• বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮

দ্বিতীয় দ্বিশতকে মুশফিকের ইতিহাস

ডবল সেঞ্চুরির পথে মুশফিকের বাউন্ডারি

ছবি : বাংলাদেশের খবর

ক্রিকেট

দ্বিতীয় দ্বিশতকে মুশফিকের ইতিহাস

  • মাহমুদুন্নবী চঞ্চল
  • প্রকাশিত ১৩ নভেম্বর ২০১৮

ডবল সেঞ্চুরি থেকে মুশফিক তখন এক রান দূরে। বোলিংয়ে ব্রান্ডন মাভুটা। ব্যাটসম্যানকে ঘিরে জাঁকালো ফিল্ডিং। এক রান নেওয়াই যেন দুষ্কর। হলো না তাই। মেডেন। অপেক্ষা বাড়ল কয়েক মিনিটের জন্য। পরের ওভারে এলেন সিকান্দার রাজা। পঞ্চম বলে স্কয়ার লেগে ঠেলে দিয়ে বোল্ট গতিতে দৌড়ালেন মুশফিক। হয়ে গেল নানা রেকর্ডসমৃদ্ধ এক ডবল সেঞ্চুরি। ইতিহাসের পাতায় ‘পকেট ডায়নামো’খ্যাত সবার প্রিয় মুশি।

টেস্টের প্রথম দিন সেঞ্চুরি করার পর মুশফিকের উদযাপন ছিল বেশ আগ্রাসী। গতকাল ডবল সেঞ্চুরির পরও উদযাপন করলেন, তাতে মিশে থাকল সৃষ্টিকর্তার ওপর অগাধ শ্রদ্ধা আর ছন্দময় ভালোবাসা। ক্রিজে ব্যাট স্পর্শ করতেই দুই হাত প্রসারিত করে দিলেন দৌড়। আকাশ পানে তাকানো মুশফিকের চোখেমুখে রাজ্যের স্বস্তি। এরপর ব্যাট ফেলে দিয়ে এক ঝটকায় খুললেন হাতের গ্লাভস। দুই হাতে আঁকলেন ভালোবাসার চিহ্ন। পরে চুমু এঁকে পাঠিয়ে দিলেন স্ত্রী মন্ডির উদ্দেশে। এখানেই শেষ নয়। মুষ্টিবদ্ধ ডান হাতে তুললেন ঝঙ্কার। বুকের বাঁ পাশে থাপ্পড় মেরে যেন জানান দিলেন ‘আই অ্যাম মুশফিক’। সবশেষে সবুজ জমিনে সেজদা।

আসলেই তাই। জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে বীরত্বমাখা এক ইনিংসই খেলেছেন মুশফিক। যাতে হয়েছে বেশ কটি রেকর্ড। একটি তো আবার বিশ্বরেকর্ডই। বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ৫২২ রানে ইনিংস ডিক্লেয়ার করলেও ২১৯ রানে অপরাজিত মুশফিক। টেস্টে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ডবল সেঞ্চুরিয়ান তিনি এবং সাকিবকে ছাড়িয়ে নতুন মাইলফলকে মুশি।

শন উইলিয়ামসকে রিভার্স সুইপে চার মেরে সাকিব আল হাসানকে (২১৭) স্পর্শ করেন মুশফিক। পরের বলে সিঙ্গেল ছাড়িয়ে নতুন চূড়ায় অধিষ্ঠিত হন তিনি। টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড পুনরুদ্ধার করলেন মুশফিক।

বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ডবল সেঞ্চুরি করেছিলেন মুশফিক, ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলে। করেছিলেন ঠিক ২০০। ২০১৫ সালে তাকে ছাড়িয়ে তামিম ইকবাল করেন ২০৬। গত বছর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিব করেন রেকর্ড গড়া ২১৭। এবার মুশফিক আবার নিজের করে নিলেন রেকর্ড। মাঠ ছাড়েন ২১৯ রানে অপরাজিত থেকে। মুশফিকের আরেকটি রেকর্ড বৈশ্বিক। আর সেটা হলো টেস্ট ইতিহাসে প্রথম কিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে দুটি ডবল সেঞ্চুরির দেখা পেলেন তিনি। চলতি বছর টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম ডবল সেঞ্চুরির ঘটনাও এটি।

রেকর্ড আছে আরো। বাংলাদেশের আগের তিন ডবল সেঞ্চুরির ঘটনা ছিল যথাক্রমে গলে, খুলনা ও সুদূর ওয়েলিংটন ভেন্যুতে। মিরপুর এই প্রথম উপভোগ করল কোনো ডবল সেঞ্চুরির। বেশি বল ও সময়ের হিসাবেও রেকর্ড গড়েছেন মুশফিক। টেস্টে সবচেয়ে বেশি সময় ব্যাট করার রেকর্ডটি ছিল বাংলাদেশের অভিষেকে সেঞ্চুরি করা আমিনুল ইসলাম বুলবুলের, ৫৩৫ মিনিট। সেটি মুশফিক ছাড়িয়ে যান প্রথম সেশনেই। পরে বলের হিসাবেও করেন রেকর্ড। সর্বোচ্চ ৪১৭ বল খেলার কৃতিত্ব ছিল মোহাম্মদ আশরাফুলের। সেটিও ছাড়িয়ে গেছেন মুশফিক। ২১৯ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেছেন মুশফিক ৪২১ বলে।

প্রথম দিনের ১১১ রান নিয়ে খেলতে নামা মুশফিকের সঙ্গী ছিলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। প্রথম সেশনটা অনায়াসেই কাটিয়ে দেন দুজন। শেষ পর্যন্ত এই জুটি বিচ্ছিন্ন হয় ৭৩ রান করে। ১১০ বল খেলে ৩৬ রানের ধৈর্যশীল ইনিংস উপহার দেন মাহমুদউল্লাহ। জার্ভিসের বলে ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে চাকাভার গ্লাভসে। প্রথম টেস্টে চমক দেখানো আরিফুল হক এরপর টেকেননি বেশিক্ষণ। ১৮ বলে করতে পেরেছেন মাত্র ৪। মুশফিকের আসল রসায়নটা হয় মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে। ইনিংস ঘোষণার আগ পর্যন্ত এই জুটিকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেননি কোনো জিম্বাবুয়েন বোলার। এই জুটি উপহার দেয় ১৪৪ রান।

মুশফিক যখন হাঁটছেন ডবল সেঞ্চুরির দিকে, মিরাজের লক্ষ্য তখন ফিফটি। টেস্ট ক্রিকেট হলেও ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পঞ্চাশ স্পর্শ করেন মিরাজ সিকান্দার রাজাকে ছক্কা হাঁকিয়ে। শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিত থাকেন ক্যারিয়ার সেরা ৬৮ রানে। ১০২ বলের ছোট্ট ইনিংসে মিরাজ হাঁকিয়েছেন ৫ চার ও ১ ছক্কা। অন্যদিকে ২১৯ রানের রেকর্ডময় ইনিংসে মুশফিক হাঁকিয়েছেন ১৮ চার ও ১ ছক্কা। দ্বিতীয় ডবল সেঞ্চুরিতে মুশফিক ছিলেন খুবই ধীরস্থির। ক্যারিয়ারের প্রথম ডবল সেঞ্চুরিতে তিনি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছিলেন ২২টি, ছক্কা একটি। ২১৭ রানের ইনিংসে সাকিব ছক্কা না পেলেও মেরেছিলেন ৩১টি বাউন্ডারি। তবে ২০৬ রানের ইনিংসে তামিম ছিলেন ক্ষেপাটে। ১৭ চারের বিপরীতে তার ব্যাটে দেখা মিলেছিল ৭ ছক্কার। সব ডবল সেঞ্চুরির তুলনায় এবারের মুশফিকেরটা ছিল ধীরলয়ের। সিঙ্গেলস আর ডবলসে গুরুত্ব দেওয়ায় ইনিংসটা পেয়েছে ক্লাসিক্যালের মর্যাদা।

মুশফিকের ডবল সেঞ্চুরির পরই ইনিংস ঘোষণার প্রস্তুতি বাংলাদেশ শিবিরে। তবে সুযোগ দেওয়া হয় মুশিকে, সাকিবকে টপকে যাওয়ার। সবই হয়েছে মসৃণভাবে। সেই সঙ্গে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটাও খেলে ফেলে বাংলাদেশ (৫২২/৭)। আগেরটি ছিল ৫০৩ রানের। ২০১৪ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রামে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads