• সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬
ads

ক্রিকেট

প্রথম দিনটা আফগানদেরই

দিনশেষে ৫ উইকেটে ২৭১ রান তুলেছে টেস্টের নবীন দলটি

  • মাহমুদুন্নবী চঞ্চল
  • প্রকাশিত ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

রান আরো কিছু কম হলে বলা যেতে পারত চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনটা সমানে সমান। কিন্তু রহমত শাহর রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি, আর আসগর আফগানের সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে থাকার চিত্রই পরিষ্কার বলে দেয় কারা এগিয়ে। চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনটা নিঃসন্দেহে সফরকারী আফগানিস্তানেরই। দিন শেষে ৫ উইকেটে ২৭১ রান তুলেছে টেস্টের নবীন দলটি।

রেকর্ড স্পিনার নিয়েও বাংলাদেশের প্রাপ্তি মাত্র পাঁচ উইকেট। স্কোয়াডে থাকা তিন পেসার পানি টেনেছেন গোটা দিন। পেসারহীন বাংলাদেশের স্কোয়াড দেখা মিলল এক বছর পর। গত নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে পেসার ছাড়া টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। আফগান স্কোয়াডেও চারজন স্পেশালিস্ট স্পিনার। কিন্তু তারপরও একজন পেসার রয়েছে, ইয়ামিন আহমদজাই। সব মিলিয়ে সাত স্পিনার বাংলাদেশ স্কোয়াডে। এর মধ্যে স্পেশালিস্ট চারজন। স্পিনারদের রমরমা উপস্থিতিতে টেস্টের প্রথম সেশনটা ছিল বাংলাদেশের। ৭৭ রানে তিন উইকেট পড়েছিল আফগানদের। বাকি দুই সেশনে উইকেট এসেছে মাত্র দুটি। বলা বাহুল্য, এই সময়টাতে সাকিবদের হতাশা ছিল চরমে। এর মধ্যে রহমত শাহ সেঞ্চুরি করে গড়েছেন নতুন কীর্তি। আসগর সেঞ্চুরির পথে থাকায় বড় স্কোরেই চোখ সফরকারীদের।  

সকালে টস জিতে সতর্কতায় ব্যাটিং শুরু আফগানদের। বাংলাদেশের স্পিন সামলে দুই ওপেনার ইহসানউল্লাহ ও অভিষিক্ত ইব্রাহিম জাদরান ঠান্ডা মাথায় ব্যাট করে নিরাপদে কাটিয়ে দেন প্রথম ১০ ওভার। ম্যাচের প্রথম বাউন্ডারি এসেছে দশম ওভারে, ইব্রাহিমের ব্যাট থেকে। তবে সাবধানী শুরুর পরও অবশেষে উইকেট হারায় আফগানিস্তান। দলীয় রান তখন ১৯। বাংলাদেশকে প্রথম উইকেট এনে দেন তাইজুল ইসলাম। যেটি তার শততম টেস্ট উইকেট। বলটি ছিল দারুণ তাইজুলের। বোল্ড ইহসানউল্লাহ (৯)। বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে টেস্টে ১০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁলেন তাইজুল। বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম ১০০ টেস্ট উইকেটের রেকর্ড এখন তাইজুলের।

দলীয় ৪৮ রানে আফগানদের দ্বিতীয় উইকেটের পতন। এবারো তাইজুল। প্রথম ঘণ্টায় জড়সড়ো হয়ে থাকার পর দ্বিতীয় ঘণ্টায় বাংলাদেশের স্পিনারদের চাপ ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন আফগান ব্যাটসম্যানরা। উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে দুটি বাউন্ডারি মারেন ইব্রাহিম জাদরান। সাকিবের শর্ট বল ছক্কায় ওড়ান রহমত শাহ। সেই প্রচেষ্টাই শেষ পর্যন্ত কাল হলো। বেরিয়ে এসে শট খেলে বিদায় নিলেন ইব্রাহিম। অভিষেক ইনিংস শেষ হলো ৬৯ বলে ২১ রান করে।

প্রথম ওভারেই সফল পার্টটাইম স্পিনার মাহমুদউল্লাহ। একটু বৈচিত্র্যের জন্য লাঞ্চের আগে শেষ ওভারটিতে মাহমুদউল্লাহর হাতে বল তুলে দেন সাকিব আল হাসান। প্রথম ওভারেই এই অলরাউন্ডার দলকে এনে দেন উইকেট। হাসমতউল্লাহ শহিদি চেয়েছিলেন কাট করতে। কিন্তু বল তার প্রত্যাশার চেয়ে একটু দ্রুত চলে আসে ব্যাটে। কানায় লেগে স্লিপে যায় বেশ গতিময়তায়। সৌম্য নেন দারুণ রিফ্লেক্স ক্যাচ। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান আউট হলেন ১৪ রানে।

চতুর্থ উইকেট জুটি ছিল বেশ সাবলীল। রহমত শাহের সঙ্গে আসগরের জুটিতে আসে ১২০ রান। এর মাঝে রিভিউতে জীবন পান আসগর। রানআউট থেকে বাঁচেন রহমত শাহ। এসেছিল বৃষ্টিও। খেলা বন্ধ ছিল মিনিটে ২৫। ৯৭ রান নিয়ে চা-বিরতিতে গিয়েছিলেন রহমত। বিরতির পর দ্বিতীয় ওভারেই নাঈম হাসানকে কাট করে বাউন্ডারি মেরে পৌঁছে যান সেঞ্চুরিতে। আফগান টেস্ট ইতিহাসে প্রথম সেঞ্চুরিয়ান তিনি। ১৮৬ বলে রহমত স্পর্শ করেন সেঞ্চুরি। ১০ বাউন্ডারির পাশে ইনিংসে ছক্কা দুটি। বিস্ময়করভাবে রহমতের উদযাপনে দেখা গেল না ততটা উচ্ছ্বাস।

সেঞ্চুরি করার পরের বলেই আউট রহমত শাহ। বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত ব্রেক থ্রু এনে দেন নাঈম হাসান। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে জায়গায় দাঁড়িয়ে খেললেন আলসে এক শট। ব্যাটের কোনায় লেগে বল গেল স্লিপে সৌম্য সরকারের হাতে। ১৮৭ বলে ১০২ রান করে ফিরলেন রহমত। ভাঙে ১২০ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি।

বড় জুটি ভাঙার পর সেই ওভারেই দলকে আরেকটি উইকেট এনে দেন নাঈম হাসান। রানের খাতা খুলতে পারেননি মোহাম্মদ নবি। একটু শর্ট অব লেংথের বলটি পেছনের পায়ে খেলতে চেয়েছিলেন নবি। কিন্তু বল পিচ করে আচমকাই গতি পেয়ে যায়। স্কিড করে ঢোকে ভেতরে। নবির ব্যাটকে ফাঁকি দিয়ে লাগে স্টাম্পে। আফগানিস্তানের রান ৫ উইকেটে ১৯৭।

তবে দিনের শেষটা অবিচ্ছিন্ন থেকে বাংলাদেশকে হাহুতাশ উপহার দেন আসগর আফগান ও আফসার জাজাই। ১৬০ বলে ৮৮ রানে আসগর ও ৯০ বলে ৩৫ রানে জাজাই আছেন অপরাজিত। বাংলাদেশের নাঈম ও তাইজুল দুটি করে উইকেট নেন। মাহমুদউল্লাহর থলেতে একটি। মিরাজ ২২ ও সাকিব ১৭ ওভার বল করলেও পাননি উইকেটের দেখা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads