবেলায় পাকিস্তানের জয় ৩১টি, সেখানে বাংলাদেশের জয় মাত্র ৪টি। সাদা চোখে যা অসম লড়াই। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেরণার জায়গাটাই দলের সর্বশেষ দ্বিপক্ষীয় সিরিজ। ২০১৫ সালের শুরুতে ঘরের মাঠে এই পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা দিয়েছিল বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ব্যবধান ৩-০, যা ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নবযুগের সূচনা। কারণ এর আগে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের একমাত্র জয়টি ছিল সেই ১৯৯৯ বিশ্বকাপে। এরপর টানা ২৫ ম্যাচ হারতে হয়েছে পাকিস্তানের সঙ্গে। বছর তিনেক আগে বাগে পাওয়া যায় তাদের। শুধু জয় কিংবা সিরিজ জয় নয়, সাক্ষাৎ হোয়াইটওয়াশ।

সেই স্মৃতি অবশ্যই তেজোদীপ্ত করবে বাংলাদেশকে। আর ততটাই কুরে কুরে খাবে পাকিস্তানকেও। সেই সিরিজে জয়ের ব্যবধানগুলো দেখুন। মাশরাফিদের কাছে যেন রীতিমতো উড়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। প্রথম ম্যাচে ৭৯ রানের জয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচে জয় সাত ও আট উইকেটের।

সবশেষ স্মৃতি আশা জাগানিয়া হলেও বাংলাদেশের কাটার স্পেশালিস্ট মোস্তাফিজুর রহমানের ভাবনা অন্যরকম। অলিখিত সেমিফাইনালের আগে আফগান ম্যাচের এই ম্যাজিশিয়ান বলেছেন, পাকিস্তান হলো ক্রিস গেইলের মতো। যাকে বিশ্বাস করা কঠিন। মর্মকথা হলো, গেইল যেমন ক্ষেপে গেলে ঠেকানো মুশকিল। পাকিস্তানও তেমন। এরপর গায়ে আবার লেপ্টে আছে আনপ্রেডিক্টেবল শব্দটিও। যার বাংলা অর্থ অননুমেয়। মানে, যা আগে অনুমান করা যায় না।

তবে অনুমানের দরকারও নেই। বাংলদেশের লক্ষ্য নিজেদের কাজটি মাঠে যথাযথভাবে প্রয়োগ করা। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং- তিন ভার্সনে সেরাটা দিতে পারলে ফাইনালের রঙিন মঞ্চ ডাকবে বাংলাদেশকেই। দলের সঙ্গে হঠাৎ যোগ দিয়ে ব্যাটের সোনালি আভায় নতুন কিছুরই আভাস দিয়েছেন ইমরুল কায়েস। এর সঙ্গে টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের দরকার সুখকর মিতালি, আর ম্যাজিকম্যান মোস্তাফিজের মতো দুর্দমনীয় হয়ে উঠুক বোলিং বিভাগ। তাহলেই ২৮ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে এশিয়া কাপের ট্রফি নির্ধারণী ম্যাচে ভারতের সামনে দেখা যেতে পারে বাংলাদেশকেও। এমন আশাটা মোটেই অমূলক নয়।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads