• বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬
ads
ব্যর্থ আশরাফুল-রাজ্জাক-নাসির

সংগৃহীত ছবি

ক্রিকেট

ব্যর্থ আশরাফুল-রাজ্জাক-নাসির

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০২ অক্টোবর ২০১৯

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) শর্ত বেঁধে দিয়েছে, এবারের জাতীয় লিগ খেলতে হলে ফিটনেসের পরীক্ষায় (বিপ টেস্ট) ‘১১’ পেতে হবে। সেই পরীক্ষার প্রথম পর্ব শেষ হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। এই পরীক্ষায় বেশির ভাগ ক্রিকেটারই উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে ‘ফেল’ করেছেন অনেক তারকা ক্রিকেটার।

আবদুর রাজ্জাক, মোহাম্মদ আশরাফুল, নাসির হোসেন, ইলিয়াস সানিদের কেউ বিপ টেস্টে ‘১০’ পেরোতে পারেননি। বেশির ভাগ ৯-এর ঘরে আটকে গেছেন। বিপ টেস্টে প্রত্যাশা অনুযায়ী, ফল না করলেও আশরাফুল আশাবাদী সামনের এক সপ্তাহে অনুশীলন করলে কাটিয়ে উঠতে পারবেন ফিটনেসের এ ঘাটতি। তিনি বলেছেন, ‘আমি ৯.৭ পেয়েছি। সাত-আট দিন অনুশীলন করলে আশা করি আরো উন্নতি করতে পারব। তবে এই উদ্যোগ ইতিবাচক, এটিই হওয়া উচিত। আজ বেশির ভাগই ১০.৫ থেকে ১১ দিয়েছে। এই উন্নতিটা হয়েছে ফিটনেসের এই বাধ্যবাধকতার থাকার কারণেই।’

বিসিবির নির্বাচক হাবিবুল বাশারও খুশি খেলোয়াড়দের ফিটনেসের উন্নতি নিয়ে, ‘এটা গতবারও ছিল, এবার আগে থেকেই বলা হয়েছে। তবে মানদণ্ডটা আগের বারের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে। বাড়ানোর কারণেই একটু আলোচনা হয়েছে। তবে বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই এটাকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। এটা আমাদের ক্রিকেটের জন্যই ভালো। ঢাকার বাইরের ফল আমরা এখনো পাইনি, তবে ঢাকায় যারা দিয়েছে তাদের ৯৬ ভাগই পাস করেছে।’

গতকাল যারা বিপ টেস্টে ‘১১’ পাননি, তাদের সামনে আরো সুযোগ থাকছে। যতক্ষণ না বেঁধে দেওয়া মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারবেন না খেলোয়াড়েরা, ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলতে হলে তাকে ততবারই এই ফিটনেস পরীক্ষা দিতে হবে। হাবিবুল তাই বলছেন, ‘এ সুযোগটা সবার জন্যই থাকছে। যতক্ষণ সে ওই লেভেলে পৌঁছাতে না পারছে আমরা তার বিপ টেস্ট নেব। দ্বিতীয়বার, তৃতীয়বার যতবার লাগে নেব। আমরা যদি বলে দিতাম যে লক্ষ্যটা এমনি এমনি দেওয়া, সেক্ষেত্রে এতটা গুরুত্ব দিত না ক্রিকেটাররা। এখন কী হলো সবাই অন্তত একটা পর্যায়ে গিয়েছে, চেষ্টা করেছে। বুঝতে পেরেছে যে তাদের উন্নতি করতে হবে।’

গত মৌসুম থেকে জাতীয় লিগের জন্য ন্যূনতম ফিটনেস লেভেল রাখার পরীক্ষা দিয়ে খেলতে হচ্ছে ক্রিকেটারদের। বাংলাদেশে ফিটনেস পরীক্ষা করা হয় ‘বিপ টেস্ট’ দিয়ে, যেটি ক্রীড়াবিদদের জন্য বহুল প্রচলিত কয়েক ধাপের একটি ফিটনেস পরীক্ষা। গত মৌসুমে জাতীয় লিগের জন্য ন্যূনতম বিপ টেস্ট স্কোর বেঁধে দেওয়া হয়েছিল ৯, এবার সেটি একবারেই করা হয়েছে ১১।

শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া এসেছে প্রচুর। এমনিতে বিপ টেস্টে ‘১১’ খুব বেশি স্কোর নয়। তবে বাংলাদেশে জাতীয় দলের কোনো কোনো ক্রিকেটারও অনেক সময় ১১ স্কোর তুলতে পারেন না। জাতীয় লিগে এমন অনেক ক্রিকেটার খেলেন, দীর্ঘদিন ধরে যারা জাতীয় দল বা এর আশপাশে নেই। বছরজুড়ে তাদের ফিটনেস ধরে রাখার কোনো প্রোগ্রাম বিসিবির নেই। বিভাগীয় পর্যায়ে নেই ভালো জিম বা সুযোগ-সুবিধা। তারপরও হুট করে ন্যূনতম স্কোর ১১ নির্ধারণ করায় সমালোচনা করছিলেন ক্রিকেটারদের অনেকে। এ ছাড়া বিপ টেস্টে শুধু শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা হয়। ক্রিকেটে ম্যাচ ফিটনেসের আলাদা গুরুত্ব আছে বরাবরই। বিপ টেস্টে ভালো করা অনেকের অনেক সময় ম্যাচে ব্যাটিং বা বোলিং ফিটনেস যথেষ্ট থাকে না। বিপ টেস্টে ভালো স্কোর না করা কারো ব্যাটিং-বোলিং ফিটনেস হতে পারে ভালো। সবকিছু বিবেচনা করেই নির্বাচকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফিটনেসের পাশাপাশি অন্যান্য দিক বিবেচনা করার।

এবারের জাতীয় লিগ শুরু হবে আগামী ১০ অক্টোবর। খেলা হবে দেশের চারটি ভেন্যুতে, মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম, ফতুল্লা, রাজশাহী ও খুলনা।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads