• শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৫
ads
হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ

ছবি : সংগ‍ৃহীত

ক্রিকেট

হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০১ আগস্ট ২০১৯

জঘন্য একটা সিরিজ বলা যেতে পারে। ব্যাটিং কিংবা বোলিং কোন জায়গাতেই সাফল্যের দেখা নেই। ফিল্ডিংয়েও দৈন্যদশা। ফলাফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। শ্রীলঙ্কা সফরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বাজেভাবে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে টিম বাংলাদেশ (৩-০)। গতকাল সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচেও লঙ্কানদের কাছে ১২২ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে তামিম শিবির। আগে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা করে ৮ উইকেটে ২৯৪ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩৬ ওভারে ১৭২ রানে অলআউট বাংলাদেশ।

বড় লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বরাবরের মতো ব্যাট হাতে ব্যর্থ বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল। মাত্র দুই রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। তবে সৌম্যর সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ভালোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অনেকদিন পর দল ডাক পাওয়া এনামুল হক বিজয়। কিন্তু দলীয় ২৯ রানে পড়ে দ্বিতীয় উইকেট। ২৪ বলে ১৪ রান করে তিনি রাজিথার শিকার বিজয়। দাঁড়াতে পারেননি আগের দুই ম্যাচে টানা দুই ফিফটি করা মুশফিকুর রহিম। ১০ রানে তিনি শানাকার বলে ক্যাচ দেন মেন্ডিজের হাতে। ব্যক্তিগত ৪ রান করে আউট হন মোহাম্মদ মিঠুনও। ৬০ রানে চতুর্থ উইকেট পতন, দুর্দশায় বাংলাদেশ।

পঞ্চম উইকেট জুটিতে সর্বশেষ আস্থা ছিল। ক্রিজে তখন সৌম্যর সঙ্গে অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ। আস্তে আস্তে আসে রান। কিন্তু এই জুটিও হতাশ করে। ২৩ রান যোগ হওয়ার পর বিদায় নেন মাহমুদউল্লাহ। বোলার সেই শানাকা। ব্যক্তিগত ৯ রানের মাথায় খোঁচা দিতে গিয়ে রিয়াদ ধরে পড়েন উইকেটের পেছনে।

তারপরও সৌম্য থাকায় আশা বেঁচেছিল। কিন্ত তার সঙ্গে আর কেউ সঙ্গ দিতে পারেনি ম্যাচ জয়ের মতো। সাব্বির ও মিরাজ বিদায় নেন দুই অংকের রান করার আগেই। ১০ ম্যাচ পর ফিফটির দেখা পান সৌম্য। তার বিদায়ের পর পরাজয় ত্বরান্বিত হয় বাংলাদেশের। ৬৯ রানে ধনাঞ্জয়ের বলে বোল্ড হন সৌম্য। দলীয় রান তখন ১৪৩। হার যখন সুনিশ্চিত, তখন জ্বলে ওঠেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। দল হারলেও তিনি অপরাজিত থাকেন ২৮ বলে ৩৯ রান করে।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৩ রানে শফিউল ইসলামের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান আভিস্কা ফার্নান্দো (৬)। ৯৬ রানের মাথায় তাইজুল ইসলাম ফিরিয়ে দেন লঙ্কান দলপতি দিমুথ করুনারত্নেকে। ৬০ বলে ৬টি চারের সাহায্যে লঙ্কান দলপতি করেন ৪৬ রান। এরপর কুশল পেরেরাকে ফেরান রুবেল হোসেন। দলীয় ৯৮ রানের মাথায় পেরেরা সাজঘরে ফেরার আগে করেন ৫১ বলে ৫টি চারে ৪২ রান।

২১.২ ওভারে ৯৮ রানে শ্রীলঙ্কার পড়েছিল তিন উইকেট। অল্প রানে আটকে রাখার দারুণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের। কিন্তু হয়নি তা শেষ পর্যন্ত। ১০১ রানের জুটি গড়েন কুশল মেন্ডিস এবং অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। ফুলে-ফেঁপে বড় হয় লঙ্কানদের ইনিংস। ইনিংসের ৪২তম ওভারে সৌম্য সরকার ফিরিয়ে দেন কুশল মেন্ডিসকে। সাব্বির রহমানের হাতে ধরা পড়ার আগে মেন্ডিস করেন ৫৪ রান। তার ৫৮ বলে সাজানো ইনিংসে ছিল ৫টি চার আর একটি ছক্কার মার। ইনিংসের ৪৭তম ওভারের প্রথম বলে বিদায় নেন ক্রমেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা দাসুন শানাকা। শফিউলের বলে সাব্বিরের হাতে ধরা পড়ার আগে শানাকা ১৪ বলে দুই চার, দুই ছক্কায় করেন ৩০ রান।

৪৯তম ওভারে শফিউল নিজের তৃতীয় উইকেট তুলে নেন। ৭ বলে ১৩ রান করা শিহান জয়াসুরিয়াকে তামিমের হাতে বন্দি করেন এই পেসার। শেষ ওভারে সৌম্যর বলে উইকেটের পেছনে মুশফিকের গ্লাভসবন্দি হন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। তার আগে ৯০ বলে আটটি চার আর একটি ছক্কায় করেন ইনিংস সর্বোচ্চ ৮৭ রান। পরের বলেই সৌম্য ফিরিয়ে দেন আকিলা ধনাঞ্জয়াকে। বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন শফিউল ইসলাম ও সৌম্য সরকার। রুবেল ও তাইজুল পান একটি করে উইকেট।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads