• সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬
ads
প্রস্তুতি ম্যাচে দাপুটে জয়

সংগৃহীত ছবি

ক্রিকেট

প্রস্তুতি ম্যাচে দাপুটে জয়

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৪ জুলাই ২০১৯

সিরিজ শুরুর আগে প্রস্তুতিটা ভালোই হলো বাংলাদেশের। গতকাল একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে শ্রীলঙ্কা বোর্ড সভাপতি একাদশকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে তামিম শিবির। লক্ষ্যটা ছিল কঠিন। আগে ব্যাট করতে নেমে স্বাগতিকরা করে ৮ উইকেটে ২৮২। চ্যালেঞ্জিং স্কোর বাংলাদেশ টপকে যায় ৫ উইকেটে, ১১ বল হাতে রেখে।

একমাত্র সৌম্য ছাড়া ব্যাটিং প্র্যাকটিস মোটামুটি সবারই ভালো হয়েছে। দারুণ খেলেছেন মোহাম্মদ মিঠুন। তবে শেষটা আক্ষেপে মেশানো। অল্পের জন্য পাননি সেঞ্চুরি। মুশফিক পেয়েছেন ফিফটির দেখা। তামিম, সাব্বির, রিয়াদ ফিফটি না পেলেও সবাই আউট হয়েছে তিরিশের ঘরে।

বড় লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা ভালোই ছিল বাংলাদেশের। দুই ওপেনার তামিম-সৌম্যর ব্যাটে আসে ৪৫ রান। তবে তামিমের চেয়ে অনেক ধীরগতির ছিলেন সৌম্য সরকার। থিতু হতে চেয়েও পারেননি। ২৪ বল খেলে ১৩ রানে বিদায় নেন কুমারার বলে আপনসোর হাতে ক্যাচ দিয়ে। এর কিছুক্ষণ পর আউট আরেক ওপেনার তামিমের। ইনিংসটা বড় করতে পারেননি। ৪৭ বলে ৩৭ রান করে তামিমও কুমারার শিকার। তার ইনিংসে ছিল চারটি চার।

৫৮ রানে দুই উইকেট হারানো বাংলাদেশ তখন অনেকটাই চাপে। বড় জুটি না হলে ভর করবে বিপদ। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ভরসা জাগান মোহাম্মদ মিঠুন ও অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। এই জুটি বলতে গেলে জয়ের ভিত গড়ে দেয়। বরাবর ৫০ রান করে আউট হন মুশফিকুর রহিম। ৪৬ বলের ইনিংসে তিনি এক ছক্কার পাশাপাশি মেরেছেন ছয়টি চার। দলীয় ১৩১ রানে বাংলাদেশের তৃতীয় উইকেটের পতন।

মুশফিক বিদায় নিলেও অপর প্রান্তে মোহাম্মদ মিঠুন তখনো দুরন্ত। রানের চাকা সচল রাখেন তিনি। তার সঙ্গে যোগ্য সঙ্গ দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এই জুটি দলকে টেনে নিয়ে যান ২২৭ রান পর্যন্ত। ৩৭ বলে তিন চারে ৩৩ রান করা মাহমুদউল্লাহ বোল্ড হন ধনাঞ্জয়ের বলে। মোহাম্মদ মিঠুনের নতুন সঙ্গী তখন হার্ড হিটার সাব্বির রহমান। এই জুটি বিচ্ছিন্ন হয় দলীয় ২৬২ রানে। আফসোস নিয়ে সাজঘরে ফেরেন মিঠুন। ১০০ বলে তিনি করেন ৯১। যা ইনিংস সর্বোচ্চ। ১১টি চারের পাশাপাশি তিনি হাঁকান একটি ছক্কা।

এরপর অবশ্য জয়ের জন্য আর কোনো উইকেট হারাতে হয়নি বাংলাদেশের। ষষ্ঠ উইকেটে সাব্বির-মোসাদ্দেকের অবিচ্ছিন্ন জুটি দলকে জয় পাইয়ে দেয়। সাব্বির ৩১ ও মোসাদ্দেক ১৫ রানে থাকেন অপরাজিত।  

এর আগে টস পর্বে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা বোর্ড সভাপতি একাদশ। বোলিং পরীক্ষার সামনে বাংলাদেশ। শুরুটা দারুণই হয়েছিল। কলম্বোর পি সারা ওভালে রুবেল-তাসকিন-মোস্তাফিজরা নিজেদের ভালোই ঝালিয়ে নেন। ১৪৬ রানে ৬ উইকেটও পড়ে গিয়েছিল স্বাগতিকদের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শেহান জয়াসুরিয়া আর দাসুন শানাকার ব্যাটে বড় স্কোরই গড়ে বোর্ড সভাপতি একাদশ। ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে আসে ২৮২ রান।

বড় স্কোর গড়লেও দলটির অধিনায়ক ওপেনার নিরোশান ডিকভেলা কিছুই করতে পারেননি। ইনিংসের তৃতীয় বলেই রুবেল হোসেনের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন। রানের খাতা খুলতে পারেননি ডিকভেলা। তাসকিন ও রুবেলের তোপে দলীয় ৩২ রানের মধ্যে ফিরে যান ওশাদা ফার্নান্দো ও দানুষ্কা গুনাথিলাকা। ইনিংসের মাঝপথে হাফ সেঞ্চুরি করে দলের ব্যাটিংয়ের হাল ধরার চেষ্টা করেন শেহান জয়াসুরিয়া। তিনি ৫৬ রানে সৌম্য সরকারের বলে সাব্বির রহমানের হাতে ধরা পড়েন।

মোটামুটি নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে লঙ্কানরা এক পর্যায়ে পরিণত হয় ৬ উইকেটে ১৪৬। কিন্তু শেষ দিকে শানাকা মাত্র ৬৩ বলে ৮৬ রান করে শ্রীলঙ্কা বোর্ড সভাপতি একাদশের সংগ্রহটাকে নিয়ে যান চ্যালেঞ্জিং অবস্থানে। শানাকার ব্যাট থেকে আসে ৬টি করে চার ও ছক্কার মার। শানাকাকে সহায়তা দেন ওয়ানিন্দু হাশানাকা। তিনি ২৮ করেন। বাংলাদেশের জন্য সুসংবাদ, কাঁধের চোট নিয়ে খেলা মাহমুদউল্লাহ বল করেছেন তিন ওভার।

চমক জাগানিয়া বোলিং করেছেন সৌম্য। এই বিশ্বকাপে বল হাতে কার্যকর পারফর্ম করা সৌম্য তুলে নেন দুটি উইকেট। ৬ ওভার বোলিং করে তিনি দিয়েছেন ২৯ রান। তাসকিন শুরুতে ভালো বোলিং করলেও পরের দিকে ছিলেন খরুচে। ৭ ওভার বোলিং করে ৫৭ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন তিনি। মোস্তাফিজ ভালোই করেছেন। ৭ ওভারে ২৯ রান দিয়ে নিয়েছেন ১ উইকেট। রুবেল নিয়েছেন ২ উইকেট। রান দিয়েছেন ৭ ওভারে ৩১। ফরহাদ রেজা ৩ ওভার বোলিং করে ২২ রান দিয়ে নিয়েছেন ১ উইকেট।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads