• বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৫
ads
জয়ের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

আট বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে সেঞ্চুরি। খুশিতে যেন আকাশ ছোঁয়ার চেষ্টা করলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ

ছবি : ক্রিকইনফো

ক্রিকেট

জয়ের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

  • মাহমুদুন্নবী চঞ্চল
  • প্রকাশিত ১৫ নভেম্বর ২০১৮

টেস্ট ক্রিকেটে দুই ইনিংসেই ডিক্লেয়ারের ঘটনা দ্বিতীয়বারের মতো করল বাংলাদেশ। প্রথমবার ছিল ২০১১ সালে চট্টগ্রামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। যদিও সেই ম্যাচে বৃষ্টি একটা প্রভাব রেখেছিল। ম্যাচ হয়েছিল ড্র। দ্বিতীয় ঘটনা এবার মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে। তবে এই টেস্টের চিত্র সম্পূর্ণই ভিন্ন। বৃষ্টির বালাই নেই। বরং অপেক্ষা বাড়ছে শেষ দিনের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের। কী হবে এবার? বাংলাদেশ অন্তত জয়ের জন্যই পাখির চোখ করে আছে। সেটার পেছনে কারণ একাধিক।

জিততে হলে জিম্বাবুয়েকে গড়তে হবে বিশ্বরেকর্ড। করতে হবে ৪৪৩ রান। পঞ্চম ও শেষ দিন হাতে উইকেট ৮টি। যদিও উইকেট আসলে সাতটি। কারণ ইনজুরিগ্রস্ত চাতারা করতে পারবেন না ব্যাটিং। বাংলাদেশের সামনে তিনটি সেশন, ৯০ ওভার, টার্গেট বাকি সব উইকেট তুলে নেওয়া। চতুর্থ দিন শেষে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৭৬। আজ শেষ দিনে জয়ের জন্য তাদের দরকার ৩৬৭ রান। একদিনে এত রান করা অসম্ভবই। জিম্বাবুয়ের লক্ষ্য থাকবে গোটা দিন টিকে থাকা। ড্র হলেই সিরিজ জিতবে তারা, ১-০ ব্যবধানে।

গতকাল ম্যাচের চতুর্থ দিনে আলোচনায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দলের বিপর্যয় রোধ করে বাংলাদেশ অধিনায়ক পেয়েছেন সাড়ে আট বছর পর টেস্টে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ২২৪ রান তোলার পর করে ইনিংস ঘোষণা। ৪৪৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দিনের বাকি ৩০ ওভার খেলেছে জিম্বাবুয়ে। শুরুতে ভয় ধরিয়ে দিলেও দুই ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফিরিয়ে স্বস্তি বিরাজ করছে বাংলাদেশ শিবিরে।

অথচ ক্যাচ না ফসকালে চিত্র ভিন্ন রকম হতে পারত। বড় লক্ষ্যে খেলতে নেমে ব্যক্তিগত শূন্য রানে ব্রায়ান চারি তাইজুলের বলে ক্যাচ দিয়েছিলেন স্লিপে। তা লুফে নিতে পারেননি মিরাজ। ব্যক্তিগত ৫ রানে মাসাকাদজা অভিষিক্ত খালেদ আহমেদের বলে ক্যাচ দিয়েছিলেন সেই মিরাজের কাছেই, এবারো ব্যর্থ তিনি। শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের ওপেনিং জুটি ভেঙে নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত অবশ্য করেছেন মিরাজ নিজেই। তিনি সাজঘরে ফেরান অধিনায়ক মাসাকাদজাকে (২৫)। তখন জিম্বাবুয়ের দলীয় রান ৬৮। আর দিনের শেষ উইকেট ব্রায়ান চারিকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তাইজুল। চারির ব্যাট থেকে এসেছে ৪৩ রান।

এর আগে জিম্বাবুয়েকে ফলোঅন না করিয়ে বড় লিডের আশায় ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ শুরুতেই পড়েছিল ব্যাটিং বিপর্যয়ে। ১০ রানের মধ্যেই হারায় তিন উইকেট। শুরুতেই ফেরেন ইমরুল (৩)। কাইল জার্ভিসের বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ যায় ব্রেন্ডন মাভুটার হাতে। এরপর জার্ভিসের দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড লিটন (৬)। তিরিপানোর বলে দ্রুত ফেরেন প্রথম ইনিংসে ১৬১ রানের ইনিংস খেলা মুমিনুলও (১)। শুরুর বিপর্যয় রোধ করতে পারেনি আগের ইনিংসের ডবল সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকের সঙ্গে অভিষিক্ত মোহাম্মদ মিঠুন জুটি। দলীয় ২৫ রানে আত্মঘাতী শটে বিদায় মুশফিক (৭)। তিরিপানোর বলে স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন মাভুটার হাতে।

দলের এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব বর্তায় মাহমুদউল্লাহর কাঁধে। সঙ্গে ছিলেন মিঠুন। দুজন পারলেনও। এই জুটি থেকে আসে গুরুত্বপূর্ণ ১১৮ রান। অভিষেক টেস্টে প্রথম ইনিংসে শূন্য রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে দলের ভীষণ প্রয়োজনের সময় মিঠুন করলেন ৬৭ রান। ১১০ বলের ইনিংসে ৪টি চার, ছক্কা ১টি। মাহমুদউল্লাহ তখন সেঞ্চুরির পথে। নতুন সঙ্গী আরিফুল। কিন্তু টিকতে পারেননি তিনি। উইলিয়ামসের বলে ব্যক্তিগত ৫ রানে বোল্ড আরিফুল। এরপর মিরাজের সঙ্গে মাহমুদউল্লাহর জুটি থেকে আসে অবিচ্ছিন্ন ৭৩ রান।

মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরির পরই ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। ১২২ বলে ১০১ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন মাহমুদউল্লাহ। তিনি হাঁকিয়েছেন ৪টি চার ও ২টি ছক্কা। ৩৪ বলে ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন মিরাজ। তার ইনিংসে ছিল ২টি চারের মার। 

ম্যাচের শেষ দিনে আজ তুঙ্গস্পর্শী উত্তেজনা ভর করবে মিরপুরে। তবে বাংলাদেশ জয়ের ক্যানভাসে শেষ তুলির আঁচর দিতে প্রস্তুত। বড় কোনো অঘটন না হলে জিততে চলেছেন মাহমুদউল্লাহরা, তেমন আশা করাই যায়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads