• শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads
ভারত যাচ্ছেন না সাকিব!

সংগৃহীত ছবি

ক্রিকেট

ভারত যাচ্ছেন না সাকিব!

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৯ অক্টোবর ২০১৯

বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে চলছে নাটকের পর নাটক! সেটা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকে, তা হলফ করে বলা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিরুদ্ধে ডাকা ক্রিকেটারদের ধর্মঘট শেষ হওয়ার পর ছয় দিন পার হয়েছে। এরই মধ্যে ওপরে ওপরে মনে হচ্ছে, ক্রিকেটারদের সঙ্গে সম্পর্ক বেশ ভালো হয়ে গেছে বিসিবির। প্রতিশ্রুতি মোতাবেক দাবি-দাওয়াও বাস্তবায়ন শুরু করেছে বিসিবি। কিন্তু আসল চিত্র তা নয়। বিসিবির সভাপতির মুখে যা শোনা গেল, তাতে মনে হচ্ছে সাকিব আল হাসানের আসন্ন ভারত সফর অনিশ্চিত। এখানেও মূল অবস্থাটা বোঝা যায়। 

দিন দিন দূরত্বটা স্পষ্ট হয়ে উঠছে ক্রিকেটার ও বোর্ড সভাপতির। বিশেষ করে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে। ধর্মঘট শেষ হওয়ার পর জাতীয় দলের অনুশীলনে তিন দিনের মধ্যে দুদিনই অনুপস্থিত ছিলেন সাকিব। বিসিবি সঠিক কোনো কারণই দেখাতে পারেনি কেন সাকিব অনুশীলন মিস করলেন। এছাড়া রোববারের প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেননি সাকিব। এর কারণ হিসেবে নাকি কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোকে সাকিব মেসেজ পাঠিয়েছেন, ‘অন্য খেলোয়াড়দের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।’ আসলে এসব কিছুই নয়, সাকিবের সঙ্গে বোর্ডের দূরত্বের কারণটা ভিন্ন।

বাংলাদেশের একটি জাতীয় দৈনিকে সাক্ষাৎকারে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন তো শঙ্কাই প্রকাশ করেছেন যে, ‘সাকিব আল হাসান তো ভারত সফরেও না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’ সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার ভারত সফরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বিশেষ করে সাকিবের নামই উল্লেখ করেছেন তিনি। আগামীকাল বুধবারই ভারত সফরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশ দলের। ইতোমধ্যে ইনজুরির কারণে ছিটকে গেছেন অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন। স্ত্রী সন্তানসম্ভবা বলে ভারত সফরে যাচ্ছেন না তামিম ইকবালও।

সাক্ষাৎকারে পাপন বলেন, ‘এখন সফরে যাওয়ার আগ মুহূর্তে যদি শুনি আর কেউ যাবে না, তাহলে কেমন লাগবে? আমার তো বদ্ধমূল ধারণা যাবে না এবং এমন এক সময় বলবে, যখন আমাদের কিছু করার থাকবে না।’

সাকিবের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করে বিসিবি সভাপতি জানান, আরো অনেকে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হয়তো। যদিও তাদের নাম উল্লেখ করেননি তিনি। বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘সাকিবকে ডেকেছি। দেখি ও কী বলে। আরো অনেকে হতে পারে। আমি জানি না কারা। তবে তথ্য ছিল ওরা যাবে না।’

যদি শেষ মুহূর্তে কয়েকজন বলে যে সত্যি সত্যি তারা যাবে না ভারত সফরে-তখন কী করবেন বিসিবি সভাপতি? এ নিয়ে কিছুটা অসহায়ত্বও প্রকাশ করতে দেখা গেছে তাকে। তিনি বলেন, ‘এখন তো ঘুরে গেছে পরিস্থিতি। ওরা হয়তো ভাবেনি, এত তাড়াতাড়ি সব শেষ হয়ে যাবে। আমি কোনো বিশ্বস্ত সূত্র থেকে শুনে বলছি না। তবু ৩০ তারিখ যদি ওরা বলে যাবে না, তখন কী করব? তখন তো পুরো কম্বিনেশন বদলাতে হবে। আমি তখন অধিনায়ক কোথায় পাব! এদের নিয়ে আমি কী করব বলেন?’

বিসিবি সভাপতি মনে করেন, জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের অনেকেই খেলতে চায় না। তামিম ইকবালের নাম উল্লেখ করেই তিনি অভিযোগটা তুললেন। পাপন বলেন, ‘আমরা খেলোয়াড়দের দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ায় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটাররা খুশি হয়েছে জানি। কারণ, খেলা হবে, ওরা তো খেলতে চায়। কিন্তু এটা কি ওখানে যারা ছিল, সবাই চায়? তামিম আমাকে প্রথমে বলেছিল, ও ভারতের শেষ টেস্টটা খেলতে চাইছে না, কারণ ওই সময় ওর স্ত্রীর ডেলিভারি। খেলোয়াড়দের সঙ্গে মিটিং শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তামিম আমার রুমে গিয়ে বলল, ‘আমি যাব (ভারতে) না।’ আমি বললাম, ‘মানে কি, তোমার সঙ্গে তো কথা হলো শেষেরটায় থাকবে না। তাহলে এখন যাবা না কেন’ ও তবু বলল, ও যাবে না।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads