• মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬
ads
আফগান স্পিনেই হুমকি

সংগৃহীত ছবি

ক্রিকেট

আফগান স্পিনেই হুমকি

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

একমাত্র টেস্ট। আগামীকাল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সফরকারী আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ধারে-ভারে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকছে এই টেস্টে। অবশ্য সেটা অভিজ্ঞতার বিচারে। টেস্ট কম খেললেও অন্যান্য ফরম্যাটে সমীহ জাগানো দল আফগানিস্তান। দলে রয়েছে বেশ কজন তারকা স্পিনার। যাদের ঘূর্ণিতে নাকাল হতে পারে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। এই টেস্টে আফগান স্পিন নিয়েই একটু দুশ্চিন্তায় আছেন বাংলাদেশের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো, যা নির্দ্বিধায় তিনি প্রকাশ করেছেন গতকাল প্রেস ব্রিফিংয়ে।

প্রথমবারের মতো আফগানদের তিন ফরম্যাটেই অধিনায়ক এখন রশিদ খান। বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বে যিনি আলোচিত স্পিনার। তার সঙ্গে আছেন অভিজ্ঞ মোহাম্মদ নবী। এই দুজনের সঙ্গে যোগ হয়েছেন চায়নাম্যান বোলার জহির খান। দুদিনের প্রস্তুতি ম্যাচে আফগান স্পিনারদের দাপট দেখা গেছে পরিষ্কার। বিসিবি একাদশের বিরুদ্ধে ম্যাচটি ড্র হলেও আফগানিস্তানের ব্যাট-বলের মহড়া হয়েছে বেশ ভালো। 

ম্যাচে ৮ ওভার বল করে ২৬ রান দিয়ে রশিদ খান পেয়েছিলেন তিন উইকেট। তরুণ জহির খান তো আরো ক্ষুরধার। ১১.৩ ওভারে ২৪ রানের বিনিময়ে তুলে নেন ৫টি উইকেট। অর্থাৎ বাংলাদেশের মোট ১১ উইকেটের ৮টিই ছিল এই দুই স্পিনারের দখলে। ভাগ্যিস মোহাম্মদ নবী জ্বলে ওঠেননি! তাই বলে যে মূল ম্যাচে ঝলক দেখাবেন না, তার নিশ্চয়তা কী। টেস্টে এই ত্রয়ী স্পিনারকে সামলাতে হবে বাংলাদেশকে।

প্রস্তুতি ম্যাচে আফগান স্পিনারদের দাপট দেখেছেন বাংলাদেশের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। গতকাল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে স্পিন প্রসঙ্গ আসতেই কোনো রাখঢাক না রেখে ডমিঙ্গো বলেন, ‘ওরা আমাদের

জন্য মারাত্মক হুমকি। সংক্ষিপ্ত সংস্করণে আমরা দেখেছি ওদের বোলিং আক্রমণ কতটা ভয়ংকর। যদিও এটা ভিন্ন ফরম্যাট। কিন্তু এটা নিশ্চিত যে সামনের তিনদিন ওদের বোলিং আমাদের জন্য সত্যিই হুমকি।’

সবকিছু ঠিক থাকলে একদিন বাদে সাদা পোশাকে এই প্রথম বাংলাদেশকে মোকাবিলা করবে টেস্ট ক্রিকেটে মাত্রই পা রাখা আফগানিস্তান। পক্ষান্তরে বাংলাদেশ খেলছে ১৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে। তার ওপর গেল চার বছর নিজেদের কন্ডিশনে সাকিবরা ছিল অপ্রতিরোধ্য। ক্রিকেটে সব সময়ের শক্তিধর অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিজেদের মাটিতে হারানোর অভিজ্ঞতা এখনো টাটকা। মানে অভিজ্ঞ একটি দলের সামনে এই ফরম্যাটে রশিদ খানদের পুঁচকে ভেবে টাইগার ড্রেসিংরুম নির্ভার থাকতেই পারে। কিন্তু ডমিঙ্গো ওই পথে হাঁটতে চাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমাদের ড্রেসিংরুম রিল্যাক্স নয়। গত দুই সপ্তাহ আমরা সেই প্রস্তুতিটিই নিয়েছি যেটা একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিতে হয়। আফগানিস্তানকে হারাতে আমাদের সেরা খেলাটিই খেলতে হবে।’

মাঠের লড়াইটা যে হবে জম্পেশ তা সহজেই অনুমেয়। তবে গতকালের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দুই দলের আবহটা ছিল বন্ধুসুলভ। দেখা হয়েছে দুই দলের অধিনায়ক রশিদ খান ও সাকিব আল হাসানের। করমর্দন করেছেন হাসিমুখে। একপর্যায়ে দুজনের কোলাকুলি। কথাও বলেছেন দুজন অনেকক্ষণ। তবে এটা ক্রিকেটীয় রীতি। ভদ্রতার খাতিরে কত কিছুই তো করতে হয়। কিন্তু মাঠে নামলেই চিত্র ভিন্ন হয়ে যাবে। যেখানে একমাত্র টেস্টটি জিততে মুখিয়ে আছে আফগানিস্তান। অন্যদিকে পয়মন্ত ভেন্যু চট্টগ্রামে কোনোক্রমেই জয় হাতছাড়া করতে নারাজ টাইগার শিবিরও।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads