• শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬
ads

ঢালিউড

পরিচালনায় পূর্ণিমা

  • বিনোদন প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় ও আলোচিত নায়িকাদের অন্যতম দিলারা হানিফ পূর্ণিমা। সৌন্দর্য, অভিনয় ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে নিজেকে তিনি নিয়ে গেছেন সেরাদের তালিকায়। দুই মাস আগে ৩৯-এ পা দিয়েছেন এ অভিনেত্রী। অবশ্য এই বয়সটা তার কাছে কেবলই একটা সংখ্যা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার সৌন্দর্য যেন দিন দিন বাড়ছে। এই বয়সেও কীভাবে তিনি এমন সৌন্দর্য ধরে রেখেছেন, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয় সোশ্যাল মিডিয়াসহ নানা মাধ্যমে।

চলচ্চিত্র ও টিভি নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি মডেলিং, উপস্থাপনা এমনকি বিভিন্ন রিয়েলিটি শোর বিচারক হিসেবেও দেখা যায় তাকে। এবার নতুন পরিচয়ে পরিচিত হবেন পূর্ণিমা। ছবি পরিচালনা করবেন এই তারকা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের শুরুতেই নতুন পরিচয় যোগ হবে তার ক্যারিয়ারে। এরই মধ্যে চিত্রনাট্যের কাজ অনেক দূর এগিয়েছেন পূর্ণিমা। দীর্ঘদিনের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের নানা অভিজ্ঞতার মিশেলে এ ছবিটি নির্মাণ করতে চাইছেন তিনি। তাই ঘটা করে আপাতত কিছুই জানাতে রাজি নন এ অভিনেত্রী।

সম্প্রতি একই পরিচালকের দুটি ছবিতে কাজ করছেন পূর্ণিমা। নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামূলের ‘জ্যাম’ ও ‘গাঙচিল’ নামের দুটি ছবিতে অভিনয় করছেন তিনি। এ বিষয়ে পূর্ণিমা বলেন, ‘জ্যাম’ ও ‘গাঙচিল’ ছবির পরিচালক একজনই। তাই শুটিংয়ের শিডিউল নিয়ে কোনো ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে না। দুটোই একসঙ্গে চালিয়ে নেওয়া যাচ্ছে।

অপরদিকে দীর্ঘদিন পর শুটিং নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত নায়িকা নিজেও। জানা গেছে, ‘জ্যাম’ ছবিটির কিছু অংশ গত বছর দৃশ্যায়ন করা হয়েছে। বাদ-বাকি কাজ এ মাসের ১৫ তারিখ থেকে শুরু হবে। চলবে দশ-বারো দিন। প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্নার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কৃতাঞ্জলী কথাচিত্রের ব্যানারে নির্মাণ হচ্ছে ছবিটি। এটি পরিচালনা করছেন নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামূল। এতে পূর্ণিমার বিপরীতে অভিনয় করছেন চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ।

জ্যাম ছবির দৃশ্যায়নের পরেই শুরু হবে গাঙচিল ছবির শেষ কাজ। এ ছবিতে পূর্ণিমার বিপরীতে কাজ করছেন ফেরদৌস। গাঙচিল ছবিতে পূর্ণিমাকে দেখা যাবে একজন এনজিও কর্মী হিসেবে ও ফেরদৌসকে দেখা যাবে সাংবাদিক চরিত্রে। এছাড়া বিভিন্ন স্টেজ শো, করপোরেট অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় নিয়মিত আছেন এ অভিনেত্রী। এবারের কোরবানি ঈদেও তার অভিনীত একটি নাটক দর্শক মহলে বেশ সাড়া জাগিয়েছে।

অভিনয় জগতে তার পথচলা শুরু মাত্র ১৬ বছর বয়সে। ১৯৯৭ সালে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ ছবির মাধ্যমে পূর্ণিমার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। নায়ক ছিলেন রিয়াজ। এ জুটি একসঙ্গে সর্বাধিক ২৫টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। একসময় রিয়াজ- পূর্ণিমা জুটি ছিল খুবই দর্শকনন্দিত।

দীর্ঘ ২৩ বছরের ক্যারিয়ারে অসংখ্য হিট ছবি উপহার দিয়েছেন পূর্ণিমা। তার অভিনীত ছবিগুলোর মধ্যে ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘মেঘের পরে মেঘ’, ‘হূদয়ের কথা’, ‘সুভা’, ‘আকাশছোঁয়া ভালোবাসা’, ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’, ‘পিতা-মাতার আমানত’, ‘কে আমি’, ‘পরান যায় জ্বলিয়া রে’, ‘মাটির ঠিকানা’ উল্লেখযোগ্য।

এর মধ্যে ২০১০ সালে কাজী হায়াত পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ ছবিটির জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে পূর্ণিমা তার ক্যারিয়ারের প্রথম ও একমাত্র ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ লাভ করেন। এই ছবির নায়ক ছিলেন পরিচালকের ছেলে অভিনেতা কাজী মারুফ। এছাড়া শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে তিনি একাধিকবার ‘মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার’ পেয়েছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে ২০০৭ সালের ৪ নভেম্বর পারিবারিকভাবে আহমেদ জামাল ফাহাদকে বিয়ে করেন পূর্ণিমা। ২০১৪ সালের ১৩ এপ্রিল তিনি কন্যাসন্তানের মা হন। পূর্ণিমার মেয়ের নাম আরশিয়া উমাইজা। কাজের ব্যস্ততার পাশাপাশি বর্তমানে স্বামী ফাহাদ ও মেয়ে আরশিয়াকে নিয়েই কাটে নায়িকার দিন ও রাত। এই প্রজন্মের কাছেও পূর্ণিমা সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল জনপ্রিয়।

একজন শিল্পী হিসেবে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা তার অভিনয় জীবনের শুরুতেই নানা ধরনের সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কাজে নিজেকে জড়িয়েছেন। নিজের পেশাগত কাজ অভিনয়ের পাশাপাশি দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য এ ধরনের কাজ করে থাকেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads