• বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬
ads

ঢালিউড

নভেম্বরে মুক্তি পাচ্ছে ৪টি ছবি

  • বিনোদন প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৩ অক্টোবর ২০১৯

দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পের অবস্থা তেমন একটা ভালো নয়। এখন ঢালিউডে মানসম্মত ছবিও হচ্ছে কম। তাছাড়া অনেক ছবিই আগের মতো দর্শক টানতে পারছে না। পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ছবি নির্মাণ হচ্ছে না দীর্ঘদিন। চলতি বছর রোজার ঈদে মুক্তি পাওয়া একমাত্র ‘পাসওয়ার্ড’ ছাড়া কোনো ছবিই সাফল্যের মুখ দেখেনি। এমনকি ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া ছবিগুলোও আশানুরূপ ব্যবসা করতে পারেনি। ঈদের পর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নিয়ে সবার অনেক প্রত্যাশা থাকলেও তা ব্যর্থ হয়েছে।

এদিকে এরকম অবস্থায় আগামী মাসে মুক্তি পাচ্ছে চারটি নতুন ছবি। এ নিয়ে মুখর হয়ে উঠেছে সিনেমাপাড়া। আগামী নভেম্বরে চারটি ছবি মুক্তি নিয়ে কথা চলছে। ছবি চারটি হলো- ‘ইতি তোমারই ঢাকা’, ‘পদ্মার প্রেম’, ‘পদ্মাপুরাণ’ ও ‘বাংলাশিয়া ২.০’। এরই মধ্যে সেন্সর ছাড়পত্রও পেয়েছে ছবিগুলো।

জানা গেছে, ১ নভেম্বর মুক্তি পাচ্ছে ‘পদ্মার প্রেম’। সত্তর দশকের পদ্মার পাড় ঘেঁষা একটি গ্রামের মানুষদের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘পদ্মার প্রেম’। এতে গ্রামের চঞ্চল এক তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়িকা আইরিন সুলতানা। সিনেমাটিতে নদীর নামের সঙ্গে মিল রেখে বাবা-মা তার নাম রেখেছেন পদ্মা। আইরিন বলেন, ‘কলকাতায় মুক্তির পর সিনেমাটি নিয়ে বেশ সাড়া পেয়েছি। অনেকে প্রশংসা করেছেন। এবার আমার নিজ দেশে ১ নভেম্বর ‘পদ্মার প্রেম’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে। দেশের মানুষের যদি সিনেমাটি ভালো লাগে, তাহলেই আমি তৃপ্তি পাব।’

হারুন-উজ-জামান পরিচালিত সিনেমাটি একসঙ্গে বাংলা, ওড়িষা ও ভোজপুরি ভাষায় নির্মিত হয়েছে। চলতি বছর ২০ সেপ্টেম্বর ‘পদ্মার ভালোবাসা’ নামে সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে কলকাতায়। এ ছবিতে আরো অভিনয় করেছেন সুমিত সেনগুপ্ত, সাদেক বাচ্চু, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, আলেকজান্ডার বো, মুনমুনসহ অনেকে।

ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ছবি ‘ইতি, তোমারই ঢাকা’। বহু প্রতীক্ষার পর নভেম্বরে ছবিটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। সম্প্রতি ছবিটি সেন্সর ছাড়পত্র অর্জন করেছে। ছবিটির গল্পে দেখা যাবে, ঢাকার নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন-যাপন, তাদের সংগ্রাম ও বেঁচে থাকার নিরন্তর যুদ্ধই ছবির পটভূমি। সঙ্গে উঠে এসেছে ঢাকার নিজস্ব সংস্কৃতিও। এর সবকিছুই নিপুণ দক্ষতায় তুলে ধরেছেন ১১ জন তরুণ নির্মাতা। তারা হলেন গোলাম কিবরিয়া ফারুকী, মাহমুদুল ইসলাম, মীর মোকাররম হোসেন, রাহাত রহমান জয়, রবিউল আলম রবি, সৈয়দ সালেহ আহমেদ সোবহান, সৈয়দ আহমেদ শাওকী, আল নূর, তানভীর আহসান, কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় ও নুহাশ হুমায়ূন। এ ছবিতে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা, ইন্তেখাব দিনার, শতাব্দী ওয়াদুদ, ইরেশ যাকের, লুৎফর রহমান জর্জ, ত্রপা মজুমদার, ফজলুর রহমান বাবু, ফারহানা হামিদ, শাহতাজ মনিরা হাশিম, মোস্তাফিজুর নূর ইমরান প্রমুখ। ছবিটি প্রায় ২০টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছে।

একই মাসে মুক্তি পাবে চিত্রনায়ক নিরবের মালয়েশিয়ান ছবি ‘বাংলাশিয়া ২.০’। নিরব জানান, এরই মধ্যে ছবিটির বাংলায় ডাবিং শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমতিও মিলেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আসছে নভেম্বর মাসেই ছবিটি মুক্তি পাবে। ২০১৪ সালে মালয়েশিয়ায় ‘বাংলাশিয়া’ নামে ছবির শুটিং করেন নিরব। পরে চলতি বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘বাংলাশিয়া ২.০’ নামে ছবিটি মালয়েশিয়ায় মুক্তি পায়। প্রথম সপ্তাহে ছবিটি ১১১টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। ছবিতে নিরবের বিপরীতে অভিনয় করেছেন সিঙ্গাপুরের মুসলিম অভিনেত্রী আতিকা সোহাইমি।

রাজশাহীর পদ্মাপাড়ের মানুষের জীবনরীতি বদলে যাওয়ার গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র ‘পদ্মাপুরাণ’। এটি নির্মাণ করেছেন রাশিদ পলাশ। তিনি বলেন, ‘আগামী নভেম্বরে ছবিটি মুক্তি দেওয়ার চিন্তা করছি।’ সিনেমাটি নিয়ে তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মানুষের জীবনযাত্রার ধরন পাল্টে যাচ্ছে। পাল্টে যাচ্ছে প্রকৃতির রূপ-বৈচিত্র্যও। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি’ উপন্যাসে পদ্মার যে রূপ দেওয়া আছে, সেই রূপ এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। আমরা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুবের, মালা, কপিলাদের খোঁজার চেষ্টা করেছি এই সময়ের প্রেক্ষাপটে। সেই চরিত্রগুলো যদি এখনো বেঁচে থাকতেন, তাহলে তাদের অবস্থান কী হতো? পেশাই বা কী হতো তাদের? এসবই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। বলতে পারেন পদ্মাপাড়ের মানুষের জীবনচিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছি ‘পদ্মাপুরাণ’-এ। ইতোমধ্যে ‘পদ্মাপুরাণ’ সিনেমার একটি স্থিরচিত্র প্রকাশিত হয়েছে। সেই স্থিরচিত্রের অন্তঃসত্ত্বা নারীটি সাদিয়া আফরিন মাহি। স্থিরচিত্রটি বেশ প্রশংসিত হয়। এই সিনেমায় কপিলা চরিত্রে দেখা যাবে প্রসূন আজাদকে। শম্পা রেজা অভিনয় করছেন শিখণ্ডী (তৃতীয় লিঙ্গ) সম্প্রদায়ের প্রধানের চরিত্রে। এ ছাড়া আরো আছেন সুমিত সেনগুপ্ত, জয়রাজ, কায়েস চৌধুরী, হেদায়েত নান্নু। এ ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন রায়হান শশী। প্রযোজনা করছে পুণ্য ফিল্মস।

প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ প্রায় আট বছর পর সমিতির কমিটি গঠিত হয়েছে। আমরা কাজ শুরু করেছি। সিনেমা মুক্তির সময় প্রযোজকের বাড়তি খরচের চাপ অনেকটাই কমিয়ে এনেছি ইতোমধ্যে। আস্তে আস্তে প্রযোজকদের জন্য আরো সুযোগ-সুবিধা তৈরি হবে। এক মাসে চারটি ছবি মুক্তি পাওয়া সিনেমার জন্য ইতিবাচক। এখন আমাদের সিনেমা ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads