• শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads

ক্রিকেট

সাকিবের সেঞ্চুরির পরও বাংলাদেশের বড় হার

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ০৯ জুন ২০১৯

বোলারদের ব্যর্থতার পর সাকিব আল হাসানের সেঞ্চুরির পরও বিশ্বকাপের ১২তম ও নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে হারতে হলো বাংলাদেশকে। ১০৬ রানের বড় ব্যবধানে ম্যাচ হারে টাইগাররা। টুর্নামেন্টে তৃতীয় ম্যাচে এটি দ্বিতীয় হার বাংলাদেশের। টস হেরে জেসন রয়ের ১৫৩ রানের সুবাদে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৮৬ রান করে ইংল্যান্ড। জবাবে সাকিবের ১২১ রানের পরও ৭ বল বাকী রেখে ২৮০ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।

কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন্সে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। ব্যাট হাতে উড়ন্ত সূচনা করেন ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টো। বাংলাদেশ বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকেন তারা। ফলে রয়-বেয়ারস্টোর জোড়া হাফ-সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ডের স্কোর শত রানের কোটা পেরিয়ে যায়। ১৫ ওভারেই দলীয় শত রান পুর্ন করে ইল্যান্ড। পাঁচ বোলার ব্যবহার করে ১৯ ওভারেও ইংল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটি ভাঙ্গতে পারছিলেন না দলপতি মাশরাফি।

অবশেষে ২০তম ওভারের প্রথম বলে ইংল্যান্ডের প্রথম উইকেটের পতন ঘটান বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি । ৬টি চারে ৫০ বলে ৫১ রান করে মাশরাফির বলে আউট হন বেয়ারস্টো। কভারে বেয়ারস্টোর দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন বাংলাদেশের স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। ফলে দলীয় ১২৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। এবারের বিশ্বকাপে এটিই মাশরাফির প্রথম উইকেট ।

বেয়ারস্টোর বিদায়ের পর জো রুটের সাথে জুটি বাঁধের মারমুখী মেজাজে থাকা রয়। ৯১ বলে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন রয়। তিন অংকে পা দিয়েও নিজের ইনিংস বড় করছিলেন তিনি। ৩৫তম ওভারের প্রথম তিন বলে স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজকে তিনটি ছক্কা মেরে দেড়শ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন রয়। তবে ঐ ওভারের চতুর্থ বলে মাশরাফিকে ক্যাচ দিয়ে আউট হওয়ার আগে ১৪টি চার ও ৫টি ছক্কায় ১২১ বলে ১৫৩ রান করেন তিনি। দ্বিতীয় উইকেটে রুটের সাথে ৭৭ রান যোগ করেন রয়। রয়ের আগে রুটকে ২১ রানে থামিয়েছেন বাংলাদেশের পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

রুটের বিদায়ে ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পান উইকেটরক্ষক জশ বাটলার। চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক ইয়োইন মরগানের সাথে মারমুখী ব্যাট করেছেন বাটলার। দলকে রানের পাহাড়ে তুলতেই বিধ্বংসী রুপ নেন তারা। ৬৫ বলে ৯৫ রান যোগ করেন বাটলার ও মরগান। তাতে বড় সংগ্রহের পথ পেয়ে যায় ইংল্যান্ড। বাটলারকে ব্যক্তিগত ৬৪ রানে থামিয়ে দিয়ে রানের লাগাম টেনে ধরার চেষ্টা করেন বাংলাদেশের সাইফউদ্দিন। ২টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৪৪ বলে ৬৪ রান করেন বাটলার।

দলীয় ৩৩০ রানে বাটলারের বিদায়ের পর ৩৪১ রানে পৌছাতেই আরও দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে ইংল্যান্ড। ৩৫ রান করা মরগানকে মিরাজ ও ৬ রানে বেন স্টোকসকে থামিয়ে দেন মুস্তাফিজুর রহমান। তারপরও ক্রিস ওকসের ৮ বলে ২টি ছক্কায় ১৮ ও লিয়াম প্লাংকেটের ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় মাত্র ৯ বলে ২৭ রানের উপর ভর করে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৮৬ রানের সংগ্রহ পায় ইংল্যান্ড। বাংলাদেশের মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৭৮ রানে ২ ও মেহেদি হাসান মিরাজ ৬৭ রানে ২ উইকেট নেন। এছাড়া মাশরাফি-মুস্তাফিজ ১টি করে উইকেট নেন।

জয়ের জন্য ৩৮৭ রানের বড় টার্গেটে পায় বাংলাদেশ। এই রান তাড়া করে ম্যাচ জিততে পারলে বিশ্বকাপে রেকর্ড গড়বে টাইগাররা। তবে এসব সমীকরন মাথায় না নিয়ে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটাই আসল লক্ষ্য ছিলো বাংলাদেশের। কিন্তু দলীয় ৮ রানেই প্রথম উইকেট হারায় মাশরাফির দল। ২ রান করে ইংল্যান্ডের পেসার জোফরা আর্চারের বলে বোল্ড হন সৌম্য। এরপর শুরুর ধাক্কা সামাল দেন আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল ও সাকিব। তামিম ধীর থাকলেও, অন্যপ্রান্তে ইংল্যান্ড বোলারদের শাসন করেছেন সাকিব।

বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান তুলেছেন সাকিব। তারপরও ৫০এ পৌছাতে ১১তম ওভার লেগে যায় বাংলাদেশের। তবে পরের ওভারে তামিমকে হারানোর ধাক্কা খায় টাইগাররা। ১টি চারে ২৯ বলে ১৯ রান করে আউট হন তামিম। ৬৩ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানোর পর ক্রিজে সাকিবের সাথে দলের হাল ধরেন মুশফিকুর রহিম। সাকিব যেহেতু সাবলীলভাবে রান তুলছিলেন, তাই সতীর্থকে সঙ্গ দেয়াই প্রধান কাজ ছিলো মুশফিকের। আর সেই কাজটি দক্ষতার সাথেই করেছেন টাইগার উইকেটক্ষক। তাই সাকিব নৈপুন্যে বাংলাদেশের স্কোর দেড়শও পেরিয়ে যায় ২৭তম ওভারে। এসময় সাকিব ৮৪ ও মুশফিকুর ৩৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। এই টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচের পর আবারো হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান সাকিব।

তবে দলীয় ১৬৯ রানে বিচ্ছিন্ন হয় সাকিব-মুশফিক জুটি। ২টি চারে ৫০ বলে ৪৪ রান করে ফিরেন মুশফিক। তৃতীয় উইকেটে ১০২ বলে ১০৬ রান দলকে উপহার দেন সাকিব-মুশফিক। এরপর ক্রিজে আসেন মোহাম্মদ মিঠুন। আগের দু’ম্যাচে ভালো শুরু করেও, বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি। আর এবার ২ বলের বেশি ক্রিজে ঠিকতে পারেননি মিঠুন। ইংল্যান্ডের স্পিনার আদিল রশিদের বলে আউট হন মিঠুন।

মিঠুনের বিদায়ের ক্রিজে সাকিবের সঙ্গী হন এই কার্ডিফে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেঞ্চুরি করা মাহমুদুল্লাহ। মাহমুদুল্লাহ যোগদানের কিছুক্ষণই পরই ওয়ানডে ক্যারিয়ারে নিজের ২০১তম ম্যাচে অষ্টম সেঞ্চুরির দেখা পান সাকিব। নিজের ৯৫তম বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সাকিব। নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেলেন তিনি। মাহমুদুল্লাহ’র পর দ্বিতীয় বাংলাদেশী হিসেবে বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করলেন সাকিব।

২০১৭ সালের ৯ জুন কাডির্ফের সোফিয়া গার্ডেন্সে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। দু’বছর হবার একদিন আগে, অর্থাৎ আজ ৮ জুন সেই কার্ডিফেই আবারো সেঞ্চুরি করলেন সাকিব। তিন অংতেক পা দিয়ে নিজের ইনিংস বড় করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু ১২১ রানে থেমে যান সাকিব। তার ইনিংসে ১২টি চার ও ১টি ছক্কা ছিলো। ইংল্যান্ডের পেসার স্টোকসের বলে বোল্ড হন আজ বল হাতে উইকেটশুন্য থাকা সাকিব।

দলীয় ২১৯ রানে পঞ্চম ব্যাটসম্যান আউট হন সাকিব। এরপর মাহমুদুল্লাহ ২৮, মোসাদ্দেক হোসেন ২৬ ও মিরাজ ১২ রানের ছোট ছোট ইনিংস খেলে আউট হলে ২৮০ রান পর্যন্ত যেতে পারে বাংলদেশ। ৭ বল বাকী রেখেই নিজেদের ইনিংস গুটিয়ে নেয় টাইগাররা। ইংল্যান্ডের আর্চার-স্টোকস ৩টি করে উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হয়েছেন ইংল্যান্ডের রয়।

আগামী ১১ জুন বিস্ট্র্রলে শ্রীলংকার বিপক্ষে এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads