• শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads
অবশেষে বরফ গলল

সংগৃহীত ছবি

ক্রিকেট

বিসিবির সঙ্গে ক্রিকেটারদের ফলপ্রসু আলোচনা

অবশেষে বরফ গলল

  • মাহমুদুন্নবী চঞ্চল
  • প্রকাশিত ২৪ অক্টোবর ২০১৯

অবশেষে মিলল স্বস্তি। গলল জমে থাকা বরফ। অবসান হলো ক্রিকেটে অচলাবস্থা। বিসিবির আশ্বাসে প্রত্যাহার হলো ক্রিকেটারদের ডাকা ১৩ দফার ধর্মঘট। আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হবে জাতীয় দলের ক্যাম্প। মিশন ভারত সফরের জন্য প্রস্তুতি। শনিবার থেকে শুরু হবে জাতীয় ক্রিকেট লিগের তৃতীয় রাউন্ডের খেলা।

সোমবার থেকে বুধবার। মাঝে তিন দিন। তবে এরই মাঝে ঘটে গেল কতকিছু। উত্তেজনা, রোমাঞ্চ, নাটকীয়তা, অনিশ্চয়তা। সোমবার ১১ দফা দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দেন ক্রিকেটাররা। জবাবে পরদিন মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। যেখানে তিনি আলোচনার জন্য আহ্বান জানান ক্রিকেটারদের। পাশাপাশি ষড়যন্ত্রের কথা বলেও আকারে ইঙ্গিতে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত বিষয়ে কথা বলেও সমালোচনা কুড়ান পাপন। এরপর গতকাল বুধবার পাটকেল ছুড়েন ক্রিকেটাররা। সন্ধ্যায় করা হয় সংবাদ সম্মেলন। যেখানে পুরোনো ১১ দফার সঙ্গে যোগ হয় দুটি দাবি। যেখানে বলা হয় বোর্ডের আয়ের অংশ দিতে হবে ক্রিকেটারদের। দ্বিতীয়ত মহিলা ক্রিকেটারদের ন্যায্য হিস্যা। এরপরই ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করতে বিসিবি কার্যালয়ে রওনা দেন ক্রিকেটাররা। সেখানে ঘন্টাখানেকের মিটিংয়ের পর মিডিয়ার সামনে কথা বলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। দুজনই জানান আলোচনা ফলপ্রসু হয়েছে। 

নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘ওদের সঙ্গে ১১ দফা দাবি নিয়ে কথা হয়েছে। আমরা সব দাবি মেনে নিয়েছি। খুব দ্রুতই সব বাস্তবায়ন হবে।’ বাকি দুই দফা নিয়ে কী হলো? এখানে রয়েছে কিছুটা খটকা। কারণ এমন প্রশ্নের জবাবে নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘আমি ক্রিকেটারদের দেয়া ১১ দফা দাবি নিয়েই কথা বলেছি। বাকি দুই দফা নিয়ে কোন কথা হয়নি।’ তার মতে, আইনজীবীর মাধ্যমে পাঠানো চিঠি তিনি দেখেননি। তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, বাকি দুই দফা থেকে থাকলে তা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে।

ধর্মঘট প্রত্যাহার ও আলোচনা প্রসঙ্গে সাকিব আল হাসান বলেন, ‘বোর্ডের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। সব মিলিয়ে আলোচনা ফলপ্রসু। এগুলো বাস্তবায়ন হলেই তবে আমরা খুশি। ২৫ তারিখ থেকে ভারত সফরের জন্য ক্যাম্প শুরু। আমরা সবাই ক্যাম্পে ফিরব। আর শনিবার থেকে জাতীয় ক্রিকেট লিগের তৃতীয় রাউন্ডের খেলায় মাঠে নামবে ক্রিকেটাররা।’ 

 

ক্রিকেটারদের ১৩ দফা

০১. ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্তদের পদত্যাগ। ক্রিকেটাররা জানিয়েছেন কোয়াবের কোনো দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত কোনো সংঘাত নেই। কেবল স্বার্থের সংঘাত বন্ধ করতেই এই পদত্যাগ করতে হবে।

০২. ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের আয়োজন আগের অবস্থায় নিয়ে যাওয়া। এখন যে পদ্ধতিতে প্রিমিয়ার লিগ আয়োজিত হয়, তাতে আছে ‘খেলোয়াড় ড্রাফট’ ও ‘পেমেন্ট স্ল্যাব’।

০৩. আগামী বিপিএলেও এই পদ্ধতি চালু করার কথা বলা হয়েছে। এতে খেলোয়াড়েরা নিজের ফ্র্যাঞ্চাইজি বা দল নিজেরাই বেছে নিতে পারবেন, বাজারদরও চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

০৪. প্রথম শ্রেণির ম্যাচে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক ১ লাখ টাকা করা।

০৫. পারিশ্রমিক বছর শেষে পুনর্মূল্যায়ণ করা। প্রথম শ্রেণির দলগুলোর কোচিং স্টাফ সারা বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া। প্রতিটি বিভাগে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।

০৬. বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ন্যূনতম ৩০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা।

০৭. লোকাল স্টাফ, গ্রাউন্ডসম্যানদের পারিশ্রমিক বাড়ানো। দেশি কোচদের বেতন বাড়াতে হবে।

০৮. লিস্ট ‘এ’, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেটে ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানো। বিপিএলের পাশাপাশি আরও একটি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট চালু করা।

০৯. ঘরোয়া ক্রিকেটের অপরিবর্তিত ক্যালেন্ডার নিশ্চিত করা।

১০. খেলোয়াড়দের সব পাওয়া টাকা-পয়সা সময়মতো নিশ্চিত করা। বিপিএল ও প্রিমিয়ার লিগের দলগুলো যেন খেলোয়াড়দের টাকা-পয়সা নিয়ে কোনো টালবাহানা না করে সে ব্যবস্থা করা।

১১. একজন খেলোয়াড়কে দুইয়ের অধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলার অনুমতি প্রদান।

১২. ক্রিকেট-ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। বিসিবির রাজস্বের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা।

১৩. নারী ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। পুরুষ ক্রিকেটারদের সমান সম্মান ও তাদের পাওনাও দিতে হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads