• বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
সেই ছয় রান নিয়ে প্রশ্ন

ছবি : সংগৃহীত

ক্রিকেট

সেই ছয় রান নিয়ে প্রশ্ন

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৬ জুলাই ২০১৯

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের এবারের ফাইনালটি নিঃসন্দেহে মহাকাব্যিক। উত্তেজনা আর রোমাঞ্চে ভরপুর ছিল ম্যাচটি। সুপার ওভারে গড়ানো ম্যাচে শেষ হাসি হাসে ইংল্যান্ড। যদিও সুপার ওভারেও হয়েছে টাই। বেশি বাউন্ডারি মেরে চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। রানারআপ নিউজিল্যান্ড।

শিরোপা জয়ের আনন্দে ভাসছে এখন ইংল্যান্ড, হূদয় ভাঙার শোকে মুহ্যমান নিউজিল্যান্ড। এই যখন অবস্থা তখন আলোড়ন তোলা ফাইনালের একটি অংশ প্রশ্নের সম্মুখীন। আর সেটা ইংল্যান্ডের ইনিংসের শেষ ওভারটি। বোল্টের করার চতুর্থ বলে ব্যাট করছিলেন বেন স্টোকস। দুটি রান নেন পার্টনার আদিল রশিদকে সঙ্গে করে। দ্বিতীয় রান নেওয়ার সময় গাপটিলের ছোড়া থ্রো স্টোকসের ব্যাটে লেগে হয়ে যায় বাউন্ডারি। আম্পায়ার ধর্মসেনা ইংল্যান্ডকে রান দেন ৬টি। এখানেই বেঁধেছে গোলমাল।  

আইসিসির সাবেক প্রথিতযশা আম্পায়ার নিউজিল্যান্ডের সাইমন টোফেল তুলেছেন প্রশ্ন। তার মতে, নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে। আইনানুযায়ী, ওই চতুর্থ বলে রান আসে ৫টি। বাউন্ডারির চার, আর দৌড়ে এক রান। টোফেলের এমন প্রশ্ন তোলার সুযোগ করে দিয়েছে ক্রিকেটেরই ‘ফিল্ডারদের ওভারথ্রো কিংবা ইচ্ছাকৃত কাজ’ নিয়ে আইনের ১৯.৮ অনুচ্ছেদ। সেখানে বলা হয়েছে, ‘ফিল্ডারের ওভারথ্রো কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে করা কোনো কিছু থেকে বাউন্ডারি হলে...বাউন্ডারি যোগ হবে এবং ব্যাটসম্যানরা একসঙ্গে যত রান নিয়েছেন সেটাও, যদি থ্রোয়ের সময় তারা ইতোমধ্যেই একে-অপরকে পার হয়ে যান।’

আইনের শেষ কথাটি নিয়েই প্যাঁচ লেগেছে। ওই ঘটনার ভিডিও রিপ্লে দেখে পরিষ্কার বোঝা গেছে, গাপটিল থ্রো করার সময় ইংল্যান্ডের দুই ব্যাটসম্যান বেন স্টোকস ও আদিল রশিদ দ্বিতীয় রান নেওয়ার জন্য একে-অপরকে ক্রস (পার হওয়া) করেননি। অর্থাৎ গাপটিল যখন থ্রোয়ের জন্য বল তুলছিলেন, স্টোকস নন-স্ট্রাইক প্রান্তে আর আদিল রশিদ স্ট্রাইকারের প্রান্তে ছিলেন। অর্থাৎ দৌড়ে ২ রান নয়, ১ রান হবে আর সঙ্গে বাউন্ডারি, মোট ৫ রান। আইনটির অস্পষ্টতার কারণেই এ প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, ফিল্ডারদের থ্রো নিয়ে যেমন পরিষ্কার করে কিছু বলা হয়নি, তেমনি গোটা প্রক্রিয়ায় ব্যাটসম্যানদের ভূমিকা নিয়েও স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। গাপটিলের থ্রো কিন্তু উইকেটরক্ষক বরাবরই ছিল। ব্যাটসম্যানের ব্যাটে লাগার কারণে তা ওভারথ্রো হয়েছে।

এই ৬টি রানই ম্যাচের মোড় ঘুরে দিয়েছিল। শেষ দুই বলে দরকার ছিল তখন ৩। শেষ বলে দরকার ছিল দুই রান। এক রান নিয়ে ম্যাচ হয় টাই। কিন্তু ইংল্যান্ড চতুর্থ বলে যদি পাঁচ রান পেত, তখন ইংলিশদের দুই বলে দরকার পড়ত ৪ রান। পঞ্চম বলে ম্যাচের মতো এক রান এলে, তখন শেষ বলে তিন রান লাগত জয়ের জন্য। তখন ম্যাচের চিত্র কোন দিকে যায়, তা বলা মুশকিলই ছিল।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads