• বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬
ads
প্রত্যয়ী বাংলাদেশ মরিয়া ভারত

ছবি: বিসিবি

ক্রিকেট

আজ বাংলাদেশ-ভারত দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ

প্রত্যয়ী বাংলাদেশ মরিয়া ভারত

  • মাহমুদুন্নবী চঞ্চল
  • প্রকাশিত ০৭ নভেম্বর ২০১৯

দিল্লিতে ম্যাচ ছাপিয়ে আলোচনায় ছিল বায়ুদূষণ। বাংলাদেশের জয়ে এক ফুঁৎকারে সব যেন উড়ে গেছে। ভারতীয় গণমাধ্যমে তখন সরব আলোচনা রোহিতদের ব্যর্থতা নিয়ে। দিল্লি ছেড়ে বাংলাদেশ যখন রাজকোটে, তখনো ম্যাচ ছাপিয়ে নতুন শঙ্কার নাম ছিল সাইক্লোন ‘মাহা’। দুদিন আগেও এই মাহা চোখ রাঙাচ্ছিল পুরোদমে। ম্যাচ পণ্ড হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো। তবে শেষ খবরটা স্বস্তিরই। আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝর মাহা অনেকটা দুর্বল হয়ে গুজরাটের আশপাশ থেকে সরে যাচ্ছে। আপাতত তাই রাজকোটে ঘূর্ণিঝড়ের কোনো আভাস নেই। তার মানে রাজকোটে লড়াইটা হচ্ছে। তাতেই

যেন অগ্নস্ফুিলিঙ্গ দুই দলের মাঝেই। জমাট লড়াইয়ের অপেক্ষায় বাংলাদেশ ও ভারত। সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মুখোমুখি হবে মাহমুদউল্লাহ-রোহিত শর্মারা।

দিল্লির জয়টা ছিল ঐতিহাসিক। ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টিতে প্রথম কোনো জয়। আবার সব সংস্করণ মিলিয়ে ভারতের মাটিতে প্রথম জয়। এবার আরো বড় কিছুর হাতছানি। প্রথমবারের মতো ভারতের মাটিতে সিরিজ জয়ের অপেক্ষা। আজ জিতলেই হয়ে যাবে তা। সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ দল বেশ প্রত্যয়ী। প্রথম ম্যাচের সাত উইকেটের জয়ে উজ্জীবিত গোটা টাইগার ব্রিগেড। তবে তেতে আছে স্বাগতিক শিবির। প্রথম ম্যাচে হেরে প্রবল ঝাঁকুনি খাওয়া ভারত আজ জয়ের জন্য মরিয়া। ম্যাচটি রোহিতদের জন্য ডু অর ডাই।

বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ সেটি আঁচ করতে পারছেন। তিনি এই বুঝতে পারছেন, আর একটি জয় আসলেই রোমাঞ্চ ছড়াবে গোটা বাংলাদেশে। সেটারই অপেক্ষায় টাইগার দলপতি। গতকাল ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে ভারতের তেতে থাকার বিষয়টি নিয়ে মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘আমরা হয়তো কিছুটা হলেও আঁচ করতে পারছি, তারা দৃঢ়ভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে। আরো বেশি আগ্রাসী ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করবে। ওরা মরিয়া হয়ে আছে। তবে আমরাও মরিয়া। এটা অনেক বড় একটা সুযোগ আমাদের জন্য, আমাদের ক্রিকেটের জন্য। আমরা প্রথমবারের মতো ভারতে একটা দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে এসেছি। যদি আমরা ভালো খেলে সিরিজটা জিততে পারি আমাদের জন্য অনেক বড় একটা অর্জন হবে।’

দিল্লি ও রাজকোটের উইকেটের মধ্যে থাকবে তফাত। জেতার জন্য কী করতে হবে তার ফর্মুলা অবশ্য মাহমুদউল্লাহ বললেন এভাবে, ‘টি-টোয়েন্টিতে আমার মনে হয়, আপনি যদি উইকেট বুঝতে পারেন, সেই অনুযায়ী বোলিংয়ের লেংথ ঠিক করতে পারেন এবং ফিল্ড প্লেসিং করতে পারেন তাহলে আপনার জেতার ভালো সুযোগ থাকবে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটই এমন, এখানে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটা পরিকল্পনা নিয়ে আপনি এগোলেন এরপর হয়তো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হলো, এই ধরনের মানিয়ে নেওয়ার সামর্থ্য থাকা বেশি প্রয়োজন।’

ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং-তিন বিভাগেই দারুণ করেছিল বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে। যার ফলে এসেছিল সাত উইকেটের দোর্দণ্ড জয়। ধারাটা বজায় রাখতে পারলে রাজকোটেও শেষ হাসি হাসতে পারে বাংলাদেশ। তবে ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা দ্বিতীয় ম্যাচে পরিকল্পনায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন। তার মতে, তিন বিভাগেই ভালো করার বিকল্প নেই।

বুধবার সংবাদ সম্মেলনে প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতার দায় শুধু বোলিং বা ব্যাটিং বিভাগের ওপর নয়, বরং পুরো দলের ওপরে দিলেন রোহিত।

তার মতে, ‘ব্যাপারটা খুব সহজ, পুরো দলের ওপরই পারফর্ম করার চাপ আছে; কোনো নির্দিষ্ট বিভাগের ওপর নয়। আমরা একটা দল হিসেবে হেরেছি, শুধু একটা বোলিং ইউনিট হিসেবে হারিনি। তাই পুরো দলের ওপরই দৃষ্টি থাকবে। দলগতভাবে, আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ব্যাটসম্যানদের নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করতে হবে। বোলারদের নিজেদের মেলে ধরতে হবে এবং প্রয়োজনের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিতে হবে। এটাই পরিকল্পনা। আমরা কোনো নির্দিষ্ট বিভাগের ওপর মনোযোগ দিচ্ছি না। যদি পিচ ভালো থাকে, আগামীকাল আপনারা টিম ইন্ডিয়ার ভিন্ন অ্যাপ্রোচ দেখবেন।’

কৌশল প্রসঙ্গে রোহিত এড়িয়ে গেলেন, ‘আমি আমাদের কৌশল বলতে পারি না। কিন্তু আমাদের অ্যাপ্রোচে পরিবর্তন থাকবে তা আমি নিশ্চিত করেই আপনাকে বলতে পারি। গত ম্যাচে (দিল্লিতে) আমরা পিচ অনুযায়ী খেলেছিলাম। পিচ যেমন আচরণ করছিল, আমরা সেভাবেই খেলেছিলাম। কিন্তু যদি এখানে (রাজকোট) পিচ ভালো হয়, ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই আমাদের অ্যাপ্রোচ ভিন্ন হবে। এখন পর্যন্ত রাজকোটের পিচ সম্পর্কে যতটুকু জানি তাতে আশা করি এটা দিল্লির চেয়ে ভালো হবে। তাই আমাদের অ্যাপ্রোচও ভিন্ন হবে।’

বাংলাদেশ স্কোয়াডে তেমন পরিবর্তন হয়তো আজ আসবে না। ভারতের দুই একটি জায়গায় আসতে পারে পরিবর্তন। রাজকোটের ভেন্যুতে এর আগে মাত্র দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে ভারত। ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে হার। ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জয়। তা-ও ২০১ রান তাড়া করে।

আজকের ম্যাচটি ভারত অধিনায়ক রোহিতের টি-টোয়েন্টিতে শততম ম্যাচ। সতীর্থরা খুব করে চাইবে অধিনায়ককে জয় উপহার দিতে। তবে রোহিতের মাইলফলকের ম্যাচে জয়ের জন্য পাখির চোখ করে আছে মাহমুদউল্লাহরাও। দিল্লির মতো রাজকোটেও রাজত্বের ছড়ি ঘোরাক টাইগাররা। এমন আশা করাই যেতে পারে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads