• বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬
ads

ক্রিকেট

বাংলাদেশ-ভারত প্রথম টি-টোয়েন্টি

লড়াইটা বায়ুদূষণের বিরুদ্ধেও

ম্যাচ শুরু সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৩ নভেম্বর ২০১৯

নেই সাকিব। যা বড় ধাক্কা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দিল্লির প্রবল বায়ুদূষণ। মাস্ক করে অনেকে করেছেন অনুশীলন। কিন্তু মূল ম্যাচের সময়ও কি এমন দৃশ্য দেখা যাবে? তা সময়ই বলে দেবে। আজ থেকে মাঠে গড়াচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত টি-টোয়েন্টি সিরিজ। প্রথম ম্যাচ আজ দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায়। ম্যাচের আগে চনমনে বাংলাদেশ। কিন্তু ম্যাচ ছাপিয়ে আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে বায়ুদূষণ।

গত দুদিনই মাস্ক পরে অনুশীলনে করেছেন ক্রিকেটাররা। হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো তো বলেই দিয়েছেন, ‘এই কন্ডিশনে খেলা যায় না। কেউ খেলতেও চাইবে না! চোখ জ্বালা করছে, গলায় সমস্যা হচ্ছে!’ দীপাবলির রঙের উৎসবের পর রাজধানীর বাতাস আরো কুয়াশাময়। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স জানাচ্ছে, দিল্লির বাতাসে দূষণের মাত্রা এখন ৩০১-৪০০। শ্বাসকষ্টের সঙ্গে শারীরিক অসুস্থতাতেও পড়তে হচ্ছে!

তাই বলে খেলা থেমে থাকবে না। চলবে ২২ গজে ব্যাট-বলের লড়াই। সাকিবকে হারানোর বেদনা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে টাইগার ক্রিকেটাররা। হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো দিশেহারা শিষ্যদের মধ্যে দেখতে পাচ্ছেন পরিবর্তন। সতেজ হয়ে উঠছে সবাই। দেশের সেরা ক্রিকেটারকে ছাড়া পথ চলার শুরুতে চনমনে হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ দল।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সময়টা বেশ কিছুদিন ধরে ভালো যাচ্ছে না। গত বিশ্বকাপের শেষ দুই রাউন্ড দিয়ে শুরু হয় দিক হারানোর। পরে শ্রীলঙ্কায় গিয়ে হতে হয় হোয়াইটওয়াশ। দেশের মাটিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে হারের পর দল পড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে। পরে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দেখায় হেরে বসে। তখন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান থেকে শুরু করে প্রায় সব ক্রিকেটার টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের চেয়ে আফগানদের এগিয়ে রেখে সমালোচনাকে আরো উসকে দেন।

মাঠের ক্রিকেটের সেই বাজে অবস্থার মাঝে বাইরের পরিস্থিতিও ঘোলাটে হয়ে ওঠে। ১১ দফা দাবিতে ক্রিকেটাররা ধর্মঘট ডাকলে ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা জাগে। দুদিন পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকার পর হয় সমাধান। এরই মধ্যে দাবি বাড়ে আরো দুটি। বোর্ডের আশ্বাসে মাঠে ফেরেন ক্রিকেটাররা।

তবে ফেরে না স্বস্তি। চার দিনের অনুশীলন ক্যাম্পে প্রথম দিন ছিলেন না সাকিব। দ্বিতীয় দিন যোগ দেওয়ার পর অনুপস্থিত আবার পরের দুদিন। শুরু হয় জল্পনা-কল্পনা এবং এরপরই আসে সাকিবের নিষেধাজ্ঞার খবর। এমন পরিস্থিতির মাঝে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে বাংলাদেশ প্রতিপক্ষে হিসেবে পেয়েছে ভারতকে। ঘরের মাঠে যারা প্রায় অপরাজেয়।

দেশের মাটিতে সময়টা দুর্দান্ত কাটছে দলটির। তাদের দক্ষিণ আফ্রিকাকে উড়িয়ে দেওয়ার স্মৃতি এখনো তাজা। উড়তে থাকা দলটির সামনে কতটা লড়াই করতে পারবে বাংলাদেশ? তা-ও আবার সাকিব ও তামিম ইকবালের অনুপস্থিতিতে। ভারত সফরের বাংলাদেশ দল নিয়ে বাজি ধরার লোক হয়তো খুব বেশি পাওয়া যাবে না। রবি শাস্ত্রীর শিষ্যদের বিপক্ষে তাদের খুব একটা সম্ভাবনা অনেকেই দেখেন না। তবে সেসব নিয়ে ভাবছেন না ক্রিকেটাররা।

দূষণে অনেকটা গ্যাস চেম্বার হয়ে উঠেছে দিল্লি। শ্বাস নেওয়াই কঠিন। তার পরও এখানে এসেই যেন স্বস্তির শ্বাস ফেলতে পারছেন ডমিঙ্গোর শিষ্যরা। কঠিন কয়েকটি দিন কাটানোর পর খেলায় ফিরতে পারাটা শিষ্যদের জন্য কতটা স্বস্তি বয়ে এনেছে, অনুভব করতে পারছেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ।

তার মতে, ‘এখানে আসতে পেরে ভালো লাগছে। বাংলাদেশে কিছু চ্যালেঞ্জিং দিন কিংবা বলতে পারি, সপ্তাহ শেষে এখানে এসেছি। কখনো কখনো এমন সময় আসে, তখন দল আরো কাছাকাছি চলে আসে। এখানে আসার পর ছেলেরা খুব ভালো আছে, ওরা প্রাণশক্তিতে ভরপুর। ছেলেদের দেখে রিল্যাক্সড ও খুশি মনে হচ্ছে।’

শার্ল ল্যাঙ্গেভেল্ট প্রাণপণে খাটছেন পেসারদের নিয়ে। একটু পর কোনো না কোনো পেসারের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেল তাকে। স্পিন বোলিং কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টোরি সারাক্ষণ উৎসাহ দিয়ে গেলেন আরাফাত সানি, তাইজুল ইসলামদের। নিল ম্যাকেঞ্জি যথারীতি ব্যস্ত দিন কাটিয়েছেন ব্যাটসম্যানদের নিয়ে। মোসাদ্দেক হোসেন, সৌম্য সরকারের সঙ্গে কথা বলেছেন অনেকটা সময় নিয়ে। মোহাম্মদ মিঠুনের কাঁধ ধরে স্টান্স ঠিক দিলেন ম্যাকেঞ্জি।

এই সিরিজ দিয়ে জাতীয় দলে ফেরা আল আমিন হোসেন মুখিয়ে আছেন নিজেকে উজাড় করে দিতে। সাকিবকে হারানোর শোক ভুলে দেশকে সম্মানজনক কিছু উপহার দেওয়ার লক্ষ্য এই পেসারের, ‘আমরা “ন্যাশনাল ডিউটি” পালন করতে এসেছি। প্রত্যেকে দেশের জন্য খেলবে। কে নেই ওটা নিয়ে ভাবার সুযোগ নেই। পৃথিবীর কোনো শোকই বেশি দিন থাকে না। শোক কিছু থাকলে সেটা শক্তিতে পরিণত করে জাতিকে ভালো কিছু উপহার দিতে পারলে সবার সম্মান বাড়বে। আমরা দেশের সম্মানের জন্য খেলব।’ হুট করে দলে ফেরা ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুন বললেন, ‘সবাই ভালো আছে। খেলা ছাড়া কোনো চিন্তা নেই।’

সাকিব-তামিম না থাকলেও বাংলাদেশকে সমীহ করছে ভারত। ভারতীয় দলের ব্যাটিং কোচ বিক্রম রাঠোরের বিশ্বাস দুই দলের মধ্যকার সিরিজটি দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। তিনি বলেন, ‘সেরা ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতি অবশ্যই দলে একটা পার্থক্য গড়ে দেয়। তবে টি-টোয়েন্টি হচ্ছে একমাত্র ফরম্যাট, যেখানে আপনি কারোর অভাব খুব একটা অনুভব করবেন না। বাংলাদেশে যে পরিমাণ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলা হয়, আমি নিশ্চিত তাদের ভালো কিছু ক্রিকেটার রয়েছে।’

দলের সেরা তারকাকে ছাড়াই লড়তে হচ্ছে টাইগারদের। নতুন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ অবশ্য এটাকে নেতিবাচক নয়, ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। কোনো চাপ নেই বলেও জানিয়ে রাখলেন, ‘আমরা এটাকে কোনোভাবেই চাপ হিসেবে নিচ্ছি না। আমরা বরং মোটিভেটেড। সাকিবের অনুপস্থিতি আমাদের সবার কাছে বড় একটা সুযোগ এবং আমার জন্যও। যদিও এটা ভালো করেই জানি সাকিবের জায়গাটা পূরণ করা এত সহজ না। কারণ একজন সাকিব এক দিনে তৈরি হয়নি। দশ, এগারো, বারো বছর ধরে ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলছে। তারপরও আমাদের যতটুকু সামর্থ্য আছে ওর জায়গাটা যেন আমরা পূরণ করতে পারি চেষ্টা করব।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads