• মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬
ads
গোলাপি বলে চ্যালেঞ্জ দেখছি না: বাশার

সংগৃহীত ছবি

ক্রিকেট

গোলাপি বলে চ্যালেঞ্জ দেখছি না: বাশার

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০২ নভেম্বর ২০১৯

প্রথমবারের মতো দিবা-রাত্রির টেস্ট-ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও স্বাগতিক ভারতীয় দল। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে গোলাপি বলে বেশ কিছু ম্যাচ হলেও বাংলাদেশ একেবারে নতুন। গোলাপি বলে ঘরোয়া ক্রিকেটে একবারই বাংলাদেশে খেলা হয়েছিল ২০১৩ সালে, বিসিএলের ফাইনালে। এমন অবস্থায় এই টেস্ট বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে, এমন আশঙ্কা করছেন অনেকে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন অবশ্য ইতিবাচক থাকতে চাইছেন। তিনি মনে করেন, একই অবস্থানে দাঁড়িয়ে দুই দল, ‘গোলাপি বলে কিন্তু ভারতও খেলেনি। আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে আছি,  ওরাও সেখানে দাঁড়িয়ে আছে।’

বাশার চ্যালেঞ্জের তুলনায় ইতিবাচকভাবেই বিষয়টি দেখছেন, ‘দুই দলেরই এটা প্রথম। সেক্ষেত্রে সুবিধা আমাদেরও হতে পারে। আবার উল্টোও হতে পারে। আমরা ইতিবাচক আছি। কারণ, আমাদের যেমন অভ্যাস নেই, তাদেরও তেমন অভ্যাস নেই।’

বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে গোলাপি বলে খেলা হয়েছে একবারই। ২০১৩ সালে বিসিএলের ফাইনালে গোলাপি বলে খেলেছিল ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল ও বিসিবি উত্তরাঞ্চল। তাই জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা গোলাপি বলে খেলে অভ্যস্ত নন। বাশার বলছেন অভ্যস্ত হওয়ার এটাই সুযোগ, ‘এই ফরম্যাটে আমাদের কোনো না কোনো সময় খেলতে হবে। আমার মনে হয় আমাদের ইতিবাচক থাকা উচিত। গোলাপি বলে খেলিনি বলে কখনো খেলা যাবে না তা নয়। টেস্টের আগে তো কয়েকদিন সুযোগ পাবে। যত দ্রুত সম্ভব মানিয়ে নিতে হবে।’

বাংলাদেশ-ভারতের দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটি হবে ১৪ নভেম্বর ইন্দোরে। তারপর কলকাতায় দিবা-রাত্রির দ্বিতীয় টেস্ট শুরু ২২ নভেম্বর। সিরিজে তামিম-সাকিব না থাকায় তা চ্যালেঞ্জিং হয়ে গেল না?-এমন প্রশ্নের উত্তরে বাশার বললেন, ‘আমার মনে হয় বড় দুই খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি এখানে না আনাই ভালো। আমাদের এ মুহূর্তে যারা আছে তাদের নিয়েই চিন্তা করা উচিত।  চ্যালেঞ্জ সব সময়ই ছিল। ওরা থাকলেও থাকত, এখনো আছে। আন্তর্জাতিক ম্যাচ চ্যালেঞ্জ ছাড়া হয় না। আমার মনে হয় আমাদের ইতিবাচক থাকা উচিত। যারা আছে, তারা আমাদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা।’

শিশিরের ভূমিকা টেন্ডুলকারের চোখে : কলকাতায় বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলাকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন শচীন টেন্ডুলকার। তবে ম্যাচটি যেহেতু নভেম্বরের শেষ দিকে, সন্ধ্যার পর শিশির বড় ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন ভারতীয় কিংবদন্তি। শিশিরের কারণে ভেজা বলে পেসার ও স্পিনার সবার কাজই কঠিন হয়ে উঠবে বলে মনে করেন টেন্ডুলকার। ‘যতক্ষণ না শিশির কোনো প্রভাবক হয়ে দাঁড়াচ্ছে, এটা একটা ভালো সিদ্ধান্ত। কিন্তু শিশির যদি ভূমিকা রাখতে শুরু করে, পেসারদের মতো স্পিনারদের জন্যও কাজটি চ্যালেঞ্জিং হবে। কারণ বল ভিজে গেলে পেসাররা যেমন খুব বেশি কিছু করতে পারবে না, স্পিনাররাও পারবে না। বোলাররা তাই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়বে। শিশির না পড়লে, অবশ্যই দিন-রাতের টেস্ট একটি ভালো উদ্যোগ। আমাদের দেখতে হবে, কতটা শিশির সেখানে পড়বে। দুই দলের লড়াই কতটা জমবে, তা নির্ধারণ করে দেবে শিশির। কিন্তু মাঠের ক্রিকেটের লড়াইয়ে কন্ডিশনের বড় প্রভাব থাকা উচিত নয়।’

৭২ বলের অর্ডার : বাংলাদেশের কোনোই প্রস্তুতি নেই। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা তো দূরে থাক, এ নিয়ে প্র্যাকটিস পর্যন্ত করার সুযোগ পায়নি। তবু ভারত চেয়েছে বলেই গোলাপি বলে দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এই টেস্ট আয়োজন নিয়ে ইতোমধ্যেই ইডেন গার্ডেনসে মহাযজ্ঞের আয়োজন শুরু করে দিয়েছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি)। এক দিকে যেমন ভারতীয় বোর্ড এবং সিএবির অন্দরমহলে ব্যস্ততা শুরু হয়েছে ভারতের মাটিতে প্রথম ফ্লাডলাইটের আলোয় টেস্ট আয়োজন নিয়ে, তেমনই ক্রিকেটীয় দিক নিয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। ভারতীয় বোর্ড ক্রিকেট সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক সংস্থা এসজির কাছে ৭২টি গোলাপি বলের অর্ডার দিয়েছে বলে জানিয়ে বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা। কোনো রকম ঝুঁকি না-নিয়ে বেশি সংখ্যক বল আনিয়ে রাখার ব্যবস্থাই নিচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। সে কারণেই ৫ দিনের ১৫ সেশনের খেলার জন্য বল আনা হচ্ছে মোট ৭২টি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads